লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টেরআপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষযাযাদি রিপোর্ট জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া ঢাকার লেকহেড গ্রামার স্কুল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রম্নলের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্ত্মগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রম্নল দেয়।
আবেদনকারীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী রাশনা ইমাম রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, 'আদালত বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দিতে হবে। আর সরকার যদি ওই স্কুলে জঙ্গি কাযক্রমের কোনো অভিযোগের তদন্ত্ম করতে চায়, তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।'
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরম্নদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে যাবে।
জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদে উৎসাহ দেয়াসহ কয়েকটি অভিযোগে গত ৬ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকায় লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধের নির্দেশ দেয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মেহেদী পরদিন ওই স্কুলে গিয়ে সিলগালা করে দেন। সেদিন তিনি বলেন, স্কুলটি কোনো ধরনের কার্যক্রম চালালে তা শাস্ত্মিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হবে।
ওই স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিন এবং ১২ শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই পদক্ষেপের বিরম্নদ্ধে হাইকোর্টে যায়।
তাদের দুটি রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্ত্মগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৯ নভেম্বর রম্নল জারি করে।
হলেকহেড গ্রামার স্কুলের গুলশান ও ধানম-ি শাখা বন্ধের আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, কেন স্কুলের মালিককে স্কুল খোলা ও পরিচালনা করতে দেয়ার জন্য বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হবে না এবং কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রম্নলে।
শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এর জবাব দিতে বলা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার হাইকোর্টে রম্নলের ওপর শুনানি হয়। এরপর মঙ্গলবার রায়ে স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
আবেদনকারীপক্ষে আদালতে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল আপিলের প্রস্ত্মুতি নেয়ার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'স্কুলটি পরিচালনার জন্য ধানম-ির ৬/এ সড়কের একটি বাড়ির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময় তারা স্কুলের স্থান পরিবর্তন করেছে। এখন তারা স্কুলটি চালাচ্ছে ধানম-ির ১১/এ'র একটি বাড়িতে। এটি আবাসিক এলাকা। এতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নেই।'
'তা ছাড়া অনুমোদন দেয়ার সময় শর্ত দেয়া হয়েছিল যে, স্কুলটির একটি ম্যানেজিং কমিটি থাকতে হবে, এই কমিটির নির্বাচনের আগে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে এবং আবাসিক এলাকা হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে, কোনো শর্তই স্কুলটি পূরণ করেনি। এ বিষয়গুলো আমি আদালতে তুলে ধরেছি।'
মাহবুবে আলম বলেন, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং বুধবারই আবেদন জমা দেয়া যাবে বলে আশা করছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close