ব্যাংকে নগদ টাকার সংকটযথাযথ পদক্ষেপ নিনএকটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে ব্যাংকব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন সময়েই ব্যাংকের অনিয়ম থেকে শুরম্ন করে নানা ধরনের সংকটের বিষয় সামনে আসে, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। আমরা মনে করি, সংশিস্নষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বাস্ত্মবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। মনে রাখা দরকার, ব্যাংকে যদি নগদ টাকা না থাকে তবে তা সুখকর নয়। কেননা গ্রাহকের প্রয়োজনে টাকা দেবে ব্যাংক, এমনটি স্বাভাবিক। কিন্তু যদি ব্যাংকেই টাকা না থাকে, তবে প্রশ্ন আসে গ্রাহক যাবে কোথায়? সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, গ্রাহক বলতে বিশেষত শিল্পোদ্যোক্তারা আর আগের মতো ব্যাংকের ঋণ পাবেন না। কারণ, ব্যাংক নিজেই টাকার পেছনে ছুটছে! এমন তথ্যও উঠে এসেছে যে, তারল্য সংকটের কারণে ব্যক্তির পুঁজির দিকেই আকৃষ্ট হয়ে নানাজনের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের টার্গেট বেঁধে দেয়া হয়েছে। অফার করা হচ্ছে বাড়তি সুদও। এমনকি ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন আতঙ্ক মধ্যম সারির কর্মকর্তাদেরও।
আমরা মনে করি, যত দ্রম্নত সম্ভব সৃষ্ট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের এমন অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও মন্ত্মব্য করেছেন কোনো কোনো ব্যাংকার। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অতিমাত্রায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। নিয়ম না মেনেও কোনো কোনো ব্যাংক বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছে- যা গোটা ব্যাংকিং খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। আমরা বলতে চাই, ব্যাংকিং খাতে যে কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হলে তা নেতিবাচক বিষয়কেই সামনে আনে। এবারেও যখন এমন বিষয় উঠে এসেছে, নিয়ম না মেনে কোনো কোনো ব্যাংক বিপুল অঙ্কের ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকিং খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে- তখন তা আমলে নেয়া সমীচীন। আমরা মনে করি, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম রোধ করতে না পারলে তা আশঙ্কাজনক বাস্ত্মবতাকেই স্পষ্ট করবে, যা কাম্য নয়।
প্রসঙ্গত উলেস্নখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছর আমানতের তুলনায় দেড়গুণের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো যা নগদ টাকার সংকট বাড়িয়েছে। জানা যায়, এ সময়ে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। এটাও বলা দরকার, সর্বশেষ মুদ্রানীতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণের লাগাম টেনে ধরে বলে জানা যায়। ফলে, ব্যাংকগুলো বাধ্যবাধকতার কারণেই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনছে। আবার অনেক ব্যাংকই পর্যাপ্ত আমানত সংকটে ঋণের জোগান দিতে পারছে না। এমতাবস্থায় ওসব ব্যাংক বেশি হারে আমানত সংগ্রহে বেরিয়েছে। কেননা আমানত বাড়াতে না পারলে ঋণ দিতে পারবে না, যা ব্যাংকের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত্ম করবে। আমরা বলতে চাই, যখন এমনটিও জানা যাচ্ছে যে, সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় এসব ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে- তখন বিষয়টি উৎকণ্ঠার। সরকারের করের টাকাও ঠিকমতো পরিশোধ করতে সক্ষম না হওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি থাকে, তাই আমানতকারীদের ভয়ের কারণ নেই। কিন্তু আমলে নেয়া জরম্নরি, শিল্পোদ্যোক্তারা উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা শিল্পের জন্য অনুকূল নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, শিল্পের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি না থাকলে তা দুঃখজনক। উদ্যোক্তারাও বলছেন, যেখানে ব্যাংকগুলোই অর্থ সংকটে রয়েছে সেখানে শিল্পবিকাশে তারা ঋণ জোগাবে কীভাবে?
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, সামগ্রিকভাবে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা আমলে নিতে হবে এবং নগদ টাকার সংকট থেকে শুরম্ন করে ব্যাংকিং খাতের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্যাংকিং খাতের বিরূপ প্রভাব যেমন উদ্বেগের কারণ, তেমনিভাবে ঋণ না পাওয়ায় যদি শিল্পবিকাশ বাধাগ্রস্ত্ম হয় তবে তা ইতিবাচক হবে না। সঙ্গত কারণেই সৃষ্ট পরিস্থিতি নিরসনে যত দ্রম্নত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত হবে এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close