খালেদার রায়ের কপি পাওয়া যায়নিযাযাদি রিপোর্ট জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রায় এক সপ্তাহ পর বুধবার বিকালে পাওয়ার আশা করলেও হতাশ হয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
বিএনপির চেয়ারপাসনের আইনজীবী সানাউলস্নাহ মিয়া বুধবার বিকাল ৫টায় বলেন, 'রায়ের সার্টিফায়েড কপি আজ পাইনি। আগামীকাল পাব বলে আশা করছি।' রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর হাইকোর্টে খালেদা আপিল করে জামিনের আবেদন করবেন। তাতে তিনি কারামুক্ত হবেন বলে আশায় আছে বিএনপি।
গত ৮ ফেব্রম্নয়ারি এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে ৫ বছর কারাদ-ের রায় দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ মো. আখতারম্নজ্জামান। তিনি সেদিন ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়েছিলেন।
এরপর বিএনপির আইনজীবীরা রায়ের অনুলিপি পেতে আবেদন করেন। তা না পাওয়ায় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, খালেদাকে কারাগারে আটকে রাখতেই রায়ের অনুলিপি দিতে দেরি করা হচ্ছে।
খালেদার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ সোমবার বলেছিলেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি নেয়ার জন্য তিন হাজার পৃষ্ঠার স্ট্যাম্প ফোলিও পেপার বিচারক আখতারম্নজ্জামানের পেশকার মোকাররম হোসেনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ওই কাগজেই রায়ের সত্যায়িত কপি লেখা হবে।
এরপর সানাউলস্নাহ মিয়া বুধবার দুপুরে বলেছিলেন, 'আজ বিকাল ৪টায় আমরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাব। কপি হাতে পেলেই আপিল আবেদন জমা দেব।'
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় প্রতীকী অনশন করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শতাধিক আইনজীবী।
পুরনো জেলা জজ আদালত ভবন ও মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের মাঝখানের চত্বরে প্রতীকী অনশনে থাকার সময়ই রায়ের কপি পাওয়ার আশাবাদের কথা জানিয়েছিলেন সানাউলস্নাহ মিয়া।
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় জামিন হলে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে বাধা না থাকলেও তাকে অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখালে সেই পথ আটকে যাবে।
খালেদাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারামুক্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে অন্য কোনো মামিলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তিনি শুধু জিয়া এতিমখানা দুর্নীতির মামলায় বন্দি আছেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একথা বলার পরদিন বুধবার মানহানির এক মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেও ফল পাননি বাদী জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।
ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীবের কাছে এ আবেদন দাখিল করে আওয়ামী লীগের এই সমর্থক বলেন, 'এই মামলায় অনেক আগেই খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, যা কার্যকর করা বা তামিলের অপেক্ষায় ছিল।
'তিনি যেহেতু অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন তাই এই মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছি। শুনানি নিয়ে বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।'
বিকালে বিচারক মামলাটিতে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি নাকচ করে দেন।
খালেদা জিয়াকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল বুধবার।
গত বছরের ১২ অক্টোবর এই মামলাটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন একই বিচারক।
এরপর থেকে বারবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল বিষয়ক প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়নি পুলিশ।
এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ১৭ মে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জিয়াউর রহমান তাকে হুমকি দেন ও অবরম্নদ্ধ করে রাখেন। ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি করে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তাদের গাড়িতে তুলে দিয়েছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের অবমাননার শামিল।
ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে এখন বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা।
গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে সঙ্গে পেলেন খালেদা

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে থাকার অনুমতি দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকালে তাকে কারাগারে প্রবেশ ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার অনুমতি দেয়া হয়।
কারা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাবিধির আলোকে ফাতেমাকে পরিচারিকা হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছে কারা কতৃপক্ষ।’
এর আগে গত রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান সেবিকা ফাতেমার বিষয়ে জেলকোডের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার সঙ্গে কারাগারে একজন পরিচারিকা (সেবিকা) নেয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। আবেদনে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বয়স্ক মানুষ। তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। তাই তার জন্য একজন পরিচারিকা প্রয়োজন। আর তার পরিচারিকা হিসেবে থাকার জন্য মোছা. ফাতেমা প্রস্তুত।
৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এই মামলায় অন্য আসামি খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদ- দেয়া হয়।
আদালত বলেছে, বয়স ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কম সাজা দেয়া হয়েছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। রায়ের পরই নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে নেয়া হয় বেগম জিয়াকে। দ-বিধি ১০৯ ও ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের সাজা দেয়া হয়। কারাদ-ের পাশাপাশি সব আসামিকে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদ- দেয়া হয়।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close