খুলনার অনিয়মকে পুঁজি করে কৌশল সাজাচ্ছে বিএনপিযাযাদি রিপোর্ট ব্যাপক অনিয়মের কারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি। এই অনিয়মকে পটুজি করেই পরবর্তী কর্মকৌশল ঠিক করছে দলটি। অনিয়মের আশঙ্কায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও পরবর্তীতে আর কোনো ধরনের নির্বাচন বর্জন না করার সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছে তারা।
খুলনার নির্বাচনের পর বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার সঙ্গে যায়যায়দিনের কথা হয়। তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচনে কারচুপি হবে জেনেই তারা অংশ নিয়েছেন। কারণ তারা দেখাতে চেয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের 'আশীর্বাদপুষ্ট' নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
নেতারা বলেন, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো বিএনপি ফের নির্বাচন বর্জন করম্নক এটাই চাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু গত বারের মতো আর কোনো সুযোগ ভবিষ্যতে দিতে চান না তারা। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি দেশবাসীর পাশাপাশি বিশ্ববাসী দেখেছে। আন্ত্মর্জাতিক মহলকে আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনিয়মের বিষয়গুলো দেখানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে খুলনার নির্বাচনের কেন্দ্রদখল, জালভোটসহ কারচুপির নানা চিত্র নিয়ে শিগগিরই বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে কী হতে পারে, সেই বিষয়টি তারা সেখানে তুলে ধরবেন। এর উদ্দেশ্য- নিরপেক্ষ সরকারের দাবির প্রতি সমর্থন আদায় ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এরই মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স বার্নিকাট খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশ প্রকাশ করার বিষয়টিকে ইতিবাচক মনে করছে বিএনপি। খুলনার অনিয়মের কারণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের জন্য আন্ত্মর্জাতিক মহল থেকে ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলেও দলের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন।
খুলনা নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, জালভোট, কেন্দ্রদখলসহ এমন কোনো কিছু নেই, যা এই নির্বাচনে হয়নি। তবে সবই হয়েছে নতুন মডেলে। এর জন্য একটি সুবিধা অবশ্য হয়েছে কারচুপির আরও ধরন সম্পর্কে দেশ ও আন্ত্মর্জাতিক মহল অবহিত হয়েছে। যা পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ ও সতর্ক হওয়ার জন্য কাজে আসতে পারে।
বিএনপি সূত্রমতে, অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনতেই খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ না করার নির্দেশনা ছিল। নেতাকর্মীদের বলা হয়েছিল, মামলা ও হামলার ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিরোধে যাওয়ার দরকার নেই। কারণ, এখন মামলা ও হয়রানির শিকার হলে আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীরা মাঠে থাকতে পারবেন না।
বিএনপি নীতি নির্ধারণী ফোরামের সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত্ম নেয়া কঠিন। আর জুলাইয়ের মধ্যে চেয়ারপারসনের মামলার আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ নতুন ভাবনায় ফেলেছে তাদের। একের এক নির্বাচনের ফল জোর করে ছিনিয়ে নেয়া এবং চেয়াপারসনকে কারাগারে রাখা ক্ষমতাসীনদের একটাই উদ্দেশ্য। তা হলো, বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনের বাইরে রাখা। এই উদ্দেশ্য এবার কিছুতেই সফল হতে দেয়া যাবে না। চেয়াপারসনের পর দলের সিনিয়র নেতাদের কারাগারে পাঠানো হলেও প্রয়োজনে জুনিয়রদের সামনে রেখে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাবে।
বিএনপি সূত্রমতে, খুলনা নির্বাচনে কারচুপির ইসু্যকে কাজে লাগিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার লক্ষ্যে সব সিটি নির্বাচনে অংশ নেবে। আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। ওই নির্বাচনে কারচুপি হলে তখন নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিতে তাদের চলমান আন্দোলন জোরদার হবে। সেই আন্দোলনে নাগরিক সমাজ, সাধারণ জনগণ এবং দেশি-বিদেশি শক্তির সমর্থন পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
খুলনা নির্বাচনের পরে দলের পরবর্তী কর্মকৌশলের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর বলেন, খুলনায় জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় খুলনায় সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। সিটি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ফলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনই এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আর বিএনপি ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন করছে। এই নির্বাচনের পর চলমান আন্দোলনের গতি আরও বাড়বে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close