জয়ের গল্পসুমনা হক নাসিমা আক্তার নিশা নাহিদা আক্তারবাংলাদেশে নারীরা নানারকম প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিজের মেধা আর শিক্ষার সাহায্যে সমাজে অবদান রাখছেন। স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। সহযোগিতা করছেন নিজের পরিবারকে। এরকম উদাহরণ এখন কম নয়। এরকম দুজন নারী হলেন নাহিদা আক্তার এবং নাসিমা আক্তার নিশা।
নাহিদা আক্তার : নাহিদা আক্তার সাহস ধৈর্য্য লক্ষ্য আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্জন করেছেন সম্মানজনক বিভিন্ন পদ। তিনি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে উচ্চশিক্ষাকে অনুৎসাহিত করা হতো। মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। তারপরও শিক্ষা এবং কর্মের মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করে তুলতে পিছপা হননি নাহিদা।
বিয়ের পরপরই তার একটি ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়। তখন তার সার্জারির ফান্ড বৃদ্ধির প্রয়োজনে একটি ওপেন কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
শারীরিক অসুস্থতা, অর্থনৈতিক সমস্যা এবং মানসিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সে তার পরিবারকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য বাচ্চাদেরকে পড়ানো শুরম্ন করেন। ২৩ বছর বয়সে নাহিদা সুন্দর একটি কন্যা সন্ত্মানের মা হন। মা এবং স্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাহিদা সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি সমাপ্ত করেন।
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করার সময়ই তিনি আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেড এ ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরম্ন করেন। এই সময়ে ডায়াগনসিতে ধরা পড়ে যে তার কন্যা শিশুটির এপিলেপসি হয়েছে। এমন সময় সংসার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। নাহিদা সেপারেশন নিতে বাধ্য হয়। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নাহিদা আক্তার এখন আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের স্ট্রাটেজিক বিজনেস বিভাগের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়েকে সুশিক্ষা দিচ্ছেন।
নাহিদা আক্তার আমরা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। শুরম্ন করেন ফ্রন্ট ডেস্ক কর্মকর্তা হিসেবে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কাজ করেন। কোম্পানির লক্ষ্য অনুধাবন এবং কোম্পানির সেল রেট বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে দারম্নণ অবদান রাখেন। শাহজালাল আন্ত্মর্জাতিক বিমান বন্দরের ওয়াইফাই প্রদানের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করেন।

নাসিমা আক্তার নিশা : নাসিমা আক্তার ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।
নিজের সম্পর্কে নিশা বলেন, আমি বাবা-মায়ের ছোট মেয়ে। আমার বাবার নাম হাজি মো. সাহাব উদ্দীন আর মায়ের নাম সাজেদা বেগম। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং দানবীর ছিলেন।
হবাবার সঙ্গে সব সময় অফিসে যেতাম আমি। কিন্তু কখনো বিজনেসে ঢোকার কোনো ইচ্ছে ছিল না আমার। ছোটবেলা থেকে খুব ইচ্ছে ছিল ষধুিবৎ হওয়ার। তবে ইন্টারমিডিয়েটের পর তা চেঞ্জ করতে বাধ্য হই। আমাদের সময় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ল'-এর তেমন কোনো কোর্স ছিল না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে ল'-এ অনার্স করতে হতো। আর আব্বা এতদূর যেতে দিতে রাজি হননি। তাই আমি ও জোর করিনি। তারপর কমার্স নিয়ে পড়াশোনা। ২০০৩ সালে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামীর নাম ফয়সাল আহমেদ সিকদার। আমরা স্কুল ফ্রেন্ড ছিলাম।
