পূর্ববর্তী সংবাদ
স্টিফেন হকিং এক বিস্ময় প্রতিভারাজনীতি নিয়েও সরব হতে দেখা গিয়েছে এই বিজ্ঞানীকে। মার্কিন নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বুদ্ধিমত্তা' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সরব হয়েছিলেন ব্রেক্সিটের বিরম্নদ্ধেও।যাযাদি ডেস্ক স্টিফেন উইলিয়াম হকিং -ফাইল ছবিযন্ত্রচালিত একটি হুইলচেয়ার। ডান দিকে হেলানো ঘাড়। হুইলচেয়ারের হাতলের কন্ট্রোলের উপর রাখা হাত। বিশ্ব তাকে এই অবস্থাতেই দেখেছে বছরের পর বছর। মৃতু্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে জীবনের আস্বাদ নেয়া যায় তার থেকে বড় উদাহরণ বোধহয় আর হয় না। তিনি, স্টিফেন উইলিয়াম হকিং দেখিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে বসেই কীভাবে মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়ানো যায়।
গরিব পরিবারের হলেও হকিংয়ের বাবা-মা দুজনেই পড়তেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন মেডিসিনের ছাত্র। মা পড়তেন রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দর্শন। হকিংরা ছিলেন চার ভাইবোন।
তবে নিয়তি যেন হকিংয়ের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। ১৯৬২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে মোটর নিউরন নামে স্নায়ুর এক মারাত্মক রোগে আক্রান্ত্ম হন হকিং। মোটর নিউরনের একটি রোগ অ্যামিওট্রপিক লেটারেল স্কেলরোসিস-এ (এএলএস) আক্রান্ত্ম হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ে চিকিৎসকরা বলেছিলেন, দুই বছরের বেশি বাঁচা সম্ভব নয় হকিংয়ের। এর পর থেকে তার পুরো জীবনই কেটেছে হুইলচেয়ারে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত্ম হয়েও কম্পিউটার স্পিচ সিন্থেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলতেন তিনি। মানসিক জোর যে ঠিক কতটা ছিল তার প্রমাণ মেলে এএলএস নিয়ে হকিংয়ের করা এক মন্ত্মব্যে। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'আমার এই রকম কোনো রোগ আছে তা অনুভবই করি না। চেষ্টা করি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবন কাটাতে। আমার কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, এমন কোনো কিছুই আমি পাত্তা দিই না।' হকিংয়ের কাজের বেশিরভাগ অংশজুড়েই ছিল আপেক্ষিকতাবাদ, কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং মহাবিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র ক্ষুদ্র কণা ও তাদের চরিত্র এবং অবশ্যই বস্ন্যাক হোল। ১৯৭৪ সালে বস্ন্যাক হোলের উপর তার বিখ্যাত থিওরি 'হকিং রেডিয়েশন' সামনে আনেন। সেই বছরই মাত্র ৩২ বছরে বয়সে রয়্যাল সোসাইটির ফেলো হন তিনি। ১৯৭৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের লুকেসিয়ান প্রফেসর হন। এই পদে ছিলেন আইজ্যাক নিউটনও।
বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয় 'আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম' বইটি ২০০১ সালের মধ্যে ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় তার 'দ্য ইউনিভার্স ইন আ নাটশেল'। রাজনীতি নিয়েও সরব হতে দেখা গিয়েছে এই বিজ্ঞানীকে। মার্কিন নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বুদ্ধিমত্তা' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। সরব হয়েছিলেন ব্রেক্সিটের বিরম্নদ্ধেও।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close