ইয়েমেনের হুদায়দাহ বন্দরে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর হামলা শুরম্নযাযাদি ডেস্ক হুদায়দাহ বন্দরে সৌদি জোটে সামরিক অভিযানইয়েমেনের গুরম্নত্বপূর্ণ বন্দর শহর হুদায়দাহতে হামলা চালানো শুরম্ন করেছে সৌদি সমর্থিত বাহিনী। হুতি বিদ্রাহীদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য বেঁধে দেয়া চূড়ান্ত্ম সময়সীমা অগ্রাহ্য করার পর বুধবার তাদের বিরম্নদ্ধে হামলা শুরম্ন করেছে সৌদি সমর্থিত বাহিনী। এই হামলাটি উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের গত তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে সবচেয়ে বড় লড়াইয়ের সূচনা করেছে। সংবাদসূত্র : বিবিসি
লোহিত সাগরের এই বন্দরটির দখল নিতে ইয়েমেনি সেনারা হুদায়দাহর দক্ষিণে অবস্থান নিয়ে অভিযান শুরম্ন করেছে, তাদের সমর্থন যোগাতে জোট বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ও যুদ্ধজাহাজগুলো শহরটির হুতিদের অবস্থানগুলো লক্ষ করে হামলা শুরম্ন করেছে। জোটের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের হামলায় হুতিদের পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য নির্মিত দুর্গগুলোও ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।
সৌদি সরকার সমর্থিত 'আল-অ্যারাবিয়া' সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌ ও আকাশপথে সমর্থন নিয়ে ব্যাপক পরিসরের হামলার মাধ্যমে হুদায়দাহ বিদ্রোহীমুক্ত করার অভিযান শুরম্ন হয়েছে। বন্দর শহরটির বিভিন্ন উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে।
আন্ত্মর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিদ্রোহীদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে আকাশ ও জলপথে হামলা চালানো হচ্ছে। ইয়েমেনে সক্রিয় ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল, হুদায়দাহতে হামলা হলে একটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই লড়াইয়ে শহরের দুই লাখ ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত্ম হতে পারে। প্রসঙ্গত, হুদায়দাহ বন্দরটি হচ্ছে ইয়েমেনে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর প্রবেশদ্বার। পৌঁছানো ত্রাণের ওপর নির্ভর করে ৭০ লাখের বেশি মানুষ।
ইয়েমেনের আন্ত্মর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আবদ রাব্বু মনসুর হাদির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্রোহীদের শহরটি থেকে সরে যাওয়ার জন্য সব রাজনৈতিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে। হাদি সরকার বলেছে, এই বন্দর মুক্ত করার মধ্য দিয়ে হুতি মিলিশিয়াদের পতন শুরম্ন হবে, এর মাধ্যমে বাব আল-মানদাব প্রণালিতে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ হবে এবং ইরানের হাত কাটা পড়বে। এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনকে অস্ত্রে ডুবিয়ে দিয়েছে, যেটা ইয়েমেনিদের রক্ত ঝড়াচ্ছে।
হাদি সরকারের হয়ে লড়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েকদিন আগে হুতিদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত্ম সময় বেঁধে দিয়েছিল। সতর্ক করা হয়েছিল, নইলে তাদের ওপর হামলা অনিবার্য। ৪৮ ঘণ্টার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গার্গস বলেন, জোট বাহিনী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, জোট বাহিনী চেয়েছিল বন্দর শহরটির নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘ নিক। কিন্তু হুতি বিদ্রোহীরা সরতে রাজি না হলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিল। উলেস্নখ্য, ২০১৫ সালে পশ্চিমা সমর্থিত আরব দেশগুলোর সামরিক জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে যোগ দেয়ার পর থেকে এই প্রথম দেশটির সুরক্ষিত একটি প্রধান শহরের দখল নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানী সানা দখল করে রাখা হুতিদের সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দিয়ে তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করার লক্ষ্য জোট বাহিনীর।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close