বিদু্যৎ ও জ্বালানিতে জরম্নরি কৌশলগত অবস্থান২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন সর্বসাকুল্যে দেশের বিদু্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। সেখানে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদনের খবর নিশ্চয়ই কম নয়। বিদু্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও এখন অনেক ভালো। লোডশেডিং নেই বললেই চলে। নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদু্যৎ সুবিধার আওতায়। বলাই যায়, বিদু্যৎ খাত এখন সরকারের জন্য একটি গৌরবের খাত।রনি রেজা বর্তমান আধুনিক বিশ্ব যে কয়টি বিষয়ের ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে বিদু্যৎ ও জ্বালানি অন্যতম। প্রযুক্তির পরই এ বিষয় দুটিকে গুরম্নত্বের সঙ্গে দেখা হয়। একটু এগিয়ে বলাই যায়- প্রযুক্তি, বিদু্যৎ ও জ্বালানি ছাড়া কোনো দেশেরই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এ তিনটি বিষয়ও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। প্রযুক্তি ব্যবহারে শক্তির জোগান দেয় বিদু্যৎ। বিদু্যৎ ছাড়া প্রযুক্তি যে পুরোই অচল। তাই যুগের প্রয়োজনে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশকে দ্রম্নত এগিয়ে নিতে হলে বিদু্যতে সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। আবার বিদু্যৎ উৎপাদনেও জ্বালানি অপরিহার্য। স্বাভাবিকভাবেই সামগ্রিক উন্নয়নে যে কোনো দেশকেই বিদু্যৎ ও জ্বালানি বিষয়ে গুরম্নত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশের জন্যও একই সূত্র। বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি গুরম্নত্বপূর্ণ বলা যায়। কারণ, আমাদের দেশের উন্নয়নের যে মূল দুইটি বিষয়; তা হলো- শিল্প ও কৃষি। অনেক দেশে উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নকে অধিক গুরম্নত্ব দিলেও আমাদের মতো ছোট কিন্তু বহুল জনসংখ্যার দেশগুলোর জন্য কৃষি ও শিল্প-দুটি ক্ষেত্রেই সমান মনোযোগ দিতে হবে। আর দুটি ক্ষেত্রই সম্পূর্ণ বিদু্যৎ ও জ্বালানিনির্ভর। তাই মূল্যবান এ সম্পদ দুটির ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কেও সচেতন হওয়া জরম্নরি। জরম্নরি ব্যবহারে কৌশলী হওয়াও। বিদু্যতের ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা প্রশংসনীয়। গত নির্বাচনী ইশতেহারে সরকার দলের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল বিদু্যৎ নিয়ে। সে চ্যালেঞ্জে সফলও হয়েছে অনেকটা। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিদু্যতের উৎপাদন বাড়াতে কুইক রেন্টাল পদ্ধতির পথ বেছে নিয়েছিল সরকার। গত মার্চে এর বিশাল সফলতার খবর জানিয়েছে বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তাদের দেয়া খবর অনুযায়ী, 'দেশে প্রথমবারের মতো বিদু্যতের উৎপাদন ১০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।'
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোট সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন সর্বসাকুল্যে দেশের বিদু্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। সেখানে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদনের খবর নিশ্চয়ই কম নয়। বিদু্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও এখন অনেক ভালো। লোডশেডিং নেই বললেই চলে। নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদু্যৎ সুবিধার আওতায়। বলাই যায়, বিদু্যৎ খাত এখন সরকারের জন্য একটি গৌরবের খাত। প্রধানমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, 'সরকার বিদু্যৎ আমদানির জন্য ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভুটান ও নেপালে উৎপাদন করে সে বিদু্যৎ নিয়ে আসা হবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার পস্নান্টের কাজ শুরম্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার সৌরবিদু্যৎ, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে ২০২১ সালের মধ্যে বিদু্যৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এরইমধ্যে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নেয়া পায়রা কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদু্যৎকেন্দ্রের কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। বিদু্যৎবিষয়ক আরেকটি সু-সংবাদ হচ্ছে, 'নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম বর্জ্যভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত্ম গৃহীত হয়েছে। এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প বাস্ত্মবায়নে ১০ একর জমি বরাদ্দের অনুমতি দিয়েছেন বলেও খবর প্রকাশ হয়েছে। বিদু্যৎ বিভাগ বলছে, দেশের অন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করলেও নারায়ণগঞ্জ প্রথম সবুজ নগরের তালিকায় নিজেদের নাম লেখাল। এতে শহরে পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিদু্যৎ চাহিদা পূরণ হবে। সরকারের বিদু্যৎ খাতে সফলতার আরেকটি কৌশল হতে পারে সৌরবিদু্যৎ। সূর্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় যে পরিমাণ সৌরশক্তি ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়, তা দিয়ে পৃথিবীর এক বছরের শক্তি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ বিপুল পরিমাণ শক্তির সামান্য অংশও যদি আমরা রূপান্ত্মরের মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজে লাগাতে পারি, তাহলে জ্বালানি সংকট সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পেতে বিশ্বব্যাপী সৌরশক্তির ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলছে। সৌরশক্তির সাহায্যে বৈদু্যতিক গাড়ি ও ইজিবাইক চালানোর প্রযুক্তির প্রসারসহ বিদু্যৎ উৎপাদনে এবং সেচ পাম্পে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশে আমদানি করা তেলের বিকল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। সব মিলিয়ে বিদু্যতে সরকার বেশ কৌশলী অবস্থানেই রয়েছে। এবং সফলতাও দৃশ্যত। কিন্তু জ্বালানিতে কিছুটা হলেও পিছিয়ে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি চাহিদা যোগাযোগ, বিদু্যৎ ও কৃষি খাতে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে মোট জ্বালানি তেলের ৪৬ শতাংশ চাহিদা রয়েছে। এরপরই রয়েছে বিদু্যৎ খাত। এ খাতে তেলের ব্যবহার হয় ২৫ শতাংশ। আর কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজন পুরো চাহিদার ১৭ শতাংশ জ্বালানি তেল। দেশে যে পরিমাণ সেচ পাম্প আছে তার প্রায় ৭০ শতাংশই তেলচালিত। ডিজেল বা বৈদু্যতিক পাম্প ব্যবহারে যে খরচ হয় তার এক-চতুর্থাংশে সেচ দেয়া সম্ভব। যদিও সরকার বিদু্যৎ উৎপাদনে জ্বালানি খরচ কমাতে বিকল্প অনেক প্রকল্পই গ্রহণ করেছে। কিন্তু উৎপাদন তো করতে হবে। আবার জ্বালানি সাশ্রয়ও জরম্নরি। জ্বালানির ক্ষেত্রে সরকারের তৎপরতা রয়েছে আগে থেকেই। প্রধান বাণিজ্যিক জ্বালানি প্রাকৃতিক গ্যাসের দেশীয় মজুত দ্রম্নত সময়ের মধ্যে সংকুচিত হওয়ার কারণে আমদানি করা তেল, তরল গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লা দিয়ে জ্বালানির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি এর বড় একটি ফলও প্রত্যক্ষ হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিবাহী প্রথম জাহাজ 'এক্সিলেন্স' এসে পৌঁছেছে। ২৭৭ মিটার লম্বা, ৪৪ মিটার প্রস্থ ও ১২ দশমিক ৫ ড্রাফটের এ জাহাজটিই সম্ভবত বাংলাদেশের কোনো বন্দরে প্রবেশকারী সর্ববৃহৎ নৌযান। ভেসেলটি আমাদের জন্য এলএনজি নিয়ে এসেছে কাতার থেকে। এখন তা ব্যবহার হবে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) হিসেবে। এর অভ্যন্ত্মরস্থ এলএনজি প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্ত্মর হবে সামুদ্রিক পানির স্বাভাবিক উষ্ণতায়। আন্ত্মর্জাতিক বাজার থেকে পেট্রোবাংলাকে খানিকটা চড়া দামেই কিনতে হয়েছে এ এলএনজি। তাও আবার বাকিতে। জাহাজটির ভাড়া গুনতে হবে আগামী ১৫ বছর। তারপর বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় আসবে এটি। দেশের প্রয়োজনে, উন্নয়নের প্রয়োজনে এমন সাহসী উদ্যোগ নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবি রাখে। একইসঙ্গে ভাবার বিষয়, এভাবে চড়া দামে একইসঙ্গে বাকিতে ক্রয়ের বিকল্প কি কোনো কৌশল ছিল না? মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান মিলছে। হোক ছোট। ভালোভাবে সন্ধান চালালে বড় ক্ষেত্রগুলোও পাওয়া সম্ভব বলে মনে করি। কিন্তু মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং সংকট মোকাবেলায় গ্যাস অনুসন্ধান গুরম্নত্ব পাচ্ছে না। প্রায়ই খবর পাওয়া যায়, শিল্প ও আবাসিক গ্রাহককে চরম গ্যাস সংকটে রাখা হচ্ছে। বিদু্যৎ উৎপাদনে গ্যাসবণ্টন চরম বৈষম্যের শিকার। পরিবহন খাতে সিএনজি রেশনিং