জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন না সু চিজ্জ আসিয়ানে আলোচনা ঠেকাতে মরিয়া মিয়ানমারযাযাদি ডেস্ক অং সান সু চি _ফাইল ছবিরোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার মধ্যে থাকা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ তাইয়ে জানান, 'আমাদের স্টেট কাউন্সিলর গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে বক্তৃতা করেছিলেন। এবার তিনি যাচ্ছেন না।' সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স
সু চির না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তার আরেক মুখপাত্র অং শিন রয়টার্সকে বলেছেন, 'সম্ভবত' মিয়ানমারের নেত্রীর হাতে আরও জরুরি কাজ রয়েছে। সমালোচনার মুখোমুখি হতে বা পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে তিনি কখনও 'ভয় পান না'। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বার্ষিক এই সাধারণ অধিবেশন বসছে।
মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে দশকের পর দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে। এর মধ্যেই গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে হামলার ঘটনার পর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল চলছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে এবং এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। সেনাবাহিনী কীভাবে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘরের ভেতরে আটকে রেখে কীভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, লুটপাট চালিয়ে কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায়।
দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযানকে বর্ণনা করেছে 'সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই' হিসেবে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রামে হামলা ও হত্যার জন্য রোহিঙ্গাদেরই দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকের মর্যাদা না দেয়ায় এবং তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের পদক্ষেপ না নেয়ায় মিয়ানমারের নেত্রী সু চি বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় পড়েছেন। শান্তির জন্য পাওয়া তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ারও দাবি তুলেছেন অনেকে। জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার রাখাইনের ঘটনাপ্রবাহকে চিহ্নিত করেছেন জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি 'ধ্রুপদী উদাহরণ' হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং সুইডেন ও যুক্তরাজ্য এ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে।
আসিয়ানে আলোচনা ঠেকাতে
মরিয়া মিয়ানমার
এদিকে, আসিয়ান সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে মিয়ানমার। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তা সংস্থা 'আনাদোলু' এজেন্সি এ খবর দিয়েছে। চলতি মাসের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, মূল সম্মেলনের আগে আজ বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় আসিয়ানের আন্তঃসংসদীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে যাতে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযানের জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেয়া হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। এতে ঘোর আপত্তি রয়েছে সু চি সরকারের।
আর্তেমিও আদেসা নামে ফিলিপাইনের এক আইনপ্রণেতা জানান, 'মিয়ানমার আপত্তি তোলায় আসিয়ান সম্মেলনে আমাদের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত আলোচনার প্রস্তাব করাটা অসম্ভব হয়ে যাবে।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close