ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরম্নদ্ধে পাল্টা মামলার আবেদন পুলিশেরঅপহরণের সত্যতা মেলেনিযাযাদি রিপোর্ট নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে যশোরের যাত্রীবাহী বাস থেকে উদ্ধার করা হয় কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে। এরপর আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি -ফাইল ছবিকবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণের অভিযোগের 'সত্যতা পাওয়া যায়নি' জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত্ম প্রতিবেদন দাখিল করে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে পাল্টা মামলা করার অনুমতি চেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার তদন্ত্ম কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাহবুবুল হক মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর আদালতে ওই প্রতিবেদন জমা দেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজাম উদ্দিন জানান।
তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতারের করা মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। আসল ঘটনা ওই মামলায় আড়াল করা হয়েছে- এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত্ম প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্ত্ম কর্মকর্তা।
'মিথ্যা তথ্য দিয়ে' মামলার দায়ের করায় ফরিদা আখতার ও ফরহাদ মজহারের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চূড়ান্ত্ম প্রতিবেদনে আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে এসআই নিজাম বলেন, আদালত আগামী ৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (পশ্চিম) গোলাম মোস্ত্মফা রাসেল বলেন, 'আমরা গত বৃহস্পতিবারই আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি। অভিযোগটি ছিল মিথ্যা। এ কারণে ফৌজদারি দ-বিধির ২১১ ও ২০৯ ধারায় ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে, যাতে তাদের এবং তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।'
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মামলার বাদী ফরিদা আখতার বলেন, 'পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত্ম আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদি ওই প্রতিবেদনই দিয়ে থাকে তাহলে তো আমাকে মিথ্যাবাদী বানানো হয়েছে।'
'যদি এটা দিয়ে থাকে তাহলে এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। পুলিশ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত্ম করেছে কি না- সে বিষয়ে আমি গ্যারান্টি চেই।'
গত ৩ জুলাই সকালে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বেরিয়ে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজ হওয়ার খবর আসে। ওইদিনই ফরিদা আখতার তার স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন যা পরে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
ডানপন্থি এই অধিকারকর্মীর অন্ত্মর্ধান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরম্ন করে সব মহলে আলোচনার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা পর গভীর রাতে নাটকীয়ভাবে যশোরে বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করের্ যাব-পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সেদিনই বলেছিলেন, অপহরণের কোনো নজির তারা পাননি; ফরহাদ মজহার নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে তারা মনে করছেন।
তবে ফরহাদ মজহার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে অপহরণের কথাই বলেন। তিনি সেখানে দাবি করেন, তাকে অপহরণ করে খুলনায় নেয়া হয়েছিল। অপহরণকারীরা তার কাছ থেকে মুক্তিপণও দাবি করেছিল।
এ বিষয়ে তদন্ত্ম শুরম্নর পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ১০ জুলাই ঢাকার আদালতে অর্চনা রানি নামে এক নারীকে হাজির করে। নিজেকে ফরহাদ মজহারের শিষ্য বলে জবানবন্দিতে দাবি করেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, সেদিন ফরহাদ মজহার তার জন্য অর্থ জোগাড় করতেই বেরিয়েছিলেন এবং ১৫ হাজার টাকাও পাঠিয়েছিলেন।
খুলনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের দোকানে ফরহাদ মজহারে যাওয়ার এবং ওই এলাকায় তার একাকী ঘোরাফেরার একটি ভিডিও পরে সাংবাদিকদের সরবরাহ করে পুলিশ। তদন্ত্ম প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, মামলায় অপহরণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা 'পুরোপুরি ভুয়া'।
ফৌজদারি দ-বিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্ত্মির বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করলে অথবা কোনো অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে মামলা দায়েরকারীকে দুই বছর পর্যন্ত্ম কারাদ- বা অর্থদ- কিংবা উভয় দ- দেয়া যাবে।
তবে অভিযোগের বিষয় যদি মৃতু্যদ-, যাবজ্জীবন বা সাত বছরের বেশি সাজার যোগ্য হয়, আর সেই অভিযোগ যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয় তাহলে মিথ্যা অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত্ম কারাদ-সহ অর্থদ- হবে।
আর ২০৯ ধারায় বলা হয়েছে, অসাধুভাবে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদ-সহ অর্থদ- হতে পারে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close