পূর্ববর্তী সংবাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়দৃঢ় হোক বন্ধনরম্নমি নোমান ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় রোজার মাসভর প্রতিদিনই মুখরিত থাকে ইফতার আয়োজনের এমন দৃশ্যেসূর্য যখন একটু পশ্চিম দিকে হেলে পড়ে, পশ্চিম আকাশটা যখন আরেকটু রঙিন হয়, আছরের নামাজ শেষে দলে দলে এসে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট মাঠে। শুধু ক্রিকেট মাঠেই নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর, মুক্তবাংলা, শহীদ মিনার, টিএসসির ক্যাফেটোরিয়া, করিডোর, জিমনেসিয়াম, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, ফুটবল মাঠসহ ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় রোজার মাসভর প্রতিদিনই মুখরিত থাকে ইফতার আয়োজনের এই দৃশ্যে। ক্যাম্পাসে ইফতারের এই রীতি কেবল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েই দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই এই চিত্র কমবেশি একই রকম।
রমজান ও গ্রীষ্মকালীন দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ির পানে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু যাদের খ-কালীন চাকরি, রাজনীতি, টিউশনি ও পরীক্ষা আছে তারা এক প্রকার নিরম্নপায় হয়ে এখনো ক্যাম্পাসে রয়েছেন। দীর্ঘ দেড় মাসের ছুটিতে ক্যাম্পাস কেমন যেন ফাঁকা হয়ে পড়েছে। কিন্তু বেলা গড়িয়ে ইফতারের সময় আসলে ক্যাম্পাস বন্ধ বলে মনে হয় না। ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে যেন উৎসবের চাদরে ঢেকে যায় পুরো ক্যাম্পাস।
সাধারণত সেহরি হলের ডাইনিংয়ে হলেও ইফতারের সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য একটু বৈচিত্র্যময় হয়। যেমনটা বলছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াহেদ আলী, 'কখনো হলের রম্নমে, কখনো সেন্ট্রাল মাঠে আবার কখনো শহীদ মিনারের পাদদেশে বসে ইফতার করি আমরা বন্ধুরা। পুরো রমজান মাসজুড়ে যতদিন ক্যাম্পাস খোলা থাকে এভাবে ইফতার চলতে থাকে।'
শুধু বন্ধুরা নয়- বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের পক্ষ থেকে ইফতারের আয়োজন তো আছেই। যেমন, ২ রমজান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প সংশিস্নষ্ট সৃজনশীল সংগঠন 'বুনন' আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমধর্মী ইফতারের। ক্যাম্পাস থেকে অদূরে কুষ্টিয়ার সাদ্দাম বাজারের এক বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় মায়েদের সঙ্গে ইফতার করে সংগঠনটির সদস্যরা। ৭ম রোজায় আইন বিভাগের, ১০ম রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা আবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সামাজিক সংগঠন 'তারম্নণ্য' ১২ রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও পথশিশুদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন করে। এভাবে পুরো রমজান মাসেই একের পর এক ইফতার আয়োজন চলতেই থাকে। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে 'বুনন' সভাপতি অহিনা দীপ্তি ও 'তারম্নণ্যে'র আরমান রেজা বলেন, 'আমরা সমাজের ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণার্থে কিছু করতে চাই। তারা যেন নিজেদের অসহায় না মনে করে এবং সমাজের মূলধারায় ফিরে আসতে পারে এজন্য তাদের সাহায্য করতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।'
হলে কিংবা ক্যাম্পাসে যেখানেই ইফতার আয়োজন হোক না কেন, ইফতারির খাবার-দাবার কিন্তু আহামরি কিছু নয়। ছোলা, মুড়ি, চপ, বেগুনি, বুন্দিয়া, জিলাপি, খেজুর, শরবত প্রভৃতি গতানুগতিক খাবারই থাকে বেশির ভাগ সময়েই। কিন্তু বন্ধু বা পরিচিতজনদের সঙ্গে আড্ডায় আড্ডায় এসব খাবারই যেন অমৃত মনে হয়।
তবে ক্যাম্পাসের ইফতারের মূল বৈচিত্র্য হলো এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একত্রে ইফতার করে। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে পড়তে আসে দেশের তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে। দেশের সব ধরনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও লক্ষ্য করা যায় এখানে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীরাও মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেন নিত্যদিনের এ ইফতার আয়োজনে। এসব ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হয় বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিপস্নব তির্কী প্রিন্স ও আরেক শিক্ষার্থী বিকাশ চন্দ্র। তারা বলেন, 'ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে আমরা সর্বজনীন দিক থেকে দেখি। কারণ প্রতিটি ধর্মই শান্ত্মির কথা বলে। তাই রমজানে ধর্মের ভেদাভেদ না করে ইফতার, আড্ডা আর গল্প একটি আন্ত্মঃধর্মীয় বলয় তৈরি করে এবং আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও দৃঢ় করে।'
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close