ব্রিটিশ পরিবার যেন তাসের ঘর!যাযাদি ডেস্ক দেখে মনে হতে পারে, সবাই সুখী; কিন্তু কেউ যেন কারো নয়ব্রিটেনে আশঙ্কাজনক হারে পরিবার ভাঙছে। আর এই ভাঙনের পর মাঝ বয়সে একা বাস করার হারও বাড়ছে সেই সঙ্গে। আবার এটাও দেখা যাচ্ছে_ স্বামী, সন্তান বা স্ত্রী নিয়ে সংসার থাকলেও কেউ যেন কারও নয়। পরিবারটাই যেন তাসের ঘর!
এক হিসাবে দেখা গেছে, ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সে একা বাস করছেন এমন নারী অথবা পুরুষের সংখ্যা দেশটিতে ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ নব্বইয়ের মাঝামাঝি এই হার ছিল অর্ধেক। এখন ভয়াবহ হয়ে পড়েছে সার্বিক পারিবারিক বন্ধন পরিস্থিতি। স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসার জন্য কাঙাল মন কখনো কখনো এতটাই হতাশ হয়ে পড়ে যে, বাধ্য হয়ে তখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন অনেকে। এতে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে পৃথক থাকায় আবাসিক চাহিদাও বাড়ছে। আবার বিয়ে করার দিকে অনেকে এগোতে ভয় পাচ্ছেন এই ধরনের সামাজিক চিত্র দেখে। অনেকের কাছে এখন বিয়ে একটা অভিশপ্ত জীবনের কালো গহ্বরে আটকে যাