জেলা প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ৫ জেলায় বন্যার পদধ্বনিযাযাদি রিপোর্ট অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেখা দিয়েছে বন্যা। ছবিটি বুধবার ফেনী মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে পস্নাবিত হওয়া এলাকা থেকে তোলা -যাযাদিদেশের পাঁচ জেলায় বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জেলাগুলো হলো কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও মৌলভীবাজার। বন্যায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এই পাঁচ জেলা প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক প্রস্ত্মুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে কন্ট্রোল রম্নম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রম্নম থেকে এই জেলাগুলোসহ দেশের সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যাগাযোগ রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রম্নম ইনচার্জ (উপসচিব) আব্দুল কাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে আবদুল কাদের বলেন,
বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলার প্রত্যন্ত্ম-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে সরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের দুই উপজেলা-ফটিকছড়ি ও রাউজানের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাদের বন্যা শেষ না হওয়া পর্যন্ত্ম তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে। রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে নিহতদের সাহাযার্থে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে প্রতি পরিবারকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা অনুদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিতদের সাহাযার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপসচিব জানান, ইতোমধ্যেই জেলাগুলোর বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল-কলেজের রম্নমগুলো বসবাসের উপযোগী করে খোলা রাখার জন্য সংশিস্নষ্টদের বলা হয়েছে।
এ দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ জানান, জানমালের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নানিয়ারচরে যেখানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত্ম দুর্গম এলাকা। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েও আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে সেখানে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে এসেছেন। তবে জেলার সর্বত্র স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। আশা করছেন, আর কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
এদিকে এ বছরও দেশের ৩৭টি জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতি বৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টির ফলে এ সব জেলায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সপ্তাহের পাঁচ দিনই সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্‌ কামাল।
গত ১ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে প্রস্ত্মুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসকের কাছে জরম্নরি বার্তা দেয়া হয়েছে। তাদের বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যার সময় জরম্নরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব জেলার ডিসির ত্রাণ ভা-ারে দুই লাখ টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই দেশব্যাপী ভারী বর্ষণ শুরম্ন হয়েছে। অতি বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। গত বছর পাহাড়ধসে পার্বত্য অঞ্চলে ১৬৬ জন মারা গেছেন। অতি বর্ষণ-ভারী বর্ষণে এ বছরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় জরম্নরি সভা করে যেকোনো পরিস্থিতিতে জরম্নরি করণীয় নির্ধারণ করেছেন। এ বছরের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা স্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে অধিক বৃষ্টিবহুল এলাকার জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অতি বর্ষণ ও ভারী বর্ষণের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টি। আগে বৃষ্টির সঙ্গে মার্বেল সাইজের শিলা বর্ষিত হলেও এ বছর বড় আকারের শিলাও বর্ষিত হয়েছে। এতে টিনের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে মানুষের গায়ে পড়েছে। এতে মানুষ আহত হওয়ার সংবাদও পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে দুর্যোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাত। আবহমান কাল ধরেই বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বর্তমানে বজ্রপাতের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়ছে। বাড়ছে মৃতু্যর ঘটনাও।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বজ্রপাত, ভারী বর্ষণ ও অতি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্ব প্রস্ত্মুতি হিসেবে প্রতি জেলার ডিসিকে ২০০ টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকাসহ ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন আপদকালীন মুজদ হিসেবে দেয়া হয়েছে। এসব জেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বন্যা হলে বা পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্যাদুর্গতরা যেন সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগের জন্য তারা আগাম প্রস্ত্মুতি নিয়ে রেখেছেন। এবার যেন একজন মানুষও মারা না যায়, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তারা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের প্রস্ত্মুতি শেষ। প্রস্ত্মুতি কাজে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকেও প্রস্ত্মুত থাকলে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ্‌ কামাল বলেছেন, বংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখ রোহিঙ্গা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে। এ কারণে তাদের কুতুপালং ও বালুখালীর মাঝখানে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্ত্মর করা হচ্ছে। ৫০ হাজার পরিবারের এই দুই লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের এক লাখ রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যেই সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকিদেরও সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close