পূর্ববর্তী সংবাদ
মসুল নিয়ে ইরাক-তুরস্ক তীব্র উত্তেজনাজ্জ কুর্দি পেশমেরগাদের অনুরোধে অভিযানে তুর্কি বাহিনী জ্জ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জ্জ মসুলের আশপাশের ৩০ গ্রাম মুক্ত করেছে ইরাকি বাহিনীযাযাদি ডেস্ক ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে আমেরিকার নেতৃত্বে শেষ পর্যন্ত 'মসুল উদ্ধার' অভিযানে যোগ দিয়েছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। ইরাকের বার বার আপত্তির পরও তুর্কি বাহিনী এই অভিযানে যোগ দেয়ায় দেশ দুটির মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরো তীব্রতর হয়েছে। শুরু থেকেই এই অভিযানে অংশ নেয়ার জন্য তুরস্ক বার বার নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিল। এমনকি অভিযান পরিকল্পনাকারী আমেরিকাও তুরস্কের অংশগ্রহণের কথা বলে আসছিল। তবে ইরাক সরকার বরাবরই তুরস্কের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরাকের বিরোধিতা উপেক্ষা করে তুরস্ক এই অভিযানে অংশগ্রহণ করায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকেই যাবে। সংবাদসূত্র : বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স
মসুল অভিযানে অংশগ্রহণ নিয়ে তুরস্ক জানিয়েছে, মসুলের নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কুর্দি পেশমেরগা বাহিনীর অনুরোধেই তাদের সেনারা আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে কামান হামলা চালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত রোববার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানান, মসুলের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত তুর্কি সেনাক্যাম্পের সদস্যরা কুর্দি পেশমেরগা বাহিনীর অনুরোধে কামান ও ট্যাংক দিয়ে তাদের সাহায্য করছে। তবে ইরাকি যৌথ বাহিনীর কমান্ড সোমবার তুরস্কের ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে যৌথ বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিনেভেহ প্রদেশ মুক্তির অভিযানে তুরস্কের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। প্রসঙ্গত, এই নিনেভেহ প্রদেশের রাজধানী শহরই হলো মসুল।
গত মাসে তুরস্কের পার্লামেন্টে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দেশ্যে ইরাকে অন্তত এক বছরের জন্য প্রায় দুই হাজার সেনা রাখা সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়। এর মধ্যে অন্তত ৫০০ সেনা মসুলের নিকটবর্তী বাশিকার তুর্কি সেনাক্যাম্পে অবস্থান করছে। তারা অনেকদিন ধরেই স্থানীয় কুর্দি এবং সুনি্ন আরব যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
ইলদিরিম বলেন, 'পেশমেরগা বাহিনী বাশিকা থেকে আইএস হটাতে অভিযান শুরু করে। তারা বাশিকায় আমাদের ক্যাম্পে অবস্থানরত সেনাদের কাছে সহায়তার আবেদন জানায় এবং আমরা তাদেরকে কামান ও ট্যাংক দিয়ে সাহায্য করছি।'
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে এই অভিযানে মসুলের নিকটবর্তী বাশিকা শহরের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের পেশমেরগা যোদ্ধাদের সহায়তা করবে তুরস্ক।
প্রায় ১৫ লাখ মানুষের মসুল শহর ২০১৪ সাল থেকেই আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠীটির সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই মসুল উদ্ধারে আমেরিকার নেতৃত্বে প্রায় ৩০ হাজার ইরাকি যৌথ বাহিনী এবং পেশমেরগা কুর্দিরা অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে হাজার হাজার কুর্দি পেশমেরগা মসুলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাশিকা থেকে আইএস হটানোয় জোর অভিযান শুরু করেছে।
জানা গেছে, কুর্দি পেশমেরগা বাহিনীর নেতা মাসুদ বারজানির সঙ্গে তুরস্কের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আর এজন্যই আমেরিকার বিমান সহায়তা থাকা সত্ত্বেও তা যথেষ্ট নয় বলে তুরস্কের সাহায্য চাওয়া হয়েছে_ এমনটাই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই অঞ্চলে তুরস্কের উপস্থিতি শিয়া অধ্যুষিত ইরাকি সরকারের মোটেও পছন্দের নয়। এ নিয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, সরকার এবং অসংখ্য ইরাকিই তাদের মাটিতে তুর্কি সেনাদের অবস্থানের বিপক্ষে। বেশিরভাগ ইরাকিই মনে করে, তুরস্ক দেশটিতে চলমান দ্বন্দ্বের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। আন্তর্জাতিক জোটবাহিনীর সহায়তায় মসুল অভিযান শুরুর পরপরই আবাদি আংকারার প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ইরাকের অভ্যন্তরে তুর্কি সেনাদের অবস্থান 'আঞ্চলিক যুদ্ধ' বাধিয়ে দিতে পারে। এমনকি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বাগদাদ সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসারও আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, আইএসের বাধা সত্ত্বেও মসুল উদ্ধারে এগিয়ে যাচ্ছে ইরাকি যৌথ বাহিনী ও কুর্দি পেশমেরগা। গত রোববার বাশিকা উদ্ধারে শুরু করা অভিযানে এ পর্যন্ত অসংখ্য আইএস সদস্য হত্যাসহ অন্তত আটটি গ্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মসুলে আইএসের রসদ সরবরাহের পথও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আমেরিকান কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্টিফেন টাউনসেন্ড বলেন, 'রোববার বাশিকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে আমি এখনো এমন কোনো রিপোর্ট পাইনি, যাতে উল্লেখ আছে, বাশিকার সব বাড়ি পরিষ্কার করা হয়েছে, সব আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে এবং রাস্তায় পুঁতে রাখা সব গুপ্তবোমা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।'
প্রসঙ্গত, কুর্দি পেশমেরগার পক্ষ থেকে এই শহর দখলের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো বহিরাগত সাংবাদিককে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
অপরদিকে, মসুল উদ্ধার অভিযানে ইরাকি যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রাও অব্যাহত রয়েছে। ইরাকি বাহিনীর সেনা কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিজেম আল-জাবুর জানান, মসুল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র আইএসের হাত থেকে পুনর্দখল করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ইরাকি বাহিনী এ পর্যন্ত মসুলের আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রাম উদ্ধার করেছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin