পূর্ববর্তী সংবাদ
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরছন্দে ফেরার অপেক্ষায় সৌম্য-ইমরুলযতটুকু সময় উইকেটে ছিলাম, ব্যাটেও বল আসছিল। কিন্তু একটা ভুলের কারণে আউট হয়ে যাচ্ছিলাম। এটা নিয়ে কাজ করছি। দেখছি যে, এটা আমার ভুল নাকি ওরা বেশি ভালো বল করেছে। এই ভুলটা যাতে ওখানে (দক্ষিণ আফ্রিকা) গিয়ে না হয়, সেই চেষ্টা করছিক্রীড়া প্রতিবেদক ব্যাটিং অনুশীলনে সৌম্য সরকার _ফাইল ছবিঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু গর্বের ওই সিরিজে গর্ব করার মতো কিছু করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। চার ইনিংস মিলিয়ে মোটে ২১ রান করেছেন। সাম্প্রতিক ফর্মটাই খারাপ যাচ্ছে এই বাঁহাতির, সব মিলিয়ে গত ১৫ ইনিংসে অর্ধশতক মাত্র একটি। তার ব্যাটিং নিয়ে হচ্ছে নানা সমালোচনা। সমালোচনা হচ্ছে ওপেনার সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স নিয়েও। ইমরুলের মতো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যর্থ হয়েছেন তিনিও। এরপরও দুজনেই টিকে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে। দুজনেই এখন নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চান, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকেই বানাতে চান ছন্দে ফেরার মঞ্চ।
ঐতিহ্যগতভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট গতিময় আর বাউন্সি। এমন উইকেটে সৌম্যর সাম্প্রতিক ফর্ম অপেক্ষাকৃত ভালো। এই বিষয়টি আশা জোগাচ্ছে বাঁহাতি ওপেনারকে। নির্বাচকরাও একই কারণে তার ওপর আস্থা রেখেছেন। ইমরুলও বাউন্সি উইকেটে সাফল্য পেয়েছেন, তাই তাকেও দেয়া হচ্ছে সুযোগ। তা ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফর উপমহাদেশের দেশগুলোর জন্য সবসময়ই ভীষণ কঠিন। নতুন কারও জন্য হতে পারে আরও চ্যালেঞ্জিং। তাই নতুন কাউকে এমন চ্যালেঞ্জের সামনে ঠেলে দিতে চাননি নির্বাচকরা। তবে ইমরুল-সৌম্য চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে এসে বুধবার সেই চ্যালেঞ্জের বিষয় নিয়েই ইমরুল বললেন, 'প্রতিটি সিরিজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়। আমি চেষ্টা করব... এটাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে। আর আমি নিজেও জানি একটা সিরিজ খারাপ খেললে আমার জন্য পরের সিরিজে চাপ। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি সিরিজে রান করার। কখনো সফল হই, কখনো হই না।' আবার রানে ফিরতে মরিয়া ব্যাটসম্যান বলেন, 'যে কয়দিন খেলব সে কয়দিন চেষ্টা করব ভালো খেলার। অন্যথায় কাজটা কঠিন।'
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভালো করতে না পারলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে আত্মবিশ্বাস হারাননি সৌম্য। তবে কেন অল্পতে আউট হচ্ছেন, তা নিয়ে আলাদা করে কাজ করছেন এই বাঁহাতি, 'শ্রীলংকাতে যেভাবে খেলেছি, এখানেও সেভাবে খেলতে চেয়েছি। কারণ শ্রীলংকার উইকেট আর আমাদের উইকেট প্রায় একই রকম। যতটুকু সময় উইকেটে ছিলাম, ব্যাটেও বল আসছিল। কিন্তু একটা ভুলের কারণে আউট হয়ে যাচ্ছিলাম।' সঙ্গে যোগ করলেন, 'এটা নিয়ে কাজ করছি। দেখছি যে, এটা আমার ভুল নাকি ওরা বেশি ভালো বল করেছে। এই ভুলটা যাতে ওখানে (দক্ষিণ আফ্রিকা) গিয়ে না হয়, সেই চেষ্টা করছি।'
স্বপ্নের মতোই কাটিয়েছেন ২০১৫ সাল। কিন্তু সে বছরই অনাকাঙ্ক্ষিত ইনজুরিতে পড়েন। এরপর ফিরে এসে ছন্দ খুঁজে পেতে করতে হয় কঠিন সংগ্রাম। নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে নিজেকে খুঁজে পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবার ছন্দপতন। আবার সমালোচনা। তবে এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই সৌম্যর, 'ভালো খেললেও তো সবাই কথা বলে। এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখি। ভালো-মন্দ যাই হোক, সবাই আমাকে নিয়েই কথা বলছে। এসব ভেবে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করি। সমালোচকদের চুপ করানোর একটাই উপায় আছে, সেটা হলো রান করা। আমি কঠিন পরিশ্রম করি বেশি রান করার জন্য।'
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছরের শেষভাগে ওয়েলিংটনে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে পড়েন ইমরুল। এরপর দ্রুত ক্রিকেটে ফিরতে গিয়ে বাড়ে জ্বালা। ভারতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাওয়া চোটের জায়গাতেই আবার ব্যথা পেলেন। আর এই সময়টাতেই সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে যায়। ওপেনিংয়ে চমৎকার পারফরম্যান্স করে তামিমের সঙ্গী হিসেবে নিজেকে অনেকটা দাঁড় করিয়ে ফেলেন সৌম্য। ফেরার পর তাই ইমরুলের জায়গা তিন নাম্বারে। এই বছর শ্রীলংকা সিরিজ থেকেই তিন নাম্বার ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত হন ইমরুল। কিন্তু ওখানে নিজের ছায়া হয়েই আছেন।
শ্রীলংকা সফরের আগে ওপেনিংয়ে খেলা ১৬ ইনিংসে ৪৪.২৫ গড়ে ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ৭০৮ রান। তিনে নেমে নিজের ছন্দ হারিয়েছেন, এখন দলে জায়গা হারানোর শঙ্কায় ইমরুল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে ভালো করতে না পারায় যারপরনাই হতাশ এই বাঁহাতি, 'শেষ দুটি টেস্ট আমার জন্য খারাপ হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইনজুরি (আসলে নিউজিল্যান্ডে) হয়ে এসেও শ্রীলঙ্কায় ওভাবে পারফর্ম করতে পারিনি। সব মিলিয়ে একটু দুর্ভাগা বলব নিজেকে। ইনজুরি না হলে যে ছন্দে যাচ্ছিলাম সেই পারফরম্যান্স আরেকটু ভালো হতো। ইনজুরি থেকেও একটু সমস্যা হয়েছে। আমি যেভাবে খেলছি এভাবে খেলা অবশ্যই একটু কঠিন।'
টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়ায় ওপেনিং ছেড়ে ইমরুল তিনে খেলছেন। মুখে স্বীকার না করলেও ব্যাটিং অর্ডারের পরিবর্তন যে তার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলেছে তা ভালো করেই জানেন ইমরুল। তারপরও নিজের পছন্দকে গুরুত্ব না দিয়ে দলের প্রয়োজনের কথাই ভাবছেন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান, 'যেখানে দেবে ওটাই আমার পছন্দের পজিশন। আমার পার্টিকুলার কোনো পছন্দ নেই। মানুষ হিসেবে সবকিছুই পরিবর্তন করতে হয়। একটা মানুষ তো সবসময় একটা ট্র্যাকে ঠিক থাকে না। নিজের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।'
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close