ভোটের হাওয়া হ ঢাকা-১৪আ'লীগে আসলাম-তুহিন বিএনপিতে আনজু-সাজুযাযাদি রিপোর্ট আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় নয় মাস। এ জন্য বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ কোনো দলেরই প্রার্থী চূড়ান্ত্ম হয়নি। কিন্তু প্রতিটি আসনে ইতোমধ্যে শুরম্ন হয়ে গেছে মনোনয় প্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতা। ব্যতিক্রম নয় ঢাকা-১৪ আসনটিও। এখানে প্রায় ২ লাখ ভোটারের ম্যান্ডেট নিতে বড় দুই দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নীরব মনোনয়ন যুদ্ধ।
তথ্যমতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুরের, শাহআলী ও দারম্নস সালাম এবং রূপনগর থানার আংশিক ও সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১৪ আসন গঠিত। এলাকাগুলো ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত্ম ঢাকা-১১ আসনের অন্ত্মর্ভুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ঢাকা-১১ আসনের এলাকাগুলো নিয়ে ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬; এই তিনটি আসন গঠন করা হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এ খালেককে হারিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি হন এ আসনের সংসদ সদস্য।
ঢাকার গুরম্নত্বপূর্ণ এ আসনটিতে এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের থেকে দলীয় মনোনয়ন চান তিনজন প্রার্থী। আর বিএনপি থেকে দুইজন। এখানে প্রকাশ্যে কেউ কারো বিরোধিতা না করলেও দুই গ্রম্নপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় রাজনীতি। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গ্রম্নপিং প্রাকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসলামুল হক আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হতে চান। আর একই দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনও এবার এ আসনে সরাসরি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন দারম্নস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপিও।
অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেক বার্ধক্যজনিত কারণে নিজে প্রার্থী না হয়ে ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজুকে প্রার্থী করতে চাইছেন। এ ছাড়া মনোনয়নের শক্ত দাবিদার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আনজু।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদ সদস্য আসলামুল হক টানা দুইবার সংসদ সদস্য থাকায় এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- করেছেন। তাই তিনি আবার এই আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন; দলের নীতিনির্ধারণীদের কাছেও প্রিয়ভাজন। দশম সংসদেরও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য। ঢাকা-১৪ আসনে তার বসবাস। সেই কারণে ওই এলাকায় তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা- চলিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন। নিজের এলাকা হওয়ার কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তিনি এ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চান। এ আসনে সরকারি দলে এই দুই সংসদ সদস্যের বাইরে আরো একজন সম্ভাব্য প্রার্থী দারম্নস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি। হ্যাপি মিরপুর বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, দারম্নস সালাম যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি আসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও তরম্নণ প্রজন্মের কাছে তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এদিকে গত কয়েক বছর মামলা, হামলা আর নির্যাতনের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। তাই এ আসনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে দলীয় অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু এরই মধ্যে নীরবে জনসংযোগ করছেন বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থীরা। ঢাকা-১৪ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এস এ খালেক। অসুস্থতার কারণে এবার তিনি মনোনয়ন চাইবেন না বলে জানা গেছে। তবে এস এ খালেক চান এ আসনে তার ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজুকে প্রার্থী করতে। এ জন্য তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং আগামী নির্বাচনে ছেলেকে মনোনয়ন দিতে খালেদা জিয়ার কাছে অনুরোধ করেন।
সূত্রমতে, এস এ খালেক বিএনপির থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন ১৯৭৯ সালে। এরপর এরশাদ আমলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পর পর দুইবার তিনি এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রম্নয়ারির একতরফা নির্বাচন এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এ সদস্য। ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু ১৯৯১ সাল থেকেই বাবার হয়ে প্রতিটি নির্বাচনে অন্ত্মরালে থেকে কাজ করেছেন। এবার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি।
এ প্রসঙ্গে এস এ খালেকের ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু বলেন, তার বাবা আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চাইবেন না। তার সমর্থন নিয়ে তিনি নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজও শুরম্ন করেছেন। তিনি বলেন, অনেক আগে থেকেই তিনি দলের হয়ে কাজ করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে কাজের মাত্রা আরো বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সব ধরনের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন।
আগামী নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বজলুল বাসেত আনজু। তিনি মিরপুর ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে শুরম্ন করেন রাজনীতি। ছিলেন অবিভক্ত মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে সভাপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত্ম আনজু ছিলেন ৭নং ওয়ার্ডের কমিশনার।
এ ব্যাপারে বজলুল বাসেত আনজু বলেন, এ আসন থেকে এস এ খালেক দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন। তিনি এখন অসুস্থ। আগামী নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাইবেন কি না জানা নেই। এলাকার মানুষ মনে করেন, পরিবর্তন দরকার, নতুন দরকার, দলের জন্য অবদান আছে এমন প্রার্থী দরকার।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম বলেন, এ আসনে কে মনোনয়ন পাবে তা আলস্নাহ আর শেখ হাসিনা ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেন না। মনোনয়ন সবাই চাইতে পারেন। এটা সবার অধিকার। যোগ্যতা আর বিবেচনার মাপকাঠি ঠিক করবে জনগণ, দল আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। এটা তার কাছে অপরাধও না।
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সবকিছুর জন্য প্রস্ত্মুত। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই তিনি আসলামুল হক আসলাম। কেউ চ্যালেঞ্জ দিলেই তো হবে না। এ জন্য প্রমাণ থাকতে হবে, দেখাতে হবে। তার নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ভূমিদসু্যতা এগুলোর কিছুই নেই। আগামী নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে তার বিরম্নদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ করা হয় তাহলে তা মোকাবিলায় প্রস্ত্মুত রয়েছেন। তার বিরম্নদ্ধে কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি প্রমাণ করতে পারবে না।
আগামী নির্বাচনে সরাসরি ভোটে অংশ নেয়ার প্রত্যাশী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, সব সময় এলাকার জনগণের পাশে আছেন। যখন এমপি ছিলেন না তখনও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তৃণমূল থেকে তার জন্ম। এলাকাবাসী মনে করেন, যদি মনোনয়ন পান তাহলে তাদের জন্য কাজ করতে পারবেন। এলাকার অনেক কাজ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফান্ড এনে কাজ করেছেন। এখানকার মানুষ বিশেষ করে তৃণমূলের আওয়ামী লীগের কর্মীরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তাকে পায়। মিরপুরকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে চান। আগামীদিনে মনোনয়ন পাবেন এ নিয়ে আশাবাদী।
আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী দারম্নস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি বলেন, তিনি এই এলাকার সন্ত্মান। ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সব সময় এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে আছেন। এই আসন থেকে তিনি নির্বাচন করতে চান। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্য কাজ করবেন বলে তিনিও মন্ত্মব্য করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close