সিলেটে ফুটপাত ছেড়ে হকাররা এখন রাস্ত্মায়!সিলেট অফিস রাস্ত্মা দখল করে ফল ব্যবসায়ীদের দোকান'টাকা বেশি দিয়েই তো বসেছি। না দিলে কি আর রাস্ত্মায় বসতে দেয়!'- এমনই মন্ত্মব্য সিলেটের জনাকীর্ণ কোর্ট পয়েন্টে ফুটপাত ছেড়ে রাস্ত্মা দখল করে রীতিমতো জেঁকে বসা জনৈক ফল ব্যবসায়ীর। বাড়ি তার কিশোরগঞ্জে। শেখঘাট এলাকায় বাসা ভাড়া করে থেকে ব্যবসা করেন। তার মতো অনেকেই শহরের ব্যস্ত্মতম কোর্ট পয়েন্টে রাস্ত্মার একাংশ দখলে নিয়ে ফল ব্যবসা করছেন।
যানজট নিরসনে কোর্ট পয়েন্ট ও সিটি পয়েন্ট এলাকায় সবসময়ই পুলিশের সরব উপস্থিতি থাকে। মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত একমাত্র ফুটওভারব্রিজটাও গড়ে উঠেছে কোর্ট পয়েন্টে। অথচ এই দুটি পয়েন্টের মাঝখানের সড়কে নিত্যদিন বসে ফলের হাট। উদাসীন, নির্বিকার পুলিশ সেটা দেখেও না দেখার ভান করে যায়।
ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ ইসু্যতে নগর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে আদালতেও যেতে হয়েছে। অথচ সিটি পয়েন্ট সড়কের ওপর জেঁকে বসা হকারদের প্রতি পুলিশের এহেন উদাসীনতা ও সন্দেহজনক 'সদয় ভূমিকা' নিয়ে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের মনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন, অসন্ত্মোষ।
শুধু কোর্ট পয়েন্ট বা সিটি পয়েন্টই নয়, সিলেট মহানগরের সব স্থানে একই অবস্থা। সবখানেই এখন পসরা সাজিয়ে জেঁকে বসেন হকাররা। ফুটপাত থেকে তাড়িয়ে দেয়ার পর হকাররা এখন সড়কের ওপর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ তারা এখন আগের চেয়ে এক কাঠি সরেস!
ভ্রাম্যমাণ এই ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের রাস্ত্মার ওপর জেঁকে বসতে দেয়ায় পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, সিসিক ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে ট্যাক্স নেবে, সরকারকে আয়কর-ভ্যাট দেব আর দিনের পর দিন এসব চলতেই থাকবে, তাতো হয় না! সরেজমিন দেখা গেছে, সিলেট সিটি পয়েন্ট ও কোর্ট পয়েন্টের মধ্যভাগে ফুটপাত ছেড়ে সড়কেই বসে ব্যবসা করছেন হকাররা। শুধু সড়ক নয়, সড়কের ডিভাইডার ঘেঁষেও বসেছেন ক্ষুদে ফল ব্যবসায়ীরা।
সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের অপর প্রান্ত্মের কালেক্টরেট মসজিদের সামনে ১০টি সিএনজি অটোরিকশা ও হিউম্যান হলার দাঁড়ানোর কথা। অথচ সেখানে শ'খানেক যানবাহন দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ লালা বলেন, মানুষ কেন খোলামেলা জায়গা ও উন্মুক্ত সড়কে চলাচল করতে পারবে না? পুলিশ কাদের কাছে ধরাশায়ী যে, তারা এতটাই নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে?
আদালতের নির্দেশে পুলিশ ফুটপাত দখলকারীদের যে তালিকা দিয়েছে, সেটা নিয়ে অসন্ত্মোষ প্রকাশ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ এসে বলেন, তাদের নামে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অনেকে বলেন, নেপথ্যের মূল হোতাদের নাম তালিকায় আসেনি। ফুটপাত দখলের নেপথ্যের এই কুশীলবদের বিরম্নদ্ধে পুলিশের জোরালো আইনানুগ ভূমিকা চান তিনি। এ জন্য বার অ্যাসোসিয়েশন যে সংগ্রাম শুরম্ন করেছে, এর শেষও দেখে ছাড়বে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স'র সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, ফুটপাত সমস্যা নিরসনে স্থায়ী সমাধান দরকার। হকাররা এখন ফুটপাত ছেড়ে রাস্ত্মা দখল করে ব্যবসা করছে। এই সমস্যা সমাধানে সিসিক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বসবে সিলেট চেম্বার।
তিনি বলেন, হকার সমস্যার কারণে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, সিলেটের পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত্ম। সিলেটে বেড়াতে আসা পর্যটকরা ফুটপাত ধরে এমনকি রাস্ত্মা ধরেও হাঁটাচলা করার জায়গা পান না। পুলিশি সহযোগিতা ছাড়া ফুটপাত ও রাস্ত্মা দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়।
এ জন্য সিসিককে দায়ী করে তিনি বলেন, 'আমরা ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে ট্যাক্স দিচ্ছি, সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। লাখো কোটি টাকা বিনিয়োগ করছি। কিন্তু বিনিময় কিছু পাচ্ছি না। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।'
সিলেটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নিকোলিন চাকমা বলেন, 'ভ্রাম্যমাণ খুদে ব্যবসায়ীদের আমরা তো সব সময়ই উঠিয়ে দেই। কিন্তু এরপরও তারা এসে বসে পড়ে। ফাঁড়ি পুলিশও তাদের তাড়িয়ে দিয়ে সামাল দিতে পারছে না। রাস্ত্মা ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনও জরম্নরি।'
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হকার তুলে দেয়া সিসিকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। পুলিশকেই শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। অভিযান চালালেও পরে এসে ঠিকই বসে যায় হকাররা। এ ক্ষেত্রে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close