রোহিঙ্গাদের পাশে বাংলাদেশসংকট সমাধানের স্থায়ী পথও খুঁজতে হবেনিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। যতদিন তারা নিজ দেশে ফিরতে না পারবে ততদিন বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে। তাদের সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি তিনি হুশিয়ারও করেছেন যে- এ দেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। মানবিক ও রাজনৈতিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্য যে, সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তাতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক আরাকানের রোহিঙ্গাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের বিষয়টিই এখন বিশ্বমিডিয়ার শিরোনাম দখল করে আছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ এবং অমানবিক হলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নিজ জন্মভূমি ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিনদেশে পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই অনুমান করা যায়। অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এমন কোনো নির্যাতন নেই যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর প্রয়োগ করছে না। আর এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকার যেমন বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে পড়েছে, তেমনিভাবে মানবিকতা আজ কোন গহ্বরের পতিত- এমন প্রশ্নও উঠেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীতে যখন আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা নারী-পুরুষের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায় তখন তা অমানবিকতা এবং ভয়াবহতার চরম দৃষ্টান্ত হয়েই সামনে আসে। রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসা স্মরণকালের ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাস্তচ্যুতদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ তথা প্রধামনমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাও করেছে।
তথ্য মতে, মঙ্গলবার উখিয়ায় শরণার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতি নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমরা মিয়ানমার সরকারের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে। তারা যেন প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার আমরা তা করব।' এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের সামর্থেরও সীমাবদ্ধতা আছে। সামর্থ্য আছে, তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানবতার খাতিরে এই দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কয়েক দশক ধরে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক ঘটনায় আরও তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভরণ-পোষণ চালানো সত্যিকার অর্থেই কষ্টসাধ্য। এ পরিস্থিতি নিশ্চয়ই বাংলাদেশের জন্য সুখকর হতে পারে না। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের এ সংকট যেমন পুরনো, তেমনি বাংলাদেশকেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে। আগের শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বার বার আহ্বান জানানো হলেও মিয়ানমার তাতে কর্ণপাত করেনি। রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও তারা রাজি নয় বলেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। ফলে সংকট দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না। যা অত্যন্ত পরিতাপের।
আমরা মনে করি, মানবিক কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রোহিঙ্গাদের এদেশে আশ্রয় দেয়া হলেও, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোরও ব্যবস্থা করা জরুরি। রোহিঙ্গা দীর্ঘদিনে বাংলাদেশে অবস্থান করায় বাংলাদেশকে নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নতুন করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আশ্রয় নেয়ায় পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে- এমন আশঙ্কাও করেছেন নীতিনির্ধারকরা। ফলে আশ্রয়ের পাশাপাশি কড়া নজরদারি এবং সরকারিভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য বলে বিবেচনা করা জরুরি। লক্ষ্যণীয় যে, বিশ্বমোড়লরা মানবিকতার কথা বললেও বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে নিরব দর্শক। এদের ঘুম ভাঙাতেও বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিজেদের অনুকূলে এনে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করাও এখন সময়ের দাবি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close