আইটি সেক্টরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎশামা ওবায়েদ বিপুল সম্ভাবনার উন্মুক্ত দুয়ার এখন বাংলাদেশের সমানে। যদিও ১৯৭১ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত্ম বাংলাদেশকে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়েছে। এখনো এখানে গণতন্ত্রচর্চার অভাব, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো নেতিবাচক প্রবণতার উপস্থিতি রয়েছে। তা সত্ত্ব্বেও বাংলাদেশ ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। মূলত দৃঢ়প্রত্যয়ী, পরিশ্রমী ও কর্মক্ষম তরম্নণ জনগোষ্ঠীই এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এ ছাড়া অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে বেসরকারি খাত। আমরা তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি সেক্টর), ওষুধ শিল্প (ফার্মাসিউটিক্যালস), মৃৎশিল্পে (সিরামিক্স) সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। সোনালি আঁশ খ্যাত পাট ও নতুন খাত হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এখন প্রত্যাশিত আরও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। একুশ শতকে সারা বিশ্বের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে এই আইসিটির নাটকীয় ঢেউ আমরা লক্ষ্য করেছি।
বর্তমানে, আমরা এমন একটি পৃথিবীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেটা সম্পূর্ণভাবে আইসিটি-নির্ভর। হার্ডওয়্যার, সফ্‌টওয়্যার, নেটওয়ার্ক ও মিডিয়ার মাধ্যমে গঠিত এই আইসিটি মূলত বাচনিক উপায়ে, উপাত্ত, বিষয়বস্তু ও ছবির মাধ্যমে তথ্য আকারে মানুষের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এসব যন্ত্রাংশ ও কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলোর পরিসর টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন থেকে ইন্টারনেট পর্যন্ত্ম বিস্ত্মৃত।
আইসিটির কল্যাণে এই বিশ্ব গোলক এখন সমতল ভূমি (ফ্ল্যাট)। অন্ত্মত গত ৫০ বছরের বিশ্ব ইতিহাস তাইই বলছে। প্রযুক্তির দিক দিয়ে বিশ্বে এত দ্রম্নত পরিবর্তন এসেছে যে, বিশ্বব্যাপী আইটির বিপুল চাহিদা-ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনে আইসিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। কৌশলগত ত্রম্নটির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ব্যবস্থা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধার পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। দেশগুলোতে ক্ষুধা, অপুষ্টি, নিরক্ষরতা, নারী-শিশু-বৃদ্ধ-প্রতিবন্ধীদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে আইসিটিকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়। তবে এই দেশগুলোতে আইসিটির পূর্ণ সুফল পেতে জরম্নরি পদক্ষেপ হলো আইসিটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া।
আউটসোর্সিং নামক প্রপঞ্চের আলোকে এটা বলা যেতে পারে, আইসিটি সেক্টরে বাংলাদেশের কিভাবে এগোনো যায়, এর মনোনিবেশ করা উচিত। কারণ, আইসিটি সেক্টরে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী থাকায় চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর চেয়ে আউটসোর্সিং অপশনে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বেশি রয়েছে। উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে আইসিটির রপ্তানি-সংক্রান্ত্ম পণ্য; বিশেষ করে সফ্‌টওয়্যার তৈরিতে।
তবে এই শিল্পে বেশ সমস্যা জড়িত। এখানে রয়েছে আইসিটি সংখ্যার অপর্যাপ্ততা। বিভিন্ন কার্যালয় ও সেক্টরে কম্পিউটারাইজেশনের গতি এখনো নিম্নমুখী। রয়েছে সাইবার আইনের অনুপস্থিতি। বিদু্যৎ বিভ্রাট এবং নিয়মিত লোডশেডিং তো নিত্যসঙ্গী। অর্থাৎ, নতুন উপকরণ হিসেবে আইসিটিকে আকর্ষণীয় করে তোলা, বর্তমান-ভবিষ্যৎ কর্মীদের এ বিষয়ে শেখানো এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। তাই এই সেক্টরে কার্যকর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন কার্যকর নীতিমালা।
সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে আইসিটি সেক্টরের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় আইসিটি নীতি অনুমোদন করে। ২০০৬ সালের মধ্যে আইসিটিভিত্তিক জাতি গঠনের মধ্য দিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করাই হলো এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে দেশব্যাপী আইসিটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরম্নরি। যাতে করে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া এই অনুশীলনের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ই-কমার্স, ব্যাংকিং, পাবলিক ইউটিলিটি সার্ভিস এবং সব ধরনের আইসিটিভিত্তিক সেবার মাধ্যমে নাগরিকের ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশে অবকাঠামো সমস্যার কারণে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিশেষজ্ঞ তৈরিতে রয়েছে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ফার্ম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই অবস্থা। সেখানে দক্ষ, চৌকষ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও আইটি পাঠ্যক্রমের অভার রয়েছে। রয়েছে ই-গভর্নেন্স নীতির অভাব। অথচ আইটি ক্ষেত্রে সঠিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাই পারে চৌকষ আইটি প্রশিক্ষক এবং শিক্ষক তৈরি করতে। সমস্যাপূর্ণ অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের রয়েছে আশার আলো। কারণ, একটি বিশাল সংখ্যক যুবসমাজ আইসিটি খাতে এখন আগ্রহী এবং একে একটি লোভনীয় পেশা হিসেবে নিতে কাজ করছেন তারা।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করার অনেক সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের আইসিটি পেশাজীবীদের। এ ছাড়া প্রতিবছর বাংলাদেশে বেসরকারি-সরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই প্রায় চার হাজার ২০০ জন আইসিটি স্নাতক ডিগ্রিধারী বের হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার মাঝারি মানের কারণে আন্ত্মর্জাতিক চাকরি বাজার এবং অ্যাকাডেমিয়ার (গবেষণা, শিক্ষা ও বৃত্তি প্রদানের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট গোষ্ঠী) মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। আর তাই কর্মদক্ষ আইসিটি কর্মী গড়ে তুলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন বাংলাদেশে জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে হঁ্যা, অবশ্যই এটি কোনো অসম্ভব কাজ নয়। এ জন্য প্রধান ও প্রথম কাজই হলো এর অবকাঠামোগত উৎকর্ষতা বাড়ানো। যাতে এই সমস্যাগুলো রূপ নেয় সম্ভাবনায়।
আমরা বৃহত্তর বেকার যুবক শ্রেণিকে সফ্‌টওয়্যার ও আইসিটি-সংক্রান্ত্ম সেবাগুলোর ব্যাপারে যথাযথ শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে জনশক্তিতে পরিণত করে আইসিটির সুবিধা নিতে পারি। তবে মনে রাখতে হবে, সফ্‌টওয়্যার রপ্তানিতে টেকসই সাফল্য আনার পূর্ব শর্ত হলো একটি ক্রিয়াশীল ও ভালো মানের স্থানীয় সফটওয়্যার শিল্প। এর জন্য বিশেষত ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় আইসিটি মার্কেটের পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে এবং একই সঙ্গে এর প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এই সুবিধাগুলোকে পুঁজি করে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করতে পারে।
শামা ওবায়েদ
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল (বিত্রনপি)
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close