বিশ্লেষণকূটনৈতিক সমাধান ধাক্কা খেয়েছেভারত-চীন সীমান্ত সংকটযাযাদি ডেস্ক চীনের সঙ্গে সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পাথুরে দেয়ালে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আর চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অচিহ্নিত সীমান্তে 'এড়ানো অযোগ্য পদক্ষেপ' গ্রহণের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের সিকিম রাজ্য-সংলগ্ন সীমান্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ভারতকে দায়ী করে আসছে চীন। কিন্তু সীমান্ত-সংলগ্ন ভুটানের ডোকলাম মালভূমিতে চীনের সড়ক নির্মাণের কারণে আপত্তি জানিয়ে সেখানে সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। চীনের দাবি, ভারতীয় সেনারা সীমান্ত পার হয়ে চীনের 'ডংলাং' অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
চীন ও ভুটানের বিরোধপূর্ণ ডোকলাম মালভূমি থেকে ভারতের একতরফা সেনা প্রত্যাহারের ওপর চাপ দেয়া অব্যাহত রেখেছে চীন। কিন্তু এর বিনিময় চীন তার সেনাদের ২৫০ মিটার (৮২০ ফুট) পেছনে সরিয়ে নেয়ার ভারতীয় পরামর্শে সাড়া দেয়নি। এমন তথ্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে একেবারে স্বল্প মাত্রার এই কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে ভারত তাদের সেনা ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু চীন এতে সাড়া না দিয়ে ভারতের একতরফা প্রত্যাহারের ওপরই জোর দিয়ে আসছে।
চীনা সেনাদের একটি রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিতে মধ্য জুনে ভারতীয় সেনারা ডোকলামে প্রবেশ করে। ভারতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই রাস্তা নির্মাণ করা হলে তাদের নিরাপত্তা বিঘি্নত হবে। এরপর থেকেই দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে জটিল অবস্থা।
চীন সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবাল টাইমস' জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে যে হুশিয়ারি বারবার দেয়া হচ্ছে, এতে এড়ানো অযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, এশিয়ার দুই পরাশক্তির মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় এক বছর ধরে ঠোকাঠুকির পর দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির দিয়ে চীনের পাকিস্তান-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণ নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এরই জের ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকার করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত মে মাসে বেইজিংয়ে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, জাপানসহ মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য সামরিক জোটে যোগ দিতে দিলি্লকে হুশিয়ার করে দিয়েছে বেইজিং।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ সি রাজা মোহন 'ইনডিয়ান এক্সপ্রেস' পত্রিকায় বলেছেন, এই সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে না। তিনি আরও বলেন, ভারত সম্ভবত আত্মসমর্পণ করবে না। দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, এই অচলাবস্থা আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও ছায়াপাত করবে।
ভারতের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় দুই মাস ধরে অচলাবস্থা চললেও দুই পক্ষের কেউ তাদের শক্তি বাড়ায়নি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার (১০ হাজার ফুট) উঁচুতে মাত্র ১০০ মিটার দূরে (৩২০ ফুট) দুই দেশের প্রায় ৩০০ সেনা মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। সেনা সমাবেশ করার জন্য ভারতকে অভিযুক্ত করেছে চীন। আর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে ভারতকে হুশিয়ার করে দিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সম্প্রতি পার্লামেন্টে অবস্থান নমনীয় করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, 'আমরা বিতর্কটি নিরসনের জন্য চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। যুদ্ধ কোনো সমাধান দিতে পারে না।' এরপরও উভয়পক্ষ তাদের পেশীশক্তি প্রদর্শন করেই চলেছে। যেমন গত মাসে ডোকলামের কাছাকাছি কিংগাই-তিব্বত মালভূমিতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। আর ভারতীয় সেনাবাহিনী ডোকলাম থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে পশ্চিম হিমালয়ের লাখাদ সেক্টরে স্বল্পমাত্রার মহড়ায় অংশ নেয়। দিলি্লর জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিশেষজ্ঞ শ্রীকান্ত কোন্দাপালি্ল বলেন, 'বর্তমানে সংঘাতের সম্ভাবনা কম। আবার চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রসের আগে শি জিনপিং যুদ্ধে যাবেন, এমনটা কেউ প্রত্যাশা করে না।'
উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ওই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। তাতে চীনা নেতার পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদ নিশ্চিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদসূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin