সিডরের ক্ষত শুকায়নি আজও১০ বছরেও নির্মাণ হয়নি টেকসই বেড়িবাঁধস্বদেশ ডেস্ক ঝালকাঠির রাজাপুরে সিডর বিধ্বস্ত্ম বেঁড়িবাধ আজও সংস্কার করা হয়নি -যাযাদিআজ ভয়াল ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এইদিনে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় 'সিডর' উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। এরপর ১০ বছর অতিবাহিত হলেও দুর্যোগকবলিত মানুষ আজও ঠিকমতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারগুলো সেই ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিনিধি এবং সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
বাগেরহাট/শরণখোলা : সিডরের দশ বছর কেটে গেলেও নির্মাণ হয়নি কাঙ্ক্ষিত টেকসই বেড়িবাঁধ। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ধীরে-ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেও এ অঞ্চলের লোক এখন চায় টেকসই বেড়িবাঁধ। বিধ্বস্ত্ম এ জনপদের মানুষ স্বজন হারানোর শোক ভুলে সে দিনের পর থেকে একটি টেকসই বাঁধের দাবিতে গড়ে তোলে আন্দোলন। সেই আন্দোলন চলতে থাকে বছরের পর বছর। এরই প্ররিপ্রেক্ষিতে অবশেষে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরম্ন হয়েছে ঠিকই। কিন্তু আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে শরণখোলাবাসীকে। নামে টেকসই বেড়িবাঁধ বলা হলেও বাস্ত্মব অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। মাটির কাজ চললেও নদী শাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই। বস্নক ডাম্পিং করে নদী শাসন না করেই নির্মাণ কাজ শুরম্ন করায় চলতি মাসে গাবতলা এলাকায় ৩ দফা বাঁধ ধসে পড়ছে। ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে 'সিএইচডবিস্নউই' নামে চায়নার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাটি ও বস্নক বাঁধ নির্মাণ কাজ বাস্ত্মবায়ন করছে। এর মধ্যে শরণখোলা উপজেলার চারটি ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটিসহ মোট পাঁচটি ইউনিয়ন সিইআরপি নামে এ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রায় দুই বছরে বলেশ্বর ও ভোলানদী বেষ্টিত শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/১ ও ৩৫/৩ পোল্ডারের ৬৫ কিলোমিটার বাঁধের প্রায় ৩০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এমনটা দাবি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাউথখালী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন তাফালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফরিদ খান মিন্টু, উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হালিম, বগি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত, চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আ. রাজ্জাকসহ অনেকই আক্ষেপ করে বলেন, সিডরের পর সরকারের কাছে শরণখোলার মানুষের প্রাণের দাবি ছিল একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। দীর্ঘ বছর পর তা শুরম্ন হলেও মানুষের মনে আশা জাগাতে পারেনি। টেকসই বাঁধের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। গাবতলা এলাকায় চলতি মাসে ৩ দফা ভেড়িবাঁধ নদীগর্ভে ভেঙ্গে গেছ্‌ে। একদিনে নদী ভাঙছে, অন্যদিকে মাটির পাহাড় গড়া হচ্ছে। নদীশাসন না করে বাঁধ মাটি দিয়ে যতই উঁচু করা হোক, তা কেনো কাজে আসবে না।
চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'সিএইচডবিস্নউই'র কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েল হ্যাসকনিং গ্রম্নপের সুপারভেশন ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে আশা করি। এক কিলোমিটার এলাকার নদী শাসন না করলে বাঁধ টিকবে না। সে কারণে বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রস্ত্মাবনা পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. মামুন উল হাসান বলেন, শরণখোলায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। কিছু কিছু জায়গায় বাঁধ ধসে যাচ্ছে। বাঁধ টেকসই করতে গেলে নদী শাসন ছাড়া টিকিয়ে রাখা কষ্টকর।
রাজাপুর (ঝালকাঠি): সিডরের ১০ বছরে উপজেলাবাসী ঘুরে দাঁড়ালেও বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে নানা ক্ষত। সেই ক্ষত আর আতঙ্ক এখনো তাড়া করে মানুষকে। ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যার সতর্ক বার্তা পেলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিষখালীবেষ্টিত বড়ইয়া ও মঠবাগি ইউনিয়নটির প্রায় অর্ধশত মানুষ। বিষখালীর নদীর সেই বিধ্বস্ত্ম বেড়িবাঁধ আজও সংস্থার হয়নি। বেড়িবাঁধ না থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি হলেই বাড়িঘর ও দোকানপাট পস্নাবিত হয়ে যায়। এখনও নির্মাণ হয়নি পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র বা সাইক্লোন সেল্টার। জোরে বাতাস শুরম্ন হলে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে বেড়ায় এখানকার মানুষ। ২৪০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় এবং ১০ ফুট উচু জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত্ম হয়েছিল বিষখালী নদী বেষ্টিত এ ইউনিয়ন দুটি। এখানকার মানুষদের নিরাপত্তায় সিডরের ১০ বছর পরেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : ২০০৭ সালের এইদিনে মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় শতাব্দীর অন্যতম ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে। ল-ভ- হয়ে যায় মির্জাগঞ্জের জনপদ। মির্জাগঞ্জের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর ও জলোচ্ছ্বাসে প্রাণহানি ঘটেছিল ১১৫ জন নারী, পুরম্নষ ও শিশুর। এছাড়া হাজার হাজার ঘর-বাড়ি, অগণিত হাঁস-মুরগি ও পশু সম্পদ এবং গাছপালা ছাড়াও প্রচুর ফসলহানি হয়েছিল। এলাকার লাখ মানুষ আজও এ রাতের কথা ভেবে কেঁদে ওঠে। সিডরের এত বছর পরেও স্বজন হারানোর ব্যাথা বুকে নিয়ে মানুষ স্মরণ করে সেই কালো রাত।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) : গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের ২৭ জন সেদিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান। এখনও ঝড়ের সেই ক্ষত ঘুচেনি। আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য কাঞ্চন বাড়িয়া গ্রামের আলী হোসেন ফকির জানান, প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর এলে এ গ্রামের মানুষের মনে অজানা এক আতঙ্ক দেখা দেয়। তবুও তারা জীবিকার প্রয়োজনে সাগরে ছুটে যান। ভয়াবহ পরিণতির কথা জেনেও জীবন বাজি রেখে মাছ ধরা পেশাকে বেছে নিয়েছিল গলাচিপার আমখোলা ইউনিয়নের কাঞ্চনবাড়িয়ার শতাধিক পরিবার। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর এই গ্রামের ২৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। এখনও সেই ক্ষত ঘুচেনি।
বরগুনা : পানির চাপে বুড়িরশ্বর, (পায়রা) বিষখালী ও বলেশ্বর নদীপাড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ৬৮ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায় ৩৭ হাজার ৬৪ একর জমির ফসল। সরকারি হিসেব অনুযায়ী বরগুনায় ১ হাজার ৩৪৫ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তবে বে-সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার এবং আহতের সংখ্যা ২৮ হাজার ৫০ জন। ভয়াবহ সিডরের ১০ বছর পার হলেও এখনও ১০০ কিমি বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় আছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। সিডরের দিন মাত্র আধাঘণ্টার তা-বে ল-ভ- হয়ে যায় উপকূল বরগুনাসহ বেশ কয়েকটি জেলা। প্রবল তোড়ে বেড়িবাঁধ উপচে এবং ভেঙে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহূর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্ত্মূপে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close