পাহাড়ে মৃতু্যর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ৩০ হাজার মানুষেরযেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কাসবুজ শর্মা শাকিল, সীতাকু-: সীতাকু- পাহাড়ের টিলায় ও ঢালুতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ মৃতু্যঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। বিভিন্ন সময়ে লোকজন পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করলেও এ ব্যাপারে কর্র্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই। তবে বন বিভাগের দাবী, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে তাঁদের কর্মীরা সতর্ক করে দিলেও বসবাসকারীরা তা মানছেন না। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সাল থেকে পাহাড়ের অবৈধ দখল শুরম্ন হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে নিরাপদ স্থান হিসেবে উপকূলীয় এলাকার লোকজনও এ পাহাড়ে বসতি স্থাপন করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর, সোনাউছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বারৈয়াঢালা, লতিফপুর, সীতাকুরম্ন সদর এলাকায় পাহাড়ের টিলায় ও ঢালুতে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছেন লোকজন। লতিফপুর, সলিমপুর ও কুমিরা এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছেন অনেকেই। এদের অধিকাংশই দিনমজুর, রিকশাচালক, স্থানীয় জুটমিল-টেক্সটাইল মিলগুলোতে চাকরি এবং ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করছে। নিজে জায়গা কিনে ঘর তৈরির মতো সামর্থ ওদের নেই। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পাহাড়ে বসবাস করছেন বলে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ জানিয়েছেন।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম জানান, ''সাগরের জোয়ারে বাড়িঘর সব ভাইস্যা নিয়ে গিয়ে। তারপর থেকেই পাহাড়েই ঠাঁই নিয়েছি। পাহাড় ভাঙ্গি পড়লেও এ্যানেই আঁরার থাকতে হইবো। এটাই আঁরার জীবন।'' বন বিভাগের সলিমপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ এলাকার লোকজন বন বিভাগের জায়গার উপর অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তাঁদের অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস করার জন্য বলা হলেও কাজ হচ্ছে না। ছোট কুমিরা পাহাড়ে বসবাসকারী নুরম্নল ইসলাম, রোকেয়া বেগম ও জয়নাল আবেদিন জানান, 'এলাকায় কোনো আত্মীয়স্বজন নেই, যাব কোথায়?'
সীতাকু- বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বারৈয়াঢালা, সীতাকু- পৌর সদর, কুমিরা, সলিমপুর, সোনাইছড়ি এলাকায় ১৬ হাজার ২৪৪ একর বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার একর জায়গা বেদখলে। অবৈধ দখল হওয়া জায়গার ওপর প্রায় সাত হাজার পরিবারের ৩০ হাজার লোকজন ঘরবাড়ি তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। সোনাউছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, পাহাড়ে মৃতু্যর ঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরে যেতে বলা হলেও তারা সরছে না। এ কারণে ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর ১৭টি পাহাড়কে ঝুঁকিপুর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তার মধ্যে জঙ্গল ছলিমপুর, সোনাইছড়ি এবং কুমিরা এলাকার ৮টি স্থানকে চিহ্নিত করা হয়। গত বছর পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ঝুঁকিপুর্ণ পাহাড়ের তালিকা তৈরির জন্য চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কামরম্নজ্জামান বলেন, একটানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা সকল পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close