বাংলাদেশ-শ্রীলংকার প্রথম টি২০ আজক্রীড়া প্রতিবেদক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদদুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচে আজ সফরকারী শ্রীলংকার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরম্ন হবে বিকাল পাঁচটায়। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে এবং টেস্ট সিরিজে লংকানদের কাছে হেরে বেশ চাপে আছে বাংলাদেশ, সেই চাপ দূর করে টি২০ সিরিজ জিততে চায় টাইগাররা।
লড়াইয়ের ময়দানে নামার আগেই নিজেদের এই চাওয়ার পালে বড়সড় একটা ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ইনজুরিতে পড়েছেন দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম দুই ভরসা- ওপেনার তামিম ইকবাল আর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। আজকের ম্যাচে দুজনই অনিশ্চিত। ইনজুরির কারণে গোটা সিরিজেই খেলছেন না নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এরই মধ্যে তামিম-মুশফিককে নিয়ে শঙ্কা, রীতিমতো অথৈ সাগরে পড়েছে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট।
দুজনের কারও চোটই গুরম্নতর নয়। কব্জিতে ব্যথা পাওয়া মুশফিক ভালো বোধ করলে খেলতে পারেন। তবে অনুশীলনে হাতের পেশিতে ব্যথা বোধ করা তামিমকে নিয়ে আলাদা করেই ভাবতে হচ্ছে। সেই ভাবনা থেকেই দলভুক্ত করা হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংসের সূচনায় তামিম না থাকলে সম্ভবত মিঠুনকেই দেখা যাবে ওপেনারের ভূমিকায়। পঞ্চম বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের হয়ে দারম্নণ পারফর্ম করেছিলেন মিঠুন।
তাতেই বা তামিমের অভাব কতটা পূরণ করা সম্ভব হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত্ম তামিমের বিকল্প তামিমই। সাকিবের বিকল্প যেমন তৈরি হয়নি, তেমনি তামিমেরও। এরই মধ্যে আবার টি২০ দলে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। স্কোয়াডে ছয়জন আছেন যারা প্রথমবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর প্রহর গুনছেন। চোট কাটিয়ে তামিম আর মুশফিক শেষতক মাঠে নামতে না পারলে আজ মাঠে 'নতুন' এক বাংলাদেশকেই দেখা যাবে।
অন্ত্মত তিনজনের অভিষেক নিশ্চিতই। এই তালিকায় আছেন আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু আর আফিফ হোসেন কিংবা জাকির হাসান। মুশফিক খেলতে না পারলে আফিফ আর জাকির- দুজনেই থাকবেন একাদশে। সাকিব নেই, তামিম-মুশফিকও যদি না খেলতে পারেন- এতে ব্যাটিংটা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে বাংলাদেশের। দায়িত্বের বাড়তি চাপ বর্তাবে সৌম্য-সাব্বির আর দলপতি মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদের কাঁধে। মুস্ত্মাফিজুর রহমান আর রম্নবেল হোসেন থাকায় পেস বোলিং বিভাগটা অবশ্য অভিজ্ঞই।
সিমিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন আছেন, আরিফুলও বোলিংটা ভালোই জানেন। অন্যদিকে বাঁহাতি স্পিনে আনকোড়া অপুই একমাত্র ভরসা। অফস্পিনার মেহেদী হাসান আছেন। তবে টিম কম্বিনেশনে এই তরম্নণের জায়গা হবে কিনা, সেটা অনিশ্চিত। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি হয়তো অফস্পিনারের ভূমিকাও নেবেন মাহমুদউলস্নাহ। সবমিলে একেবারে তথৈবচ অবস্থা স্বাগতিক শিবিরের। তবে ম্যাচটা টি২০ বলেই এত সমস্যার আনাগোনাতেও মনোবলে চিড় ধরেনি টাইগারদের।
