টর্নেডোর আঘাতে অর্ধশতাধিক পরিবারের ঈদ আনন্দ মাটিমো. রিয়াদ হোসাইন, গলাচিপা পাঁচ মিনিটের টর্নেডো ঈদ আনন্দ মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে গেছে গলাচিপার অর্ধশতাধিক পরিবারের। নতুন পোশাক তো দূরের কথা, এখন প্রয়োজনীয় পোশাক খুঁজে পেতেই দায় হয়েছে তাদের। কথাগুলো বলছিল গলাচিপার বোয়ালিয়া গ্রামের মো. মনির সিকদারের স্ত্রী ময়না বেগম (৩৫)। টর্নেডোতে নিজের বসতঘরটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। এশার নামাজের পর ঘরের মধ্যে বসে ময়না মোবাইলে কোরআন তিলওয়াত শুনছিল। এ সময় হঠাৎ গরম দমকা বাতাস এসে ঘরটি দুটি ঝাঁকি দেয়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই ময়না দেখে সে মাটিতে পড়ে আছে। তারপর আর কিছুই মনে নেই তার। জ্ঞান ফিরলে দেখে মাটিতে পড়ে আছে। গুছানো সংসার কয়েক মুহূর্তেই ল-ভ- করে দিয়ে যায়। আতঙ্ক কাটেনি তার এখনও। দমকা বাতাস দেখলেই উৎকণ্ঠা নিয়ে বাইরে তাকায়। ময়নার শিশুপুত্রটি হাফেজি পড়ে। টর্নেডোর আঘাতে ঘরের সঙ্গে তার বই-কিতাবও উড়ে গেছে। যাওবা দু-একটি পাচ্ছে যত্ন করে গুছিয়ে রাখছে। সোমবার রাত পৌনে ৯টায় গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ও পানপট্টি ইউনিয়নের সেনের হাওলা, বাঁশতলা, তুলাতলী মোলস্নার হাট, রতনদি তালতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আঘাত হানে। এতে ৩টি পোল্ট্রি ফার্মসহ ২৪টি ঘর সম্পূর্ন বিধ্বস্ত্ম হয়। বিধ্বস্ত্ম ঘরের সংখ্যা ৪৮টি। এ সময়ে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরম্নতর আহত পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র রাকিব মাতবর ও চানবরম্ন (৬৫) গুরম্নতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর তাদের গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে রাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ, প্রকল্প বাস্ত্মবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ ক্ষতিগ্রস্ত্ম এলাকা পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার তার দফতরের লোকজন সরেজমিন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত্মদের তালিকা তৈরি করেছে।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরেই ক্ষতিগ্রস্ত্ম পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার-কাপড়সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত্ম পরিবারগুলোকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে লবণ, তেল, ডাল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মো. মোহন মিয়া এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, জেলাপরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্ত্মফা টিটো, মো. মিজানুর রহমান, গাজী মো. ইউসুফ।
সরেজমিনে গেলে গলাচিপা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাদি জানান, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রাম থেকে টর্নেডোর আঘাত শুরম্ন হয়। এ গ্রামের কমপক্ষে ৩০টি ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়। এরপর পানপট্টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একেবেঁকে বয়ে গিয়ে রতনদি তালতলী ইউনিয়নের গ্রামর্দন গ্রামে শেষ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গলাচিপা ইউনিয়ন আ'লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু জানান, এ ইউনিয়নের মাওলানা নেছার উদ্দিন, মো. মনির সিকদার, মোশারেফ গাজী, আলাউদ্দিন, রেনু বেগমসহ ১০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত্ম এবং কমপক্ষে আরও ২০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়েছে। এ ছাড়া পানপট্টি এলাকার মোলস্নার হাট বাজারে থাকা রফিক মোলস্না, হারম্নন মোলস্না ও মনিরের পোল্ট্রি ফার্মের মুরগীসহ ঘরগুলো প্রায় ১২০০ ফুট উড়িয়ে নিয়ে যায় টর্নেডো। এসব ঘর রতনদি তালতলী ইউনিয়নের গ্রামর্দন গ্রামে গিয়ে ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই এলাকার আল আমিনের ওষুধের দোকান, আক্কাস, চম্পা ও হাশেম খলীফার ঘর আশিংক ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়। একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী গ্রামের হাবিব চৌকিদারের ও জাকির চৌকিদারের বিশাল আকারের দুটি ঘর টর্নেডোর আঘাতে দুমড়েমুচড়ে উড়িয়ে নিয়ে ৩ থেকে ৪শ' ফুট দূরে ফেলে দেয়। এ ছাড়া রতনদি তালতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামর্দন গ্রামের আলমগীরের সম্পূর্ণ ঘর, ফারম্নক মৃধা, শাহআলম মৃধা ও শাহিন মৃধার ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্ত্মফা খান।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close