পূর্ববর্তী সংবাদ
ব্যয় বাড়ছে পৌনে ৫ হাজার কোটি টাকা, সময় চার বছরএকটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব আজ উঠছে একনেকেআবু সাইম শেষ হয়েও হয় না, এমন একটি প্রকল্পের নাম 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্প। ২০০৯ সালে নেয়া প্রকল্পটির মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে মেয়াদ শেষের পর আবারও চার বছর বাড়ানো হচ্ছে এর কার্যকাল। আর এ সময় ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে পৌনে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, যা দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি।
বর্ধিত মেয়াদ ও ব্যয়ের এ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তুলছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যাতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক প্রধান শেখ হাসিনা।
জানা গেছে, সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। গত জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ পূর্তির পর তা শুধু ব্যাংকের নামেই পরিচালিত হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম ধাপের ১০০টি উপজেলায় ১০০টি শাখার উদ্বোধনও করেন। অবশিষ্ট ৩৮৫ উপজেলায় শাখা খোলাসহ অন্যান্য যাবতীয় প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, একনেকে উপস্থাপিতব্য প্রকল্পটির ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে আট হাজার ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এতে ব্যয় বাড়ছে চার হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। চলমান প্রকল্প বিবেচনায় এর বিশাল ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হয়নি। ব্যয়ের পুরোটাই সরকারি তহবিল থেকে মেটানো হবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হবে। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি শুরুর সময় এর ব্যয় ছিল এক হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে প্রায় এক হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রায় তিন হাজার ১৬৩ কোটি টাকা করা হয়। দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯০টি উপজেলার চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পটির কার্যক্রম চালানো হবে। এ বছর প্রকল্পটিতে ৩১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
এদিকে 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পটি সরকারের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলেও শুরু থেকেই এর বিভিন্ন দিক নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে সময়মতো কাজের অগ্রগতি না হওয়া, প্রকৃত দরিদ্র্যরা সুবিধা না পেয়ে সচ্ছলার সুবিধা পাওয়া, প্রকল্পের নামে সমিতিগুলোতে দেয়া ঋণের কোটি টাকার সঠিক হিসাব না থাকা, ঋণ খেলাপি হয়ে পড়া, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় ইত্যাদি। তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
যদিও প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবে বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে দেখা যায়, দ্বিতীয় সংশোধনীর মেয়াদ গত জুনে শেষ হলেও অর্থসংকটে এর বিভিন্ন অঙ্গের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে- সুবিধাভোগীদের উৎসাহ বোনাস প্রদান, প্রশিক্ষণ-উত্তর সহায়তা ইত্যাদি। তবে এ সময় পর্যন্ত ৮৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধনী ২০১৪ সালের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। তাদের মতে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আইন-২০১৪ এর ৩৯ ধারার বিধান অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুনে প্রকল্পের সময়সীমা উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
প্রকল্পটি বিলুপ্ত হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় সম্পদ, দায়, কর্মসূচি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরিত হবে। কাজেই প্রকল্প সংশোধন ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি আইনানুগ নয়। প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি ব্যাখ্যা করে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক তাদের মতামতে জানায়, যেহেতু প্রকল্পটির কার্যক্রম ব্যাংকের নামে পরিবর্তিত হবে তাই নতুন করে তৃতীয় সংশোধনী না দেয়া যৌক্তিক হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পে নতুন একটি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) গ্রহণ করা যেতে পারে।
জানা গেছে, এজন্য 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক' ও 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের কার্যক্রম একই সঙ্গে চালিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন, ২০১৪ সংশোধন করা হবে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইনের কোন অংশে সংশোধনী আনতে হবে, সেটি পর্যালোচনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ব্যাংকের অধীন প্রকল্পটি কীভাবে চালিয়ে নেয়া যাবে, সেভাবে আইনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এ কমিটি। কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে প্রকল্পটি আর কত দিন চলবে এবং ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম কবে শুরু হবে।
আইনের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকায় সরকারের পরিকল্পনা কমিশন প্রথমে প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে আপত্তি তোলে। পরে শর্তসাপেক্ষে সম্মতি দেয়। কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধন 'পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন, ২০১৪'-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এর অনুমোদনের জন্য আইনের সংশোধনপূর্বক সংশোধিত আইন অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তাবনা পুনর্গঠন করতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে- ২০২০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা, গ্রামের অতিদরিদ্রদের নিয়ে গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা নামে সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র ঋণের প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয় পদ্ধতিতে মূলধন গঠন, আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বল্প আয়ের মানুষদের মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা, নৃগোষ্ঠীদের আয় বাড়ানো ইত্যাদি।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close