গৃহহীন বস্তিবাসী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেইবস্তিবাসীর সম্বল বলতে তাদের তৈরি ছোট ছোট ঘরবাড়ি। যারা সারাদিন পরিশ্রম করে এসে এখানে কোনোরকমে মাথা গুঁজে জীবনটা সচল রাখে। কিন্তু এ রকমের বস্তি যখন কোনো কারণে উচ্ছেদ হয় কিংবা পুড়ে যায় তখন তাদের জীবন যে কী পরিমাণ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অবস্থা থেকে বস্তিবাসীকে পরিত্রাণ দিতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনের তথ্যে জানা যাচ্ছে, এক অগি্নকা-ের ঘটনায় বালুর মাঠের বস্তিবাসীদের প্রায় ৪০০ পরিবারে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপদ। খোলা মাঠে রাতযাপন করতে হচ্ছে তাদের। এমনকি আশ্বাস পেলেও আশানুরূপ ত্রাণ মেলেনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে আছে পরিবারের শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খোলা আকাশের নিচে তাদের বসবাস এক ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করেছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লেগে এ ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আর ততক্ষণে অবস্থা এমন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্থানটি দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে বস্তিঘর ছিল। অত্যন্ত বিপজ্জনক এ ঘটনার মধ্যেও একটি বিষয় ঘটেছে, ঈদের কারণে অনেক লোক গ্রামের বাড়ি ও অনেকে ঘরের বাইরে থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিভিন্ন সময়েই দেশে দুর্যোগ নেমে আসে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা ধরনের বিপদকে মোকাবেলায় এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও অপরিসীম। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এ বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থার কথা জানালেও সরকারি ত্রাণ কখন আসবে তা নিয়ে উৎকণ্ঠা থেকে কেউই মুক্ত নয়। বস্তিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগেরই অভিযোগ_ জেলা প্রশাসনের লোকজন নাম লিখে নিয়ে গেছেন, কিন্তু কোনো সাহায্য পাননি। যদিও দেরিতে হলেও গত রোববার বস্তিতে অগি্নকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। এবং জানা গেছে প্রাথমিকভাবে ডিএমপির পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য তিনি আহ্বানও জানিয়েছেন।
আরেকটি বিষয় হলো_ ২৪ জন মালিকের এ বস্তিতে ৪৬টি লাইনে ঘরগুলো ছিল। এতে অগি্নকা-ের ঘটনায় সব ঘরদোর পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও আগুন লাগার পর থেকেই মালিকদের কারো দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এ দিকটিকে আমরা একটি ভয়াবহ অমানবিকতা হিসেবেই উল্লেখ করতে চাই, কেননা এসব মালিকই বস্তিবাসীর অভিভাবকের মতো কিন্তু এ দুর্দিনে কেন তাদের এ পলায়নপরতা_ তা স্পষ্ট নয়।
বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সরকারকে বলতে চাই, ঘটনার যথাযথ তদন্ত করুন এবং একই সঙ্গে এ নাজুক অবস্থা মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিন। আর এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হলেও কেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব নিতে পারে নি_ তা আমাদের বোধগম্য নয়। এরকম বিপদের মধ্যে ত্রাণ ও উদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হলে শত শত মানুষের জীবন বিপন্নতার মধ্যে পড়ে যায়। তাই আমরা আশা করছি, সরকার খেটে খাওয়া গৃহহীন এসব মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ দুর্দিনে এগিয়ে আসবে বলেও আমরা বিশ্বাস করি। কেননা এসব শত শত বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলো বিত্তবানদের অল্প সহযোগিতা পেলেও স্বাভাবিকভাবেই তাদের বাঁচার পথ আবারো সহজ হতে পারে, নবোদ্যমে জেগে উঠতে পারে তারা।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close