বিদু্যৎ খাত : উন্নয়ন ইতিকথা১৯৪৮ সালে, বিদু্যৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে বিদু্যৎ অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৫৯ সালে পানি ও বিদু্যৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) স্থাপন করার মাধ্যমে বিদু্যৎ খাতের নবদিগন্ত্মের সূচনা হয় এবং বিদু্যৎ খাত একটি কাঠামো লাভ করে। ১৯৬০ সালে, বিদু্যৎ অধিদপ্তরটি ওয়াপদার সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মাত্রা লাভ করে। ওই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকারের বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাপন করা হয় ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্টিম টারবাইন বিদু্যৎ কেন্দ্র।মোহাম্মদ হোসাইন পূর্ব কথা: এ কথা অনস্বীকার্য সভ্যতার উন্নয়নে প্রধান নিয়ামক বিদু্যৎ। ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর তারিখে আহসান মঞ্জিলে জেনারেটরের সহায়তায় বিদু্যৎ সরবরাহের মাধ্যমে এই অঞ্চলে বিদু্যতের যাত্রা শুরম্ন হয়। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায় যে, ১৯৩০ সালে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম বিদু্যৎ বিতরণব্যবস্থা চালু হয় এবং পরে বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ করার লক্ষ্যে 'ধানম-ি পাওয়ার হাউস' স্থাপন করা হয়।

ভারত উপমহাদেশ স্বাধীনতাকালে, ১৯৪৭ এ এ অঞ্চলে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদু্যৎ উৎপাদন ও বিতরণের ব্যবস্থা চালু ছিল। তারপর ১৭টি প্রাদেশিক জেলার শুধু শহরাঞ্চলে সীমিত পরিসরে বিদু্যৎ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ জেলাগুলোয় শুধু রাতের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য বিদু্যৎ সরবরাহ করা হতো। ঢাকায় ১৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদু্যৎ সরবরাহ করা হতো।

১৯৪৮ সালে, বিদু্যৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে বিদু্যৎ অধিদপ্তর স্থাপন করা হয়। ১৯৫৯ সালে পানি ও বিদু্যৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) স্থাপন করার মাধ্যমে বিদু্যৎ খাতের নবদিগন্ত্মের সূচনা হয় এবং বিদু্যৎ খাত একটি কাঠামো লাভ করে। ১৯৬০ সালে, বিদু্যৎ অধিদপ্তরটি ওয়াপদার সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মাত্রা লাভ করে। ওই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকারের বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাপন করা হয় ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্টিম টারবাইন বিদু্যৎ কেন্দ্র। একই সময়ে, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কাপ্তাইয়ে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদু্যৎকেন্দ্র ইউনিট স্থাপন করা হয়, যা ওই সময়ে বৃহৎ বিদু্যৎ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল। ১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন চালু করা হয় যা এই দেশের বিদু্যৎ বিকাশের মাইলফলক।

স্বাধীনতা উত্তরকাল : বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোকিত অধ্যায় হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের আপামর জনগণ পাক-হানাদার বাহিনীর বিরম্নদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সোনার বাংলা বিনির্মাণে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে রচিত মহান সংবিধানের ১৬নং অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপস্নবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদু্যতিকরণের ব্যবস্থা, অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্ত্মর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়। স্বাধীনতার পর প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার ৫৯ (চঙ-৫৯) এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের ৩১ মে ওয়াপদাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বাংলাদেশ বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। ফলে সমগ্র দেশে বিদু্যৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের দায়িত্ব অর্পিত হয় বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওপর। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ পানি ও বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ডদ্বয়ের প্রকৌশলী সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণে বলেন যে, 'বিদু্যৎ ছাড়া কোনো কাজ হয় না, কিন্তু দেশের জনসংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগ লোক যে শহরের অধিবাসী সেখানে বিদু্যৎ সরবরাহের অবস্থা থাকিলেও শতকরা ৮৫ জনের বাসস্থান গ্রামে বিদু্যৎ নাই। গ্রামে গ্রামে বিদু্যৎ সরবরাহ করিতে হইবে। ইহার ফলে গ্রাম বাংলার সর্বক্ষেত্রে উন্নতি হইবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও গ্রামে গ্রামে বিদু্যৎ চালু করিতে পারিলে কয়েক বছরের মধ্যে আর বিদেশ হইতে খাদ্য আমদানি করিতে হইবে না'।
