পূর্ববর্তী সংবাদ
চালের বাজারের লাগাম টানতে পারছে না নতুন ধানওস্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া বগুড়ায় ট্রাক থেকে ধান নামাচ্ছেন কয়েকজন শ্রমিক -যাযাদিমাঠে মাঠে চলছে নতুন ধান কাটার উৎসব। পালস্না দিয়ে হাটবাজারে ধানের আমদানিও ক্রমে বেড়ে চলছে। কিন্তু ধানের দাম কমছে না। ঊর্ধ্বমুখি চালের বাজারে এখনও নতুন ধান প্রভাব ফেলতে পারছে না। পাইকারি বাজারে কিছুটা চালের দাম কমলেও খুচরা বাজারে আপাতত দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
তবে শ্রমিক হারানোর ভয়ে চাতাল মালিকদের একটা অংশ মিল বন্ধ রাখতে পারছেন না। আর মিলের চাকা ঘুরাতে গিয়ে চাতাল ব্যবসায়ীদের কমবেশি লোকসান গুণতে হচ্ছে। চাহিদামতো বেপারী না থাকায় লোকসানেও চাল বিক্রি করতে পারছেন না তারা। উত্তরাঞ্চলের শস্যভা-ারখ্যাত বগুড়ার মোকামে চাল পাহাড় পড়ে রয়েছে অবিক্রীত অবস্থায়। এ মোকাম থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত্মে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ চাল কিনে থাকেন বড় বড় বেপারী বা মহাজনরা। কিন্তু স্থানীয় বাজারে চালের সংকট রেখে চাল কিনছেন ওইসব এলাকার বেপারী বা মহাজনরা। এতে খুচরা বাজারে চালের দাম কমছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
অথচ পাইকারি বাজার থেকে ঠিকই কম দামে চাল কিনছেন তারা। এতে মহাবিপাকে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। সব মিলে নতুন ধানও পারছে না চালের বাজারের লাগাম টানতে। বগুড়া জেলার ধান-চাল ব্যবসার সঙ্গে সংশিস্নষ্টদের সঙ্গে কথা হলে চালের ঊর্ধ্বমুখি বাজারদর সম্পর্কে ওঠে আসে এমন তথ্য।
বর্তমান বাজারে প্রতিমণ বিআর-৪৯ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১০৫০ টাকা দরে। সেই ধান কিনে চাতালে ফেলার পর সেদ্ধ-শুকানো শেষে মিলে ভাঙানো হয়। প্রতিমণ ধান থেকে বড়জোর ২৭ সের হারে চাল উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রতিমণ চাল ১৫২০-১৫৬০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিমণ চাল উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা।
এর মধ্যে সেদ্ধ, শুকানো, ভাঙানো, লোড-আনলোড খরচ রয়েছে। এ হিসেব মতে, প্রতিমণ চালের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের বর্তমানে ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত্ম লোকসান গুণতে হচ্ছে। অন্যান্য জাতের ধানের ক্ষেত্রে লোকসানের পরিমাণটাও প্রায় একই। এর মধ্যে আবার চাহিদামতো চাল কেনার বেপারী বা মহাজন নেই এই মোকামে।
জাহাঙ্গীর আলম ও আইয়ুব আলী জানান, বর্তমান বাজারে বিআর-৪৯ জাতের প্রতি বস্ত্মা (সাড়ে ৯৩ কেজি) চাল পাইকারি হিসেবে ৩৮০০-৩৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের ঊর্ধ্বমুখি বাজারের কারণে তাদের ওই হিসেব অনুযায়ী লোকসান গুণতে হচ্ছে। তাও আবার চাহিদামতো চাল কেনার পাইকারি ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের পুঁজি আটকে যাচ্ছে। চালে গুদাম ভরে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে পুঁজি ও পর্যাপ্ত জায়গার সংকট।
কিন্তু মিল-চাতাল চালু রাখার স্বার্থে আপাতত এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু খুচরা বাজারগুলোয় স্থানভেদে একই পরিমাণ চাল (প্রতি বস্ত্মা) ২৫০-৩০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান এই দুই ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, প্রত্যেক ব্যবসার একটা সিজন অফসিজন টাইম আছে। ধান-চাল ব্যবসার সেই সিজন টাইম শুরম্ন হয়েছে। নতুন ধান বাজারে এলে অন্ত্মত বিগত সময়ের ঝক্কি ঝামেলা সামলে নিয়ে অনেকটা নিশ্চিতে ব্যবসা করতে পারবেন। কিন্তু সেই আশায় ব্যবসায়ীদের এবার গুড়ে বালি। কারণ নতুন ধানের বাড়তি দাম তার মতো অন্য ব্যবসায়ীদের ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। মোখলেছুর রহমান, আব্দুল মজিদ, গোলাম রব্বানীসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসার নতুন মৌসুম শুরম্ন হওয়ায় চাতাল চালু রাখতে লোকসান মেনেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া চাতালে শ্রমিক থাকবে না। ভরা মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া যাবে না। তাই শ্রমিক ধরে রাখতে ব্যবসা চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close