পরবর্তী সংবাদ
সেনানিবাসে মাতলামি, ভিক্ষায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা বিল সংসদেযাযাদি রিপোর্ট প্রায় একশ' বছর আগের 'ক্যান্টমেন্টস অ্যাক্ট-১৯২৪' নতুন করে প্রণয়ন করতে 'সেনানিবাস বিল-২০১৭' সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিলটি সংসদে তোলেন সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দয়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
উত্থাপনের পর বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
খসড়া আইনে দেশের যে কোনো ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় রাস্ত্মাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি বা জুয়া খেলার শাস্ত্মি হিসেবে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
খোলা অবস্থায় মাংস বহন এবং অনাবৃত করে বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি প্রদর্শনের মতো ঘটনাতেও একই শাস্ত্মির বিধান রাখা হয়েছে।
আগের আইনের ২৯২টি ধারা থেকে কিছু বাদ দিয়ে এবং নতুন কিছু সংযোজন করে মোট ২১৮টি ধারা রাখা হয়েছে প্রস্ত্মাবিত আইনে।
>> সেনানিবাস এলাকায় অবৈধ নির্মাণের জন্য আগে ৫০০ টাকা জরিমানা থাকলেও প্রস্ত্মাবিত আইনে তা কমপক্ষে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> সড়কের সরকারি ভূমি খনন করলে জরিমানা ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়।
>> জনগণের দৃষ্টির সামনে খোলা অবস্থায় মাংস বহন, বিকলাঙ্গতা ও ব্যাধি অনাবৃত করে প্রদর্শন, মাতলামি, ভিক্ষাবৃত্তি, জুয়া খেললে, রাস্ত্মাঘাটে মলমূত্র ত্যাগ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। আগের আইনে এই জরিমানার পরিমাণ ছিল এক টাকা।
>> খসড়া আইনে সেনানিবাস এলাকায় বেসরকারি বাজার বা কসাইখানা স্থাপন করলে শাস্ত্মি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে। আর লাইসেন্স ছাড়া বাজার বা কসাইখানা খুললে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। আগে এই অপরাধের শাস্ত্মি ছিল ২০০ টাকা।
>> তথ্য দিতে অবহেলা করলে আগে ১০০ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও প্রস্ত্মাবিত আইনে তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করলে জরিমানা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে দুই হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> আতশবাজি ফোটালে বা গুলি ছুঁড়লে আগে ৫০ টাকা শাস্ত্মি ছিল। প্রস্ত্মাবিত আইনে এই শাস্ত্মি কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> বসতবাড়ি জরাজীর্ণ থাকলে জারিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> বিলে পশুকে আবর্জনা খাওয়ালে জরিমানার পরিমাণ ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
>> অবৈধভাবে পানি ব্যবহার করলে আগে ৫০ টাকা জরিমানা হতো, নতুন আইনে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের প্রস্ত্মাব করা হয়েছে।
>> ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সরকারি কাজে বাধা দিলে জরিমানা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
>> ভবনের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে বিলম্বে আগে জরিমানার কোনো বিধান ছিল না। প্রস্ত্মাবিত আইনে বলা হয়েছে, সময়সীমা বর্ধিতকরণের আবেদন তিনবারের বেশি হলে ২০ হাজার টাকা এবং পাঁচবারের বেশি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে।
>> 'অনুচিত উদ্দেশ্যে' পতিত জমিতে ঘের দিলে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হবে। আগে এ কারণে জরিমানার বিধান ছিল না।
>> সেনানিবাস এলাকায় নিবন্ধনের বাইরে কুকুর পুষলে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, 'প্রস্ত্মাবিত আইনে, অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যে (ক) সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরকে সন্নিবেশিত করা হয়েছে, (খ) সামরিক আবাসিক প্রকল্পকে অন্ত্মর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং (গ) বিভিন্ন ফি ও আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।'
 
পরবর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close