নমনীয় কর্মসূচিও পর্যবেক্ষণেবিএনপির নিরম্নত্তাপে আ'লীগে অস্বস্ত্মিবিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, নানা উসকানিতে তাদের উত্তপ্ত আন্দোলনে নামাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাসীনরা এখন নানা প্রলোভন ও ভয়-ভীতিতে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের এ মিশনও ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা এখন অস্বস্ত্মিতে ভুগছে।সাখাওয়াত হোসেন জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া দ-িত হওয়ার পর থেকে বিএনপি 'নিরম্নত্তাপ' কর্মসূচিতে গ-িবদ্ধ থাকায় অস্বস্ত্মিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের বেশ ক'জন প্রভাবশালী নেতা নানামুখি উস্কানি দিলেও বিএনপি সে ফাঁদে পা না দেয়ায় তাদের মাঝে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা এখন বিএনপির 'নমনীয়' কর্মসূচিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এ মুহূর্তে বিএনপি রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন না করলেও মাস দু'য়েক পরই দেশজুড়ে জ্বালাও পোড়াও, ভাঙচুর, সহিংসতাসহ নানা উত্তপ্ত কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে। তাই সরকারবিরোধী এ দলটি এখন তাদের শক্তি ক্ষয় না করে তা সঞ্চয় করছে। এ সব আশংকা থেকেই তারা বিএনপির দায়সারা কর্মসূচি ও তাদের নেতাকর্মীদের গতিবিধি কঠোর নজরদারিতে রাখছেন বলে দাবি করেন তারা।
যদিও বিএনপি হাইকমান্ড এ সব বিষয়কে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নীতি-নির্ধারকদের দাবি, আওয়ামী লীগ নানা ফন্দি এঁটে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে এর দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে চায়। তাই বেশকিছুদিন ধরে নানামুখি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উত্তেজিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের সে 'কূটচাল' সবাই এখন বুঝতে পারায় তারা নিজেদের সামলে নিয়েছে, যা আওয়ামী লীগের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমরা জানি তারা (আওয়ামী লীগ) আমাদের অনেক উসকানি দেবে, ফাঁদ ফাঁদবে। কিন্তু কোনো ফাঁদে আমরা পা দেব না। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে।'
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আরও শক্তিশালী হয়েছে। সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙতে। কিন্তু তাদের সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের উসকানিতে দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সহিংস কর্মকা-ে জড়ায়নি। যা তাদের জন্য 'পস্নাস পয়েন্ট'।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, দুর্নীতির মামলায় বন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শক্ত আন্দোলনে নামার নৈতিক সাহস পাচ্ছে না বিএনপি। আর এ কারণেই এখন নমনীয় আন্দোলন করছে দলটি। তবে তার ধারণা, আগস্টের শেষের দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারো উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলনে মাঠে নামবে। ওই সময়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসবে। আর ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের বেলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিএনপি আবারো জ্বালাও-পোড়াও, খুন-সহিংসতার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে। যা নিয়ে সরকার দুঃশ্চিন্ত্মায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান বলেন, বিএনপি ইচ্ছা করেই নমনীয় আন্দোলন করছে- এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারা যে কোনো সময় যে কোনো অঘটন ঘটাতে পারে। বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে আবারো দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরম্ন করতে পারে।
এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তারা জানান, দুর্নীতির মামলায় কারারম্নদ্ধ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নিরম্নত্তাপ আন্দোলন নিয়ে তাদের কোনো অস্বস্ত্মি বা উদ্বেগ নেই। বরং বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে-পরে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনসমর্থন হারানোর শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় সরকারের উৎকণ্ঠা কমেছে। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামের নামে বিএনপি জনগণের জান-মাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। এ ব্যাপারে তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।
আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদ- হওয়ায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন। এ কারণেই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজপথে উত্তাপ ছাড়ানো থেকে দলটি দূরে সরে রয়েছে। এটি তাদের নৈতিক পরাজয়; রাজনৈতিক ব্যর্থতা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের অস্বস্ত্মিতে থাকার কিছু নেই।
এদিকে 'অহিংস' আন্দোলন নিয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি ব্যাখ্যা দিলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এ বিষয়টিকে 'ইতিবাচক' হিসেবে দেখছেন। তাদের ধারণা, আন্দোলন সংগ্রামের নামে বিএনপি রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও ও সহিংসতায় না নামায় সরকারবিরোধী এ দলটির জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। পক্ষান্ত্মরে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিকে 'অথর্ব' ও 'মুরোদহীন' দল বলে উসকানি দেয়ায় দেশের মানুষ এ বিষয়টি নেতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। যা পরবর্তীকালে তারা নিজেরাই বুঝতে পেরেছে। আর এ কারণেই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে আপাতত কম কথা বলতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি নেতাদের বলেছেন, খালেদা জেলে থাকা অবস্থায় এই ইসু্যতে বিএনপি জনগণের সহানুভূতি পেতে পারে, এমন কোনো বক্তব্য বা আচরণ করা যাবে না। এমনকি নেতাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা বা উস্কানিমূলক বক্তব্যও পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় সভাপতি।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা শেখ হাসিনার এই মৌখিক নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করে বলেন, 'খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে আমরা এমন কোনো বক্তব্য দেব না, যা বিএনপির পক্ষে যেতে পারে। আমাদের অবস্থান হবে- এটা বিচারিক বিষয়।'
এদিকে এ ইসু্যতে আওয়ামী লীগের চেয়ে আরো সতর্ক অবস্থানে থেকে পথ চলতে চায় বিএনপি। তাই রাজপথের উত্তপ্ত আন্দোলনে নামার বহুমুখি তাগিদ থাকলেও কৌশলে সে পথ পরিহার করে চলছে বিএনপি। এমনকি যে সব কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার শংকা রয়েছে সে সব কর্মসূচিও এড়িয়ে চলছে সরকারবিরোধী সর্ববৃহৎ এ দলটি।
দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করে তার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিয়ে আবারও নেতাকর্মীদের গণহারে ধরপাকড় ও মামলার জালে জড়াতে চায় সরকার। আর এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতাসীনরা তাদের দীর্ঘদিন ধরে নানা উসকানি দিচ্ছে। এমনকি তাদের নিরম্নত্তাপ কর্মসূচি পালনেও ক্ষমতাসীনরা নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। তবে বিএনপি 'টপ টু বটম' সবার কাছেই সে ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সবাই এখন সামলে চলছে।
দলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, শান্ত্মিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলা এবং গত তিন বছরে তাদের বড় কোনো সভা-সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়াসহ নানা কর্মকা-ে সরকারের অগণতান্ত্রিক স্বরূপ জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়েছে। তাই বড় ধরনের কোনো আন্দোলনে না গিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসমর্থন অর্জনে দলীয় নেতাকর্মীরা তৎপর হলে তা আগামী সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তারা।
বিএনপির প্রথম সারির একজন নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, এ সতর্কাবস্থা কাটিয়ে কবে নাগাদ তারা সোচ্চার আন্দোলনে নামবে তা এখনো তারা নির্ধারণ করেননি। এ জন্য যথোপযুক্ত সময়-সুযোগের অপেক্ষা করা হবে। ওই নেতার ভাষ্য, সরকারের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে অযথা এখুনি শক্তির অপচয় করা নেহাৎ বোকামি। তাই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত্ম নেবে।
তবে সরকারের নানামুখি নির্যাতনে কোণঠাসা হয়ে আত্মগোপনে কিংবা ধাওয়ার মুখে থাকা কর্মীরা যাতে হতাশাগ্রস্ত্ম হয়ে না পড়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের কৌশলে নির্বাচনমুখি হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন কিংবা অন্য কোনো ইসু্যতে অভ্যন্ত্মরীণ কোন্দল যাতে কোনোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর দিচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাবি, নানা উসকানিতে তাদের উত্তপ্ত আন্দোলনে নামাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাসীনরা এখন নানা প্রলোভন ও ভয়-ভীতিতে দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তাদের এ মিশনও ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা এখন অস্বস্ত্মিতে ভুগছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close