বিচারপতি জয়নুলকে নিয়ে লেখা চিঠি দাপ্তরিকএটা আদালতের মতামত নয়: হাইকোর্টের রায়যাযাদি রিপোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরম্নদ্ধে তদন্ত্ম 'আটকাতে' দুর্নীতি দমন কমিশনে আপিল বিভাগ প্রশাসনের চিঠি কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের মতামত নয় এবং তা সর্বোচ্চ আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে বলে এক রায়ে জানিয়েছে হাইকোর্ট।
গত মার্চে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরম্নদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ 'সমীচীন হবে না'।
বিষয়টি নজরে আনা হলে অক্টোবরে রম্নল জারি করেছিল হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেয়া ওই চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়েছিল রম্নলে।
এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার সাতটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে রম্নল নিষ্পত্তি করে দিয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কেবল দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতি ছাড়া যে কারও বিরম্নদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত্ম চলতে পারে। সুতরাং বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরম্নদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের চিঠিতে ভুল বার্তা দেয়া হয়েছে।
তবে সাত বছরেও দুদকের ওই অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় অসন্ত্মোষ প্রকাশ করে রায়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের বিরম্নদ্ধে তদন্ত্মের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, যাতে তাদের মর্যাদাহানি না হয় বা অকারণ হয়রানির শিকার হতে না হয়।
বিচারপতি এস কে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকার সময় এই চিঠিটি দেয়া হয়েছিল। ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পদত্যাগী বিচারপতি সিনহা এই চিঠি নিয়েও সমালোচনায় পড়েছিলেন।
এই আবেদনের শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছিল- সুপ্রিম কোর্টের এই চিঠির বিচার করার এখতিয়ার হাইকোর্টের আছে কিনা। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, ওই রম্নল যথার্থ (ম্যানটেইনেবল)।
রম্নল শুনানির জন্য অ্যামিচি কিউরি হিসেবে আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, এ এম আমিন উদ্দিন ও প্রবীর নিয়োগীকে নিয়োগ দিয়েছিল। বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন; আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
রায়ের পর খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, 'রায়ের সাতটি পর্যবেক্ষণ বিশেস্নষণ করলে দাঁড়ায়, চিঠিটা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্ত্মির সৃষ্টি হতে পারে। এ চিঠি দেয়া হয়নি। এটাকে কোনোক্রমেই সুপ্রিম কোর্টের চিঠি বলা যাবে না। আমরা বলতে পারি চিঠিটি অবৈধ।'
আর জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, 'হাইকোর্টের এ রায় ইতিবাচক।'
মামলার পূর্বাপর
জয়নুল আবেদীন ১৯৯১ সালে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান, পরে ২০০৯ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সন্দেহে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে তাকে নোটিস দেয় দুদক।
দুদকের দেয়া ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ২০১০ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। তার শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি বিবেচনায় খারিজ করে দিয়েছিল।
এর সাত বছর পর পুনরায় এই বিচারপতির বিরম্নদ্ধে বিদেশে 'অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে' উলেস্নখ করে তার বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে এই বছরের ২ মার্চ চিঠি দেয় দুদক।
এর জবাবে ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরম্নণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, 'সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরম্নদ্ধে দুদকের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট মনে করে।'
কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরম্নদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া তার প্রাথমিক তদন্ত্ম বা অনুসন্ধান না করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশিস্নষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠিতে।
এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের প্রসঙ্গটিও আসে।
প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ওই চিঠি দেয়ার মাধ্যমে বিচারপতি এস কে সিনহা 'ন্যায়বিচারের প্রতিবন্ধকতা' তৈরি করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তফাদার ওই চিঠি আদালতের নজরে আনার পর ৯ অক্টোবর রম্নল দেয় হাইকোর্ট। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন বিচারপতি জয়নুল আবেদীন।
রিট আবেদনের শুনানিতে উঠে আসে, চিঠি চালাচালির পর সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি জয়নুল আবেদীন সম্পর্কে তথ্য দুদককে দিয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট তথ্য দিয়েছে এবং দুদকের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণসহ রম্নল নিষ্পত্তি করে দিচ্ছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close