অমর একুশেমিছিলে গুলি স্ত্মম্ভিত দেশযাযাদি রিপোর্ট মিছিলে গুলির খবরে স্ত্মম্ভিত গোটা দেশ। তবে সে ঘোর কাটতে সময় লাগেনি। মুহূর্তেই নগর থেকে মফস্বলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সর্বস্ত্মরের মানুষ। ১৯৫২-র ২১ ফেব্রম্নয়ারি গুলি চলার পর ঢাকায় স্মৃতিস্ত্মম্ভটি নির্মিত হয় দু'দিন পর ২৩ ফেব্রম্নয়ারি। তবে এর আগেই ২১ ফেব্রম্নয়ারি রাতে রাজশাহীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল দেশের প্রথম শহীদ মিনার।
'ভাষা-আন্দোলন: ইতিহাস ও উত্তর প্রভাব' গ্রন্থে আহমদ রফিক লিখেছেন, ওই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জে রহমতউলস্নাহ ক্লাবে সমাবেশ চলছিল। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আবুল হাশেম, সভাপতি ছিলেন আলমাস আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময়ই ঢাকার ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের খবর এসে পৌঁছায়। জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সমস্ত্ম শহর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাজশাহীতে সেই একুশের সারা দিন ছিল হরতাল। বিকেলে ভুবনমোহন পার্কে জনসভা হয়। রাজশাহী কলেজের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই আন্দোলনে উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহীর হরতালের খবর ২৪ ফেব্রম্নয়ারি ছাপা হয় দৈনিক আজাদ-এ। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছিল, 'বেলা ১১টার সময় রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণ হইতে এক হাজারের অধিক ছাত্র ও জনতার এক শোভাযাত্রা বাহির হইয়া
শহরের প্রত্যকটি রাস্ত্মা প্রদক্ষিণ করে।'
একুশে ফেব্রম্নয়ারি ঢাকা থেকে ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালানোর খবরটি পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রামের দোকান মালিক সমিতি লালদীঘি ময়দানে আয়োজন করে জনসভার। চৌধুরী হারম্ননুর রশীদও আমন্ত্রিত ছিলেন সেই সভায়। সভা শেষ হওয়ার আগেই তিনি তার বক্তৃতায় ট্রেড ইউনিয়নের দাবির চেয়ে ঢাকায় গুলির বিষয়টি বেশি গুরম্নত্বপূর্ণ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের আহ্বান জানান। প্রথমে মিছিলে শ'আটেক লোক ছিল। কিন্তু মিছিল এগোতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ঢাকার গুলির খবর বিদু্যৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ে ময়মনসিংহে। ২২ তারিখে টাউন হলে মহকুমা মুসলিম লীগের সভাপতি ফকরম্নদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে ঢাকায় পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির অনুমতি ছাড়াই তরম্নণ আওয়ামী লীগ নেতা রফিকউদ্দিন ভুঁইয়া সভায় কয়েকটি প্রস্ত্মাব উত্থাপন করলে তা উপস্থিত লোকজনের সর্বসম্মত সমর্থন লাভ করে এবং গৃহীত হয়। সভায় বক্তব্য দেন সৈয়দ সুলতান আহমেদ, রফিকউদ্দিন ভুঁইয়া, আলতাফ উদ্দিন তালুকদার, শামসুল হক, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।
২১ ফেব্রম্নয়ারির কর্মসূচির কথা জেনে খুলনায় এম এ গফুর, সুনু মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন ও এম এ বারী একসঙ্গে বসে শহরে পোস্টারিং এবং স্কুল-কলেজে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত্ম নেন। ২২ ফেব্রম্নয়ারি ওয়্যারলেস অপারেটর আবদুস সাত্তার সর্বপ্রথম ঢাকায় গুলি চলার ঘটনা প্রকাশ করলে তা দ্রম্নত শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ২৩ ফেব্রম্নয়ারি মিউনিসিপ্যালিটি পার্কে জনসভা হয়।
কুমিলস্নায় একুশের রাত ১০টার দিকে দৈনিক আজাদ-এর এক পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যা (টেলিগ্রাম) এসে পৌঁছলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। ২২ ফেব্রম্নয়ারি লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায় টাউন হল। সিদ্ধান্ত্ম হয় কেউ সেদিন বক্তৃতা করবেন না। আজাদের বিশেষ সংখ্যাটি শুধু পড়ে শোনানো হবে। সিদ্ধান্ত্ম মোতাবেক আবদুল গনি মুন্সী এটি পড়ে শোনান। যে মিছিলটি বের হয়, সেটি ছিল এক মাইল দীর্ঘ।
এভাবে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো পূর্ব বাংলায়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, পাবনা, নোয়াখালী, ফেনী, দিনাজপুরসহ বড় বড় শহর।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close