চার দিনেও অচলাবস্থা কাটেনি বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার বিপাকেফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ধর্মঘটের ৪র্থ দিনেও অচলাবস্থার অবসান ঘটেনি। গত মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে কর্মকর্তাদের সংঘর্ষ হওয়ার পর গতকাল বুধবার শ্রমিকদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে খনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে খনির সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রশাসনের সমঝোতা বৈঠকটি অমীমাংসিত অবস্থায় ভেঙে যাওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে অবরম্নদ্ধ হয়ে পড়ায় খনির সদর দপ্তরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করা দেশি-বিদেশি ৫০০ খনির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সেখানে আটকে পড়েছেন। তারা কেউ সেখান থেকে বের হতে না পারায় ওই পরিবারগুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ খাদ্য সংকট। এতে করে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে খনির সদর দপ্তরে বসবাস করা পরিবারগুলোতে। খনির সদর দপ্তরের ভেতরে বসবাস করা গাড়ি চালক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, বাড়িতে বাজার নেই, শিশুদের খাদ্যও নেই। একদিন পর রমজান মাস শুরম্ন হচ্ছে অথচ বাজার করা তো দূরের কথা, বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। একই কথা বলেন খনির সদর দপ্তরে বসবাসকারী ম্যানেজার প্রশাসন সৈয়দ হাছান ইমামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার কর্মকর্তাদের সাথে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষের কারণে আহত অনেক কর্মকর্তার অবস্থা অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে, খনিতে কর্মরত ৩১০ বিদেশি নাগরিক ও ২০০ বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবরম্নদ্ধ করে রেখেছে।
খনির সদর দপ্তরের মধ্যে বসবাস করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ খাদ্যর অভাব। অনেকের শিশু রয়েছে, সেই শিশুদের খাদ্যও সংকট হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় খনি অভ্যন্ত্মরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে প্রশাসনের একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সমঝোতা বৈঠকটি অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। ফলে আন্দোলনরত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সমঝোতা বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেদুল ইসলাম, পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। শ্রমিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম, ক্ষতিগ্রস্ত্ম গ্রামবাসীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মশিউর রহমান বুলবুর ও মিজানুর রহমান। শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি বলেন, শ্রমিকরা এক দিনও আন্দোলন করতে চায় না, কিন্তু আমাদের ন্যায্য অধিকার পূরণ করার জন্য দীর্ঘ ৯ মাস থেকে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, কিন্তু তারা শ্রমিকদের দাবি পূরণ করেননি, তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত্ম শ্রমিকরা এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে তিনি বলেন।
উলেস্নখ্য, গত ১৩ মে থেকে ১৩ দফা দাবিতে শ্রমিক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে আসছে বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত্ম গ্রামবাসী। শ্রমিক ও গ্রামবাসীর আন্দোলনের মুখে অবরম্নদ্ধ হয়ে পড়েছে খনির কার্যক্রমসহ খনির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close