কৃষি উৎপাদন পরবর্তী ধাপগুলো অবহেলিতমনিরুজ্জামান কবির একটা সময় কৃষি ছিল ঘাটতি মোকাবেলার হাতিয়ার। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটানোর এ ছাড়া বিকল্পও ছিল না। কিন্তু বর্তমানে কৃষি উৎপাদনব্যবস্থাকে উদ্বৃত্ত ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে হবে এবং কৃষি ক্ষেত্রে পাল্টাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি। উৎপাদনের পরিমাণগত বৃদ্ধির কারণেই এখন নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ফসলের যুক্তিসঙ্গত মূল্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত 'কৃষি ও কৃষি ব্যবসায়ের নতুন ভাবনা : জাতীয় বাজেট কীভাবে কৃষিপ্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে পারে' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
সিডিসিএস, বিসেফ ফাউন্ডেশন, অ্যাগবি অ্যাল্যায়েন্স আয়োজিত এ গোলটেবিলে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর আবদুর রব, ড. রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক, বিএআরসির সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়াইস কবির, কৃষিবিষয়ক অনুষ্ঠান মাটি ও মানুষের উপস্থাপক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিক, কৃষি উদ্যোক্তা মো. মাসুম, কৃষক মতিন সৈকত, সানোয়ার আহমেদ প্রমুখ। গোলটেবিল মডারেশনের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আসাদুজ্জামান।
গোলটেবিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিডিসিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফারজানা মোরশেদ, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিসেফ-এর মহিদুল হক খান। মূল আলোচনা উত্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের প্রফেসর শেখ মোরশেদ জাহান।
আলোচনায় কৃষি উৎপাদনের যে সফলতা বহমান তাকে আগামী দিনে আরো বিকশিত করার লক্ষ্যে কৃষিকে নতুন করে ভাবার তাগিদ দেয়া হয়। বলা হয়_ কৃষিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রাইভেট সেক্টর। অথচ এ সেক্টরটি বিকাশের ক্ষেত্রে সুসমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে।
বক্তারা বলেন, উৎপাদন নিয়ে যতটা মনোযোগ দেয়া হয়েছে, উৎপাদনের পরের স্তরগুলো ততটাই অবহেলিত। উত্তোলন-পরবর্তী ক্ষতি, মূল্য সংযোজন প্রক্রিয়ার অনুপস্থিতি কৃষকের কষ্টের উৎপাদনকে অর্থহীন করে ফেলেছে। আবার উৎপাদিত পণ্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও অনিরাপদ উপাদানযুক্ত করার ফলে খাদ্য পরিণত হচ্ছে অখাদ্যে। এসব কারণেই কৃষিব্যবস্থার দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
গোলটেবিলে বলা হয়_ আগামীতে কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা থেকে বিক্রয় পর্যন্ত সবস্তরে সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ এবং একই সঙ্গে পোস্ট হার্ভেস্ট স্তরের কর্মকা- বেগবান করা উচিত। সুপারিশমালায় আরো বলা হয়_ কৃষক ও ভোক্তার মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করবেন ব্যবসায়ীরা। সে ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কৃষি ব্যবসায় বিকাশে সহায়তার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা উচিত। গ্রামীণ শিল্পায়নে একদিকে যেমন কৃষিপণ্যের মূল্য নিশ্চিত হবে তেমনি কর্মসংস্থানও বাড়বে। বৈঠকে কৃষির বিভিন্ন উপ খাতের (শস্য, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, বনায়ন) মধ্যে বিরাজমান অসঙ্গতি দূর করার জন্যও সুপারিশ করা হয়।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin