নাটকীয় ম্যাচে ঢাকার জয়ক্রীড়া প্রতিবেদক কায়রন পোলার্ড: ২৪ বলে ৫৫কিছু বুঝে ওঠার আগেই টি২০ ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। সেটা ঘুরিয়ে দিতে কাউকে না কাউকে দারম্নণ কিছু করে দেখাতে হয়। মঙ্গলবার ঢাকা ডায়নামাইট-খুলনা টাইটান্স ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়ানোর মঞ্চ প্রস্তুত করতে তেমন দুটি ইনিংস উপহার দিলেন দুজন। প্রথমজন কার্লোস ব্রেথওয়েট, পরেরজন তারই স্বদেশি কায়রন পোলার্ড। ম্যাচ শেষে দ্বিতীয়জনের নামটাই বেশি করে আলোচনায়, নাটকীয় ম্যাচে পোলার্ডই যে ঢাকার ৪ উইকেটে জয়ের নায়ক। প্রথমজন সেখানে ট্র্যাজিক হিরো! ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাতে থাকা ম্যাচের শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ৬টি রান ব্রেথওয়েটের বলেই নিয়েছে ঢাকা।
সিলেটের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরম্ন করার পর খুলনা টাইটান্সকে হারিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরম্ন ঢাকার। পরে টানা দুই জয়ে নিজেদের শক্তি জানান দিয়েছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি। ফিরতি দেখায় রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে আবারও জয়ের হাসি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সঞ্জিবনী কাজে লাগিয়ে অবশ্য বোলিংয়ে উড়ন্ত্ম শুরম্নই করেছিলেন মাহমুদউলস্নাহরা। কিন্তু পোলার্ডের সব সম্ভবের ৫৫ রানের ইনিংসের কাছে শেষ পর্যন্ত্ম হারতে হলো খুলনাকে। দারম্নণ এই জয়ে সিলেটকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছে ঢাকা।
১৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে খুলনার বোলিংয়ে বিধ্বস্ত্ম হয়ে পড়ে ঢাকার ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ২৪ রানে ফিরে যান এভিন লুইস, শহীদ আফ্রিদি, ক্যামেরন ডেলপোর্ট এবং সুনিল নারিন। প্রথম ওভারে লুইসকে (৪) ফিরিয়ে আঘাতটা হানেন আবু জায়েদ। এরপর শফিউলের শিকার হন আফ্রিদি (১)। ডেলপোর্টও দাঁড়াতে পারেননি। আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ২ রানে। নারিনকেও (৭) থিতু হতে দেননি ধনঞ্জয়া। অধিনায়ক সাকিব চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধ গড়তে। দলীয় ৪১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২০ রানে তাকেও সাজঘরে ফেরান খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউলস্নাহ।
এই গুরম্নত্বপূর্ণ ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ঢাকা। ধুঁকছিল রান পেতে। সেই ঢাকাকেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আশার আলো দেখান পোলার্ড। ২৪ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। যেখানে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছয়! হুমকি হয়ে ওঠা এই তারকাকে সাজঘরে ফেরান শফিউল। ততক্ষণে ম্যাচে ফিরে এসেছে ঢাকা। এরপর অনেক চেষ্টাই করেছে খুলনার বোলাররা। একপর্যায়ে দুই বলে ৪ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার। নড়বড়ে এই পরিস্থিতিকে জয় করেন ম্যাচসেরা জহুরম্নল ইসলাম। চার মেরে হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ঢাকার দুই ব্যাটসম্যান জহুরম্নল ও মোসাদ্দেক। জহুরম্নল অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে আর মোসাদ্দেক ১৪ রানে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান তুলতে সক্ষম হয় খুলনা। নাজমুল হোসেন শান্ত্মর ২৪, রাইল রম্নশোর ৩৪ এবং ব্রেথয়েটের অপরাজিত ৬৪ রানে ভর করেই চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় মাহমুদউলস্নাহর দল। শুরম্নটা অবশ্য ভালো ছিল না তাদের। ১৪ বলে ১০ করা ক্লিঙ্গারকে ফেরান সাকিব। ২৫ বলে ২৪ করা শান্ত্মকে সাজঘরে পাঠিান নারিন। মাঝে ধুঁকতে থাকা ধীমান ঘোষকে (৯ বলে ২ রান) মুক্তি দেন আবু হায়দার। অধিনায়ক মাহমুদউলস্নাহও (১০ বলে ১৪) বেশিক্ষণ টেকেননি।
সেখান থেকেই খুলনার প্রতিঘাতপর্ব রম্নশো আর ব্রেথওয়েটের ব্যাটে। দুজনে দ্রম্নতগতিতে ৫৩ রান যোগ করেন। রম্নশো খানিকটা সাবধানেই ব্যাট চালিয়েছেন। আবু হায়দারের বলে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়ার আগে ৩ চারে ৩০ বলে ৩৪ রান তার। ব্রেথওয়েট শেষ অবধি ছিলেন, ২৯ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। যাতে ৪টি চারের সঙ্গে থাকল ৬টি ছক্কার মার। তাতেই দেড়শ পেরিয়ে যায় খুলনা। কিন্তু লাভ হয়নি তাতে। পোলার্ডের দুর্দান্ত্ম ব্যাটিংয়ে ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছে ঢাকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা টাইটান্স : ২০ ওভারে ১৫৬/৫ (নাজমুল হোসেন শান্ত্ম ২৪, মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ ১৪, ক্লিঙ্গার ১০, রাইলি রম্নশো ৩৪, কার্লোস ব্রেথওয়েট ৬৪*; আবু হায়দার ২/৪০, সাকিব আল হাসান ১/৩২, শহীদ আফ্রিদি ১/২৩, সুনিল নারিন ১/২২)
ঢাকা ডায়নামাইটস: ১৯.৫ ওভারে ১৫৭/৬ (সাকিব আল হাসান ২০, জহুরম্নল ইসলাম ৪৫*, কায়রন পোলার্ড ৫৫, মোসাদ্দেক হোসেন ১৪*; শফিউল ইসলাম ২/২৪, আবু জায়েদ ১/২৪, জফরা আর্চার ১/২৬, আকিলা ধনাঞ্জয়া ১/১৭, মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ ১/২৯)
ফল: ঢাকা ডায়নামাইট ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: জহুরম্নল ইসলাম
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close