প্রতিবন্ধকতার সব পাহাড় ডিঙিয়ে টি২০ সিরিজে ভালো করার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন মাহমুদউলস্নাহ। ব্যর্থতা ভুলে চাইছেন ঘুরে দাঁড়াতে। ভারপ্রাপ্ত টাইগার দলপতি আস্থা রাখছেন সতীর্থদের উপর। নতুনদের উপরও পূর্ণ ভরসা আছে তার, 'টেস্ট এবং ওয়ানডেতে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে পারিনি। আমরা খুব আশাবাদী। আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব এবং ভালো ক্রিকেট খেলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারব।'
সঙ্গে যোগ করলেন, 'আমাদের দলে নতুন মুখ আছে বেশ কজন। চাওয়া থাকবে ওদের ওপর যত কম চাপ দেয়া যায়। ওদের নিজেদের মেলে ধরার সুযোগটা দেব। সেটা ছোট্ট কোনো তথ্য ভাগাভাগির মাধ্যমে হোক, উপস্থিত বুদ্ধির মাধ্যমে হোক বা যে কোনোভাবে। দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও বেশ কজন আছেন। সবাই মিলে চেষ্টা করব, যেন আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি।'
আনকোড়া নতুন খেলোয়াড়রা মাঠে নেমেই বাজিমাত করেছেন, ক্রিকেটে এমন নজির কম নেই। প্রতিপক্ষের কাছে অপরিচিত হওয়ার সুবিধাটা কাজে লাগিয়েছেন তারা। আরিফুল-অপুদের সামনেও সেই সুযোগ আসছে। তবে তাদের নিয়ে মোটেও চিন্ত্মিত নয় লংকান শিবির। কারণ বিপিএল খেলার সুবাদে অনেকের সঙ্গেই পরিচয়পর্বটা সাড়া হয়ে গেছে। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে লংকান প্রতিনিধি উপুল থারাঙ্গাই যেমন জোর দিয়ে বলে গেলেন, স্বাগতিক শিবিরে থাকা নতুনদের সম্পর্কে ভালোই জানাশুনা আছে তাদের।
প্রযুক্তির এই যুগে আসলে কোনোকিছুই আর নতুন থাকে না। থিসারা-থারাঙ্গারা বিপিএল খেলে নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, অন্যদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে প্রযুক্তি। কিভাবে? থারাঙ্গা ব্যাখ্য দিলেন এভাবে, 'আমাদের দলের কয়েকজন বিপিএলে খেলেছে। আমাদের ধারণা আছে, ওরা কি করতে পারে। ওরা দলে নতুন আর বিপিএলে ভালো করেছে। আমরা ওদের কিছু ভিডিও দেখেছি।'
থারাঙ্গার মতে, নতুন খেলোয়াড়রা নয়, ম্যাচে মূল বিষয়টা হবে উইকেট আর কন্ডিশন। দীর্ঘ সফরে অবশ্য কন্ডিশনের সঙ্গে সখ্য হয়ে গেছে লংকানদের। চন্ডিকা হাথুরম্নসিংহের শিষ্যদের কাছে মিরপুরের উইকেটও আর অপরিচিত থাকার কথা নয়। তাছাড়া টি২০ ম্যাচে উইকেট সাধারণত কিছুটা হলেও ব্যাটসম্যানদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে রাখে। তাতে ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বোলারদের জন্যও হয়তো কিছু থাকবে। খেলা হবে স্পোর্টিং উইকেটে, যে দল সুবিধা নিতে পারবে তারাই জিতবে।
নিজেদের চেনা মাঠের সুবিধাটা নিক বাংলাদেশ, সকলের প্রত্যাশা এমনই। তাছাড়া লংকানদের বিপক্ষে খেলা সবশেষ টি২০ ম্যাচটা কিন্তু জিতেছে বাংলাদেশই। সেটাও লংকানদেরই মাটিতে। তাহলে নিজেদের মাটিতে নয় কেন?
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close