বাড়ছে। গ্যাস চুরি ও ঘুষ-দুর্নীতি বাড়ছে। এলপিজি ও এলএনজির বাজার সম্প্রসারণ এবং মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ এসব কৌশল গ্রহণ করেছে বলেও অভিযোগ শোনা যায়। সর্বশেষ পরিবহনে এলপিজির মূল্যহার ৫০ টাকা করা হয়েছে। এলপিজি যেন সিএনজির বাজার দখলে নিতে পারে, সেজন্য সিএনজির দাম ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ টাকা করা হচ্ছে। মূল্যহার যত বাড়ে, সংকটও বাড়ে; গ্যাস চুরি, ঘুষ-দুর্নীতি ও গ্যাসবণ্টন বৈষম্য তত বাড়ে। হিসাবে দেখা যায়, পরিবহনের প্রায় ৬০ শতাংশ চলে সিএনজিতে। এ সিএনজির পরিমাণ মোট গ্যাসের ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। তা থেকে শিল্প খাতে ব্যবহার হয় প্রায় ১ শতাংশ (চুরি)। ব্যক্তি পরিবহনে ১ শতাংশ। গণপরিবহনে ৩ শতাংশের মতো। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব হ্রাস রোধে সিএনজি সরবরাহ কমানো ও মূল্য বাড়ানো সঠিক নয়। সরকার গ্যাস খাত থেকে যে রাজস্ব পায়, তার প্রায় ২৫ শতাংশ আসে সিএনজি থেকে। বলা হয়, প্রায় ৩৫ লাখ চুলায় গ্যাস ব্যবহার হয় মোট গ্যাসের ১৬ শতাংশ। প্রতি চুলায় মাসে ৯৩ ইউনিট গ্যাস ব্যবহার হয়। এ হিসাবে গ্যাসের মাসিক বিল ৮০০ টাকা। বাস্ত্মবে প্রতি চুলায় কমবেশি ২০ ইউনিট গ্যাস ব্যবহার হয়। বাদবাকি প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্যাস থেকে গ্রাহক বঞ্চিত হন। অর্থাৎ চুরি হয়। চুরির হিসাবটা যখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তখন যে কোনো নাগরিকেরই চাওয়া থাকে- চড়া দামে বাকিতে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি না করে চুরি বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হোক। এ ছাড়া শিল্প কারখানাগুলোতেও অপ্রয়োজনে অধিক গ্যাস ব্যবহারে নীতি প্রণয়ন করা যেতে পারে। আর যে কোনো সম্পদ রক্ষায় সরকারের চেয়ে সাধারণ জনগণের ভূমিকা কম গুরম্নত্ব নয়। আমাদের দেশে গ্যাসের অপচয় নতুন আলোচনার নয়। গেল বছর ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ইউএনবি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, 'ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি দুর্গন্ধ ও জীবাণুমুক্ত করতে প্রতিদিন পানি ফুটানোর কাজে দৈনিক গড়ে ৫৮ কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার করে ঢাকাবাসী। আবার একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি বাঁচানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা চুলা জ্বালিয়ে রাখার গল্পও শোনা যায়। এ জায়গা থেকে জনগণের সচেতনতাই বেশি জরম্নরি বলে মনে করি। এর বাইরে সরকারও জ্বালানির বিকল্প প্রকল্পগুলোতে বেশি মনোযোগী হলে সমস্যা দ্রম্নত সমাধান হবে বলে আশা রাখি। ১৯৯০-এর দশকে আন্ত্মর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পিটার ওডেল ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ২০৪০ সাল পর্যন্ত্ম বিশ্ব সনাতনী জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লার ওপর মূলত নির্ভর করে থাকবে। ২০৬০ থেকে তেল-গ্যাস-কয়লা সনাতনী জ্বালানির সঙ্গে সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতিযোগিতা চরমে পৌঁছাবে এবং ২০৭০ সালের পরই এ প্রতিযোগিতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিজয়ের পথ দেখতে পাবে।
পিটারের বক্তব্য অনুযায়ী অনেক আগে থেকেই ডেনমার্কসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। কিছুদিন আগে ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এন্ডার্স হেসেলার্জ জানিয়েছিলেন, ডেনমার্কে বর্তমানে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির ৩০ শতাংশ জোগান দেয় নবায়নযোগ্য সৌর ও বায়ুশক্তি। আর এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধি ঘটার মাধ্যমে ২০৩০ সালে তা দেশটির মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৫০ শতাংশ জোগান দেবে।
একই অনুষ্ঠানে এন্ডার্স হেসেলার্জ বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, 'যেন নবায়নযোগ্য (সৌর, বায়ু, জৈব) জ্বালানির প্রসারের পথে জোর দেয়া হয়।' আধুনিক এ বিশ্বে তাল মিলিয়ে চলতে পরামর্শটি যথার্থ বলেই মনে করি।

রনি রেজা
প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যমকর্মী
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close