পূর্ববর্তী সংবাদ
বাং লা দে শ কৃ ষি বি শ্ব বি দ্যা ল য়মৎস্য ক্ষতরোগ প্রতিকার উদ্ভাবনবাংলাদেশে শীতকালে বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ সময় পানির তাপমাত্রা কম থাকায় (২৪-১৪ সে) মাছের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি কমে আসে। ফলে মাছের খাবার আসত্তি কমে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ দুর্বলতার সুযোগে জীবাণুগুলো মাছকে আক্রান্ত করে ক্ষতরোগসহ অন্যান্য রোগ জন্ম দেয়। এ ছাড়া বর্ষাকালের শুরুতেও ক্ষতরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ক্ষতরোগ সৃষ্টিকারী মূল উপাদান একটি বিশেষ শ্রেণির ছত্রাক, অযঢ়ধহড়সুপবং রহ াধফধহং, যা মাছের দেহে ক্ষতের মাধ্যমে প্রবেশ করে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীও সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের কারণে হতে পারে। উপরোক্ত অণুজীব ও পরিবেশগত চাপের ফলে মাছে ক্ষত সৃষ্টি হলে তার মাধ্যমে উল্লেখিত ছত্রাকটি আক্রমণ করেমো. ইউসুফ আলী, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, রোগের প্রাদুর্ভাব ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্য আশঙ্কাজনকহারে হ্রাস পাচ্ছে। মাছে রোগবালাইয়ের আক্রমণ হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পেঁৗছানো সম্ভব হয় না। মাছের বিভিন্ন রোগের মধ্যে ক্ষতরোগ খুবই মারাত্মক এবং গুরুত্বপূর্ণ। মাছের ক্ষতরোগ একটি সংক্রমণ রোগ। তাই এ রোগটি ধীরে ধীরে এক দেশ থেকে আরেক দেশে সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের দেশের প্লাবনভূমি ও বিলে ছোট মাছের পরিমাণ ১০ থেকে ৭০ ভাগ কমে আসছে, যার অন্যতম কারণ হিসেবে ক্ষতরোগকে ধরে নেয়া হচ্ছে।
ক্ষতরোগে আক্রান্ত মৎস্য প্রজাতি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুদীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তার সুদীর্ঘ ১৫ বছরের গবেষণায় ২৫টি মাছে ক্ষতরোগে আক্রান্ত হওয়ার নিদর্শন পেয়েছেন। এ ছাড়াও আরো ৫০ প্রজাতির মাছের ক্ষতরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর তিনি পেয়েছেন। মাগুর ও শোল জাতীয় মাছ ক্ষতরোগে বেশি আক্রান্ত হয় বলে ড. গিয়াস তার গবেষণায় পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়াও শোল, গজার, টাকি, বাইম, শিং, মাগুর, ভেদা, খলশে, মলা, বেলে, চান্দা, কই, দেশি পুঁটি, পাবদা, পাঙ্গাশ, আফ্রিকান মাগুর, কার্প জাতীয় মাছ এবং বিদেশি মাছের মধ্যে থাই পাঙ্গাশ, থাই সরপুঁটি, থাই কই, সিলভারকার্প ও কমনকার্পের মধ্যে ক্ষতরোগের লক্ষণ খুঁজে পান তিনি।
ক্ষতরোগের সময় ও কারণ সম্পর্কে ড. আহমেদ সংক্রামক প্রজাতি সম্পর্কে জানান, বাংলাদেশে শীতকালে বিশেষ করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ সময় পানির তাপমাত্রা কম থাকায় (২৪-১৪ সে) মাছের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি কমে আসে। ফলে মাছের খাবার আসত্তি কমে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ দুর্বলতার সুযোগে জীবাণুগুলো মাছকে আক্রান্ত করে ক্ষতরোগসহ অন্যান্য রোগ জন্ম দেয়। এ ছাড়া বর্ষাকালের শুরুতেও ক্ষতরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ক্ষতরোগ সৃষ্টিকারী মূল উপাদান একটি বিশেষ শ্রেণির ছত্রাক, অযঢ়ধহড়সুপবং রহ াধফধহং, যা মাছের দেহে ক্ষতের মাধ্যমে প্রবেশ করে সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও পরজীবীও সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের কারণে হতে পারে। উপরোক্ত অণুজীব ও পরিবেশগত চাপের ফলে মাছে ক্ষত সৃষ্টি হলে তার মাধ্যমে উল্লেখিত ছত্রাকটি আক্রমণ করে।
ক্ষতরোগের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ড. গিয়াস আহমেদ বলেন, ক্ষতরোগ একবার চলে এলে বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। রোগের বিভিন্ন জীবাণু যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইট ও ছত্রাক ক্ষতের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে রোগটিকে জটিল করে তোলে। তবুও যেসব পদ্ধতি নেয়া যায় তা নিম্নরূপ_ শীতের বা রোগের শুরুতে কলা গাছের ছাই বা খড়ের ছাই প্রয়োগ করা (শতাংশে ১ কেজি)। নিমবীজ গুঁড়া করে পুকুরে প্রয়োগ করা (শতাংশে ১ কেজি)। ডিমওয়ালা মাছকে পুকুরের কোনার স্বল্পপরিসরে নিয়ে এসে জালের মধ্যে মাছগুলোকে ০.৫ পিপিএম পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্বারা ধোয়া। এভাবে পর পর তিন-চার দিন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক যথা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন বা টেরামাইসিন প্রতি কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে ৬০-১০০ মিলিগ্রাম হারে মিশিয়ে পর পর সাত দিন খাওয়াতে হবে। অক্সিটেট্রাসাইক্লিন বা টেরামাইসিন প্রতি কেজি মাছের দেহ ওজনের জন্য ২০-২৫ মিলিগ্রাম সপ্তাহে একবার, পরপর তিন সপ্তাহ ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষতরোগ বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধন করে আসছে। পুকুর ও খামারে মাছ চাষের সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা উচিত যাতে জলাশয়ে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা না যায়। জলাশয়ে মাছের বাসস্থান, প্রজনন ক্ষেত্র ও মাছ চলাচলে বাধা এসে মাছের ওপর যাতে চাপ সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকার ব্যবস্থাই উত্তম_ এ চিন্তা মাথায় রেখে এ রোগ নির্মূলের জন্য মাষ চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে হবে। যেহেতু শীতকালে ক্ষতরোগ বেশি দেখা দেয়, তাই শীতের শুরুতে রোগের প্রতিরোধের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন ড. আহমেদ।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close