প্রবাসে নারীর ঈদঈদ মানেই তো হাসি, আনন্দ ও উলস্নাস। এই কথা সবাই মানলেও প্রবাসীদের জীবনে এর বাস্ত্মবতা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রবাসীদের ঈদটা একটু অন্য রকম। প্রবাসে অনেকেই আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটা অত্যন্ত্ম কষ্টের। মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ। এই ঈদকে নিয়ে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন আশা আকাঙ্ক্ষা আর প্রস্তুতির কমতি থাকে না। ঈদ আসার আগেই সবাই ঈদের বহুমাত্রিক আনন্দকে ভাগ করে নিতে প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু প্রবাসীরা...? প্রবাসে সবই আছে। নেই লাল-সবুজের সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলের অপরূপ বাংলাদেশ। ঈদ আছে। নেই ঈদের আনন্দ। প্রতিবেশীও আছে। নেই মনের মতন প্রতিবেশী। এই খ- খ- হৃদয়ের চাওয়াগুলো প্রবাসের এত চাকচিক্যের মাঝে মন ভরে না। ফিরে যেতে মন চায় মাটির টানে স্বদেশের আঙিনায়। প্রবাসে বসবাস করা কয়েকজন নারীর ঈদ অনুভূতি নিয়ে লিখেছেন- রম্নমান হাফিজদেশের মতো ঈদের নামাজের পর এবাড়ি ওবাড়ি যাই
নুসরাত হক
এরিজোনা স্টেট, ইউএসএ (আমেরিকা)
প্রবাসে আমাদের ঈদ আর দেশের ঈদের মাঝে অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে। যেমন : ঈদের আমেজটা দেশে মূলত ঈদের শপিংয়ে নিহিত। আর প্রবাসে তা মসজিদে বা ঈদগাহে নামাজে যাবার মাঝে সীমিত। তবে দু'রকমের প্রবাসী আছেন : একদল যারা শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে প্রবাসে বসবাস করছেন কিন্তু তাদের পরিবার পরিজন দেশে বাস করেন। এরা খুব একাকী ও নিঃসঙ্গ বোধ করেন। অনেকেই ঈদের দিন ছুটি না নিয়ে কাজ করেন অন্যান্য কর্মদিবসের মতোই এবং পরে বাসায় এসে লম্বা ঘুম দেন। অনেকে ছুটি নেন, নামাজ পড়েন এবং বন্ধু-বান্ধবের বাসায় পার্টি করতে চলে যান। এদের কেউ কেউ বউ ও সন্ত্মানদের রাখার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাদের ঈদ আরেকটু ভালো কাটে। তারা নিজেরা ঘরে রান্না করেন ভালো ভালো খাবার অথবা বন্ধুবান্ধব দাওয়াত দেন বা দাওয়াত খান। আরেক দল প্রবাসী যারা প্রবাসেই স্থায়ীভাবে সেটেল। তাদের কাছে প্রবাসই নিজের দেশ। এরা প্রচুর আনন্দ ফুর্তি করে বিশেষ করে যাদের বড় বন্ধু সার্কেল রয়েছে, তারা দেশের মতো ঈদের নামাজের পর থেকেই এবাড়ি ওবাড়ি হানা দেয়। কিন্তু একটাই তফাৎ- প্রবাসে কেউ আগে থেকে যেতে না বললে তার বাসায় কেউ যায় না। কারণ অনেকেরই কাজ থাকার কারণে ঈদের রান্না ও আয়োজন করতে পারে না। যেসব স্টেটে ইন্ডিয়ান ও বাংলাদেশি ড্রেস ও পাঞ্জাবি পাওয়া যায় সেখানের ঈদের শপিং ও ভালো জমে। আমার বেলায়ও সেইম!

দেশের বর্ণিল ঈদের
ছবি এখানে স্বপ্নেও
ধরা দেয় না
রম্নবা তানজিদা
রেডব্রিজ, লন্ডন
আনন্দ ঈদ মানে, প্রবাসে ঈদে স্বদেশের ঈদের মতো তেমন আমেজ মিলে না স্বদেশের মাটিতে ঈদে হাজারও রকম কেনা কেটার ব্যস্ত্মতা থাকলেও প্রবাসে প্রবাসীদের মধ্যে এরকম কোনো ব্যস্ত্মতাই নেই তারপরে ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে ঈদ পালন করে থাকি। প্রতি বছর এই ঈদকে ঘিরে সবার থাকে অনেক পরিকল্পনা, থাকে অনেক আয়োজন। ঈদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা, ঈদের দিনে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা, বাড়িতে এবং মামার বাড়িতে বড়দের ঈদ সালাম করা ও কারো কারো কাছ থেকে ঈদের সালামি নেয়া, রান্না করা সুস্বাদু খাবার খাওয়া, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ইচ্ছে ও স্বাধীন কোনো গন্ত্মব্যে ঘুরে বেড়ানো এবং রাতে টিভি সেটের সামনে বসে ঈদের জমজমাট অনুষ্ঠান উপভোগ করা ইত্যাদি। এ সবই ছিল আমার ঈদের দিনের একটি নিয়মিত রম্নটিন। দেশের ওই বর্ণিল ঈদের ছবি এখানে স্বপ্নেও ধরা দেয় না। এখানে ঈদ আসে নীরবে, কোনো আগমনী বার্তা ছাড়াই। ঈদের দিন কাটে অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই!

ভীষণ মিস করি প্রিয় জন্মভূমিকে
ডা. ওরাকাতুল জান্নাত
ম্যানিলা, ফিলিপিন
পড়াশোনার সুবাদে গত তিন বছরে একটি ঈদও দেশে করা হয়ে ওঠেনি। ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলায় থাকা হয়। যেখানে মুসলিমরা মাইনোরিটি। তাই ওখানে ঈদের আমেজ বোঝাই যায় না বললে চলে।
রোজার ঈদ বলতে সকালে উঠি। নামাজ কালাম পড়ে একটু গুছিয়ে নেই। তারপরে বাইরে কোথায় নাস্ত্মা করা। আশপাশে বাঙালিরা কেউ না থাকায় কারও বাসায় বেড়াতেও যাওয়া হয় না।
তবে আমার বাসা থেকে কিছু দূরে একটি মুসলিম এতিমখানা আছে, ঈদের দিনে তাদের নিয়ে দুপুরে খাবার খাই, বিকেল বেলা ঘুরতে নিয়ে যাই।
ছোট ছোট বাচ্চাদের হাসিমুখ প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ঠ হয়তো সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু রাতের বেলা ঘরে ফেরার পর থেকে নিঃসঙ্গ একাকীত্ব গ্রাস করতে থাকে। কেন জানি মনটা দেশে পড়ে থাকে, ভীষণ মিস করি প্রিয় জন্মভূমিকে। বিশেষ করে ঈদের আনন্দটাকে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close