পীযূষ প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় যশোরে উচ্ছ্বাসযশোর প্রতিনিধি পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্যযশোরের সন্তান পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় যশোরে আনন্দ মিছিল হয়েছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। রোববার জাতীয় সম্মেলনে তাকে কেন্দ্রীয় সভাপতিম-লীর সদস্য করা হয়। বহু বছর পর দেশের অন্যতম প্রধান এই দলটির এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে যশোরের কেউ স্থান পেলেন।
এদিকে পীযূষ কান্তিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য করায় যশোরে বইছে আনন্দের বন্যা। রোববার রাতেই জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে শহরে আনন্দ মিছিল হয়েছে। জেলার শীর্ষ নেতারা ঢাকায় থাকায়
এ মিছিলে অংশ নিতে না পারলেও অসংখ্য নেতাকর্মী মিছিলে যোগ দেন। এ মিছিলে অংশ নেয়া যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর হাজী আলমগীর কবির সুমন জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের নির্দেশে তারা তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল করেছেন।
অপরদিকে জেলা শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে শহরের চিত্র মোড় থেকে আরও একটি আনন্দ মিছিল হয়েছে। এ মিছিল থেকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য ১৯৪০ সালের ১ মার্চ মণিরামপুরের দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের পাড়ালা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতা সুধীর কুমার ভট্টাচার্য ও মাতা ঊষা রানী ভট্টাচার্য। ১৯৫৬ সালে খাজুরা এমএন মিত্র বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও সরকারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাবিদ্যালয় যশোর ১৯৫৭-১৯৫৯ এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং ১৯৬৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের পিতা। তার স্ত্রী গৃহিণী।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। মশিয়াটি হাইস্কুলে ৭ বছর এবং গোপালপুর হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত করে ভাইস প্রিন্সিপ্যাল হিসাবে যোগদান করেন এবং ইংরেজি বিষয়ের খ-কালীন শিক্ষক হিসেবে কেশবপুর ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা করেন।
তিনি দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের পাড়ালা ওয়ার্ড থেকে ১৯৬৪ সালে নভেম্বর মাসে মেম্বার নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা বাস্তবায়নে করার জন্য যশোরের গণমানুষের কাছে বার্তা পেঁৗছে দেন। ১৯৬৭ সালে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হলে তিনি সুবোধ কুমার মিত্রের সঙ্গে কেশবপুর, মণিরামপুরে ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্যকে হত্যার করার জন্য হুলিয়া জারি করে। সে সময় তিনি তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ভারতে মুজিব সরকারের শরণার্থীদের স্কুলে শিক্ষা দিতেন এবং ভারতে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি যশোর ফিরে তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে টাউন হল ময়দানে এসে মিটিং করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি মণিরামপুর ও কেশবপুরের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাকে রাশিয়ায় পাঠান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, আব্দুল মালেক উকিল, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দিলি্লর একটি বিশেষ মিটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করায় ঐ মিটিংয়ে তিনি আর যাননি।
১৯৮৬ সালে মণিরামপুর-৫ থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচন করেন। কিন্তু তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ যশোরের সদর ও মণিরামপুরের নির্বাচন স্থগিত রাখেন। অবৈধভাবে যশোর সদরের টিটোকে ও মণিরামপুরে ওয়াক্কাসকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে তিনি অ্যাডভোকেট হিসেবে আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। যশোর জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়জিত আছেন।
সভাপতিম-লীর সদস্য নির্বাচিত করায় পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close