খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনবিজয়ী মেয়রকে অভিনন্দনখুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। উলেস্নখ্য, তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়ারপ্রার্থী নজরম্নল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৬৭ হাজার ৯৪৬। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও খুলনা সিটির পঞ্চম নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে শান্ত্মিপূর্ণ ও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, অনিয়ম ও গোলযোগের কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, আগামী দিনের নির্বাচনগুলোতে যেন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাও না ঘটে, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ নেবে এমনটি কাম্য।
প্রসঙ্গত, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরম্নর পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টকে ঢুকতে না দেয়া, কয়েকজন এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ এসেছে। এ ছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি, আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরম্নল হুদার পদত্যাগও দাবি করেছে তারা, এমনটিও জানা গেছে। অন্যদিকে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী নজরম্নল ইসলাম মঞ্জু অপপ্রচার করছেন এমন অভিযোগ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।
আমরা বলতে চাই, গণতান্ত্রিক দেশে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেটি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বলা দরকার, মঙ্গলবার অর্থাৎ একই দিনে গাজীপুর সিটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হাইকোর্টের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়ে আছে। এরপর থেকেই গোটা দেশের মানুষের দৃষ্টি ছিল খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে। এখন ইসি আগামী দিনের নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এমনটি প্রত্যাশিত। মনে রাখা দরকার, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরম্ন হওয়ার পর থেকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনাও লক্ষ্য করা গেছে, এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল এবং লাগাতার পুলিশি অভিযান ও ধরপাকড়ের বিষয়টিও আলোচিত হয়েছিল।
আমরা বলতে চাই, জাতীয় নির্বাচনের মতো সবচেয়ে বড় ও গুরম্নত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রয়েছে। সে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব এই নির্বাচন কমিশনকেই পালন করতে হবে। এ জন্য ইসির দরকার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রশ্নাতীত আস্থা অর্জন। মনে রাখতে হবে, জনসাধারণের আস্থা অর্জন ইসির জন্য অত্যন্ত্ম জরম্নরি। আর রাজনৈতিক দলগুলোরও কর্তব্য হওয়া দরকার ইসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়া। অন্যদিকে যে কোনো নির্বাচনেই পুলিশের নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, সদাচার ও সমআচরণও প্রত্যাশিত। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নির্বাচনের দিনটি যে কোনো বিবেচনায় অত্যন্ত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ। অবাধ, সুষ্ঠু, শান্ত্মিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশিস্নষ্ট প্রত্যেককে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা প্রদর্শন করা আবশ্যক।
সর্বোপরি বলতে চাই, দেশে গণতন্ত্রের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতের জন্যও যে কোনো নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরম্নরি। এটা কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই যে, নির্বাচন কমিশনের প্রতি গণআস্থা ও সরকারের ভাবমর্যাদার প্রশ্নও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হলো কিনা তার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। দেশের প্রত্যকটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্ত্মিপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এমনটি দেশবাসী প্রত্যাশা করে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close