পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ঢিমেতালদেলওয়ার হোসাইন আইন অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ বোর্ড গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। এরপর সরকার সেটা চূড়ান্ত্ম করবে। অথচ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বেতন কাঠামো নির্ধারণে তেমন কোনো কাজ হয়নি। নিম্নতম মজুরি হারের প্রস্ত্মাবও দেয়নি মালিকপক্ষ।
জানা গেছে, আগামী ২৫ এপ্রিল নিম্নতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা হবে। ওই সভায় মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের পক্ষে দাবি-দাওয়া ও পরামর্শ এবং নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ করবে। অথচ গত বছরের ৮ নভেম্বর শুরম্ন হয় পোশাক খাতে মজুরি পর্যালোচনার প্রক্রিয়া। দুই মাস পর গঠন করা হয় পর্যালোচনাকারী নতুন মজুরি বোর্ড। এর তিন মাস পর প্রথম সভার আয়োজন করেন নবগঠিত বোর্ডের সদস্যরা। তবে প্রথম সভায় গুরম্নত্বপূর্ণ কোনো বিষয় আলোচনা হয়নি। এরপর দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর দ্বিতীয় সভা বসছে। এই নির্দিষ্ট সময় এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা।
মজুরি বোর্ডের এক কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে বলেন, মালিকপক্ষের অনীহার কারণে পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে প্রচুর সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এর আগেও এমন হয়েছে। নিম্নতম মজুরি হারের প্রস্ত্মাব গতবার শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যথাসময় দেয়া হলেও মালিকপক্ষ দেয়নি। ফলে বেতন কাঠামো নির্ধারণে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছিল। বিভিন্ন সেক্টরে দুটি সভা করেই বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা যায়। কিন্তু পোশাকশিল্পে এটা সম্ভব হয় না। আইন অনুযায়ী, যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে মজুরি সুপারিশের সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা শেষ না হলে সময় বৃদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন বোর্ড সদস্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আমিনুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, প্রথম সভায় বেতন কাঠামো নিয়ে ততটা গুরম্নত্ব দিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। দ্বিতীয় সভায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষকে নিম্নতম মজুরি হারের প্রস্ত্মাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের সেই প্রস্ত্মাব পাওয়ার পর সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হবে। নির্দিষ্ট সময় কার্যক্রম শেষ হবে কিনা জানতে চাইলে সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেন না। তবে যেসব দাবি আসবে, তা এক এক করে পর্যালোচনা করা হবে। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করেই চূড়ান্ত্ম প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন এবং বিধিতে যেসব বিধান আছে, সে অনুযায়ী নূ্যনতম মজুরি নির্ধারণের কাজ করা হবে। একইসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের কী কী সুযোগ-সুবিধা ও অসুবিধা আছে, তাও পর্যালোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে একাধিক সংগঠনের একটি জোট স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে তারা তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য মূল বেতন ১০ হাজার টাকাসহ মোট ১৬ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এ ছাড়া গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ) নূ্যনতম মজুরি ১৮ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, গত পাঁচ বছরে দেশে মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে ৩০ শতাংশের বেশি। কিন্তু এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি বাড়েনি। এই শিল্পে ৪০ লাখের মতো শ্রমিক জড়িত, যাদের অধিকাংশই নারী। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও মজুরি কাঠামো সব কারখানায় ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পর পোশাক খাতেও বেতন বৃদ্ধির জন্য বড় রকমের আন্দোলন হয়েছিল। তবে আশুলিয়ায় শুরম্ন হওয়া এবং বেশ কয়েকদিন ধরে চলা সেই আন্দোলন শেষ হয়েছিল কোনো প্রতিশ্রম্নতি ছাড়াই।
এ ব্যাপারে মিরপুর ও তেজগাঁও এলাকার শ্রমিকরা যায়যায়দিনকে বলেন, তাদের নূ্যনতম বেতন বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করতে হবে। বর্তমানে চালের কেজি ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ১২০ টাকা। টাকার অভাবে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারেন না। একটা রম্নম ভাড়া যখন তিন হাজার দিতেন, তখন এই বেতনে সংসার চলত। কিন্তু এখন একটা রম্নম ছয়-সাত হাজার টাকা হয়েছে। মালিকরা বলছেন, ১৫ শতাংশ বাড়াবে। তারা চান, নূ্যনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা। আর বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা মিলিয়ে সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা।
শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু যায়যায়দিনকে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পোশাক শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে আইন অনুযায়ী, নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যেই শেষ করতে হবে। কারণ, মজুরি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও তা বাস্ত্মবায়ন করতে চায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই। ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয় সভা হবে। সেখানে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্ত্মারিত জানানো হবে।
শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও জাতীয় শ্রমিক লীগের নারী-বিষয়ক সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, দ্বিতীয় সভায় পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি হারের প্রস্ত্মাব দেয়া হবে। এ জন্য তারা কাজ করছেন। এ নিয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উলেস্নখ্য, দেশে ২০১৩ সালে পোশাক খাতের শ্রমিকদের নূ্যনতম মজুরি তিন হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ১৯৮৫ সালে এই খাতে নূ্যনতম মজুরি ছিল ৫৪২ টাকা। কয়েক দফা বাড়ানোর পর সর্বশেষ ২০১৩ সালে মজুরি বাড়ানো হয়। তবে প্রতিবার বেতন বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক আন্দোলন করতে হয়েছে শ্রমিকদের। এবারই প্রথম কোনো আন্দোলন ছাড়াই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য বোর্ড গঠনে সম্মত হয়েছে মালিকপক্ষ। শ্রম আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। এই বিধান বিবেচনায় এবার নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close