তবে স্বাধীনতা-উত্তরকালে ৭৫ পরবর্তীতে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকা-ের পর স্বাধীনতাবিরোধী সরকার ক্ষমতায় থাকায় বিদু্যৎ খাতের আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে বিদু্যৎ উৎপাদনে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য 'চজওঠঅঞঊ ঝঊঈঞঙজ চঙডঊজ এঊঘঊজঅঞওঙঘ চঙখওঈণ ঙঋ ইঅঘএখঅউঊঝঐ' তৈরি করেন। যার ফলে বর্তমানে বিদু্যৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ ভাগ।
বিদু্যৎ খাত সংস্কার কার্যক্রম :
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনেতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদু্যতের অপরিসীম গুরম্নত্বের বিষয় বিবেচনা করে ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে পলস্নী বিদু্যতায়ন বোর্ড (আরইবি) সৃষ্টি করা হয়। পরে বিদু্যৎ খাত সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিদু্যতের ব্যবহার সুষ্ঠু ও সুনিয়ন্ত্রিত করার জন্য ১৯৯০ সালে বৃহত্তর ঢাকা এলাকার জন্য ঢাকা বিদু্যৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (ডেসা) গঠিত হয় যা পরে ২০০৮ সালে ডিপিডিসি নামে কার্যক্রম শুরম্ন করে। ১৯৯৬ সালে কোম্পানি আইনের অধীনে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) গঠিত হয় এবং সঞ্চালন সিস্টেমের পূর্ণ দায়িত্ব এর ওপর ন্যস্ত্ম হয়। ১৯৯৬ সালে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি (এপিএসসিএল), ১৯৯৭ সালে ডেসকো, ২০০২ সালে বৃহত্তর খুলনা ও বরিশাল বিভাগ নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল বিদু্যৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো), ২০০৪ সালে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি), ২০০৭ সালে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) গঠন করা হয়েছে।
বিদু্যৎ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বাংলাদেশ পলস্নী বিদু্যতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল), ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) লিমিটেড, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকো), রম্নরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) ও কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) বর্তমানে সরকারি খাতে বিদু্যৎ উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। বাংলাদেশ বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) একক ক্রেতা হিসেবে বিদু্যৎ ক্রয় ও বিক্রয়ের এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড এককভাবে বিদু্যৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে নিয়োজিত আছে। অন্যদিকে বিদু্যৎ বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে- বাংলাদেশ বিদু্যৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বাংলাদেশ পলস্নী বিদু্যতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপস্নাই কোম্পানি (ডেসকো) লিমিটেড, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লিমিটেড, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেড। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপস্নাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরম্ন করলেও সাউথ জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (সাজোপাডিকো) এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরম্ন করে নাই। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্ত্মবায়ন, সম্প্রসারণ ও তদারকীকরণের জন্য টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং বিদু্যৎ ও জ্বালানি খাতে গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে নবপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিল (বিইপিআরসি) গঠন করা হয়েছে। বিদু্যৎ বিভাগের আওতায় বৈদু্যতিক উপদেষ্টা ও প্রধান বিদু্যৎ পরিদর্শকের দপ্তর কর্তৃক লাইসেন্স ইসু্য ও জ্বালানি নিরীক্ষণ বিষয়গুলো তদারকি করা হয়। এ ছাড়া পাওয়ার সেল বেসরকারি খাতে বিদু্যৎ উৎপাদন প্রস্ত্মাব (ওহফবঢ়বহফবহঃ চড়বিৎ চৎড়লবপঃং) প্রক্রিয়াকরণ, বিদু্যৎ খাতের পারফরমেন্স মনিটরিং, ট্যারিফ, সংস্কার কার্যক্রম ও বিদু্যৎ খাতের অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে ও নীতি প্রণয়নে বিদু্যৎ বিভাগকে সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।

উন্নয়নের নয় বছর : বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচ বছর পূর্ণ মেয়াদে দেশ পরিচালনার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে আবার নির্বাচিত হওয়ার পর ইতোমধ্যে চার বছর অতিক্রান্ত্ম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী, সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত্ম গ্রহণ ও বাস্ত্মবায়নের ফলে বিদু্যৎ খাতে ৯ বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সরকার বিদু্যৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরম্নত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদান করে বিদু্যৎ উৎপাদনে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্ত্মবায়ন করছে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে জ্বালানি বহুমুখীকরণের জন্য গ্যাসভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি কয়লা, এলএনজি, তরল জ্বালানি, ডুয়েল-ফুয়েল, পরমাণু বিদু্যৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদু্যৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণসহ বিদু্যৎ আমদানির পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়ন করা হচ্ছে।
জানুয়ারি ২০০৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত্ম ৯,৪৭৯ মেগাওয়াট বিদু্যৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদু্যতের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ ১৬,০৪৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে এবং বিদু্যতের সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ হতে ৯০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬২২ সার্কিট কিলোমিটার। একই সময়ে বিতরণ লাইনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার কিলোমিটার, যার মাধ্যমে মোট প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ গ্রাহককে বিদু্যৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিদু্যতের সামগ্রিক সিস্টেম লস ২০০৮-০৯ অর্থ-বছরে ১৬.৮৫ শতাংশ হতে ৪.৬৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১২.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১৬,৬০০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে নির্মাণাধীন ৪,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদু্যৎকেন্দ্র ২০১৮ সালের মধ্যে চালুর জন্য নির্ধারিত আছে।
বর্তমান সরকার গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে এলএনজি (খরয়ঁবভরবফ ঘধঃঁৎধষ এধং) আমদানির মাধ্যমে বিদু্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ এলএনজি আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। পটুয়াখালী জেলার পায়রাতে জার্মানির ঝরবসবহং-এর সঙ্গে যৌথভাবে ৩,৬০০ মেগাওয়াট এলএনজিভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমের আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলো যেমন- ভারত, ভুটান, নেপাল থেকে বিদু্যৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে ভারত থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ আমদানির পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিনিয়োগে রামপালে ১,৩২০ মেগাওয়াট এবং চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে পায়রাবন্দরে ২,৬৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া জাপানের সহযোগিতায় মাতারবাড়িতে ১,২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদু্যৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদু্যৎ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০২১ সালের মধ্যে মোট বিদু্যৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার বিদু্যৎ খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরম্নত্বারোপ করেছে। এ লক্ষ্যে ইধহমষধফবংয চড়বিৎ গধহধমবসবহঃ ওহংঃরঃঁঃব গঠন করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরম্ন করেছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছে। এ সাফল্যের পিছনে বিদু্যৎ খাতের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটর (বিআইডিএস) এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে প্রতি মিলিয়ন কিলো-ওয়াট-আওয়ার বিদু্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় প্রায় ৪৬ মিলিয়ন টাকা থেকে ১০৭ মিলিয়ন টাকা (১৯৯৫/৯৬-এর মূল্যকে স্থির ধরে)। ওই গবেষণা মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে এউচ-তে কুইক রেন্টালের মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদু্যতের অবদান প্রায় ২৩,৩১২ কোটি টাকা থেকে ১২১,১৬৮ কোটি টাকা (২০১১-১২ অর্থবছরের মূল্য বিবেচনায়)। সে মোতাবেক বিগত ৯ বছরে (২০০৮-০৯ থেকে ২০১৬-১৭) পর্যন্ত্ম মোট ৩,৫৭,৯৮২ মিলিয়ন কিলোওয়াট আওয়ার বিদু্যৎ উৎপাদনের ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৮,৩০,৪০৭ কোটি টাকা, যা জাতীয় জিডিপির প্রায় ২২%।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে লক্ষ্যে বাস্ত্মবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪,০০০ মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হবে।
মোহাম্মদ হোসাইন
মহাপরিচালক
পাওয়ার সেল
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
-এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close