পূর্ববর্তী সংবাদ
চরফ্যাশনে হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু ওয়াচ টাওয়ারচরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা ভোলার চরফ্যাশনে নির্মাণাধীন ওয়াচ টাওয়ার _যাযাদিভোলার চরফ্যাশনে ২১৫ ফুট উঁচু ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে। চরফ্যাশন শহরের খাসমহল মসজিদ ও ফ্যাশন স্কয়ারের পাশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে টাওয়ারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। লিফট সংযুক্ত টাওয়ারে উচ্চ ক্ষমতার বাইনোকুলার থাকবে। যাতে ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার সবকিছু অনায়াসে দেখা যায়।
প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন টাওয়ারটি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করবে। ইতোমধ্যে চর কুকরিমুকরি, ঢালচরসহ আশপাশের বনাঞ্চলে ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়ালেই পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীর শান্ত জলধারা, পূর্বে মেঘনা নদীর উতাল-পাতাল ঢেউ, দক্ষিণে চর কুকরি-মুকরিসহ বঙ্গোপসাগরের অথই জলরাশি নজরে পড়বে। চরফ্যাশনের দক্ষিণে সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুকরিমুকরি, ঢালচর, তারুয়া সৈকত প্রকৃতির এক অপার সৃষ্টি। কয়েক বছরে এসব স্পট ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব স্পটে দর্শনার্থী আসছেন। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে হরিণ, বানর, বন মোড়গসহ নানা বন্যপ্রাণী রয়েছে। কিন্তু সেখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো কোনো স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে চরফ্যাশনে দৃষ্টিনন্দন টাওয়ারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন টাওয়ার দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে যাচ্ছেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী বাদল দেবনাথ জানান, টাওয়ারকে কেন্দ্র করে চারপাশে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা বেড়ে গেছে। এলাকার জমির দামও বাড়ছে। চরফ্যাশনের আর্থসামাজিক চিত্র দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে।
সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০টি পাথর ঢালাই পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর টাওয়ারটি সম্পূর্ণ ইস্টিলের তৈরি। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় টাওয়ারের চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি থাকবে ১৬ জন ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ারের চারদিকে অ্যালুমোনিয়ামের ওপর ৫ মিলি ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস থাকবে। এক হাজার বর্গফিটের ১৭তম তলায় বিনোদনের নানা ব্যবস্থা থাকবে। একসঙ্গে দুই শত পর্যটক সেখান থেকেই শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যে কুকরি-মুকরি, তারুয়া দ্বীপসহ চারপাশের একশত বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দেখতে পাবেন। এ ছাড়া থাকবে বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের সুব্যবস্থা। টাওয়ারটির মূল উচ্চতা ১৮৫ ফুট। এর ওপর রয়েছে ৩০ ফুট দীর্ঘ সুদৃশ্য ফলক। ঢাকার কারওয়ান বাজার হাসনা টাওয়ারের আর্কিট্যাক্ট ফোরাম নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ঢাকার কারওয়ান বাজারের ইউনুছ-আল মামুন জয়েন্ট ভেঞ্চার সরকার স্টিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
চরফ্যাশন পৌরসভার প্যানেল মেয়র বাদলকৃষ্ণ দেবনাথ জানান, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালের শেষদিকে টাওয়ারটি উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব জানান, দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা জনপদ হিসেবে পরিচিত চরফ্যাশনজুড়ে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ারের আদলে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চরফ্যাশনসহ ভোলাকে আলাদা পরিচিতি দেবে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা চরাঞ্চল বিশেষ করে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা জুড়ে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close