আমার আব্বা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন হঠাৎ করে। তখন আমাকে আমার বিজনেসে আসতে হলো। এভাবেই শুরম্ন হয় আমার কর্মজীবন।
২০১১ সালে সন্ত্মান আয়ানের জন্ম হয়।
আমার জীবনে আমার আদর্শ মানুষ হচ্ছেন আমার বাবা। যখন খুব হেরে যাই, তার কথা চিন্ত্মা করি, আমি আবার তখন মনোবল ফিরে পাই। ওনার অনুপ্রেরণায় আজ আমি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি নিজেকে।
নিজের উদ্যোগগুলো নিয়ে নিশা বলেন, চেষ্টা করেছি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু করার। জানি না কতটুক সময়োপযোগী কাজ করতে পেরেছি। আমার প্রথম উদ্যোগ আমার আব্বা কে নিয়ে। আমি উনার নামে একটা বৃত্তি পরীক্ষা চালু করেছি। নাম হচ্ছে, 'হাজি সাহাব উদ্দীন স্মৃতি বৃত্তি' ২০০৬ সাল থেকে এটার কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। ক্লাস থ্রি থেকে এইট পর্যন্ত্ম বাংলা মিডিয়াম স্কুলের বাচ্চাদের মাঝে এ বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। আমার দ্বিতীয় উদ্যোগটি হচ্ছে একটি ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। ঐ.ঝ চৎড়ঢ়বৎঃরবং উবাবষড়ঢ়সবহঃ. আমার ভাইদের নিয়ে আমি এই কাজটি শুরম্ন করি। তবে খুব বেশি দূর এগোতে পারিনি। আমার আব্বা ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিজনেসে ছিলেন। উনি অসুস্থ থাকাকালে আমি তার বিজনেসে বসা শুরম্ন করি। কিন্তু নতুন ভাবে একটা ল্যান্ড বিজনেস শুরম্ন করে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক কঠিন। যার কারণে আমি সেটা মরাব ঁঢ় করি।
আমার তৃতীয় উদ্যোগটি হচ্ছে সফটওয়্যার কোম্পানি, জবাবৎরব . আমার খুব গেমিং এর শখ ছিল। রাত জেগে ভধৎসারষষব খেলতে খুব পছন্দ করতাম। ভধৎসারষষব খেলাটি ছিল মূলত ফেসবুক গেম। আমি খুব চেষ্টা করতাম খেলাটি মোবাইলে খেলার জন্য। তখন সেটার মোবাইল ভার্সন আসেনি। ওই সময় আমার মাথায় এলো, এমন কিছু কি করা যায়, যা দিয়ে আমি মোবাইল এ গেম বানাতে পারব, খেলতে পারব। প্রথমে এক রিলেটিভের সঙ্গে শেয়ার করলাম, পার্টনারশিপে শুরম্ন করলাম। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারিনি। তারপর কিছু ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে শুরম্ন করলাম আমার জবাবৎরব. ৎবাবৎরব যাত্রা শুরম্ন করল ২০১১ তে। এন্ড্রোইড অ্যান্ড আই ফোনের এপিকেশন আর গেম দিয়ে শুরম্ন করলেও এখন সে মোটামুটি সব :বপয ংড়ষঁঃরড়হ ই দিয়ে থাকে।
ওই সময় যদি আমার ফ্রেন্ড লিমা সাকিব ভাই আর সাগর হেল্প না করতো, আজ ৎবাবৎরব কখনোই এখানে আসতে পারতো না
আমার পরের উদ্যোগটি হচ্ছে একটি গার্মেন্টস, যার নাম এক্সপোটেক্স ফ্যাশন। এটা ও ২০১১ তে স্টার্ট করি। প্রথম দিকে ভালোই করছিল কিন্তু রানা পস্নাজা ধ্বংস হওয়ার পর থেকে এটার কাজ কমতে থাকে। আস্ত্মে আস্ত্মে লসের দিকে যেতে থাকে। তারপর ২০১৫ সালে একটা ফাইনালি ষধু ড়ভভ করে দেই। এর ভিতর ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ই-ক্যাব) জয়েন করি ডিরেক্টর হিসেবে। আমার রিসেন্টলি আরেকটি উদ্যোগ হচ্ছে ডড়সবহ ধহফ ঊ-পড়সসবৎপব (ডঊ) ভড়ৎঁস. অক্টোবর-২০১৭তে আমি এটা স্টার্ট করি। এটা করার পেছনে উদ্দেশ্য হচ্ছে যেসব মেয়ে ই-কমার্স বিজনেসে আছেন কিন্তু দিকনির্দেশনা জানেন না, তাদের সাহায্য করা এবং যারা এই বিজনেস এ আসতে চান, তাদের কে সঠিক গাইডলাইন দেয়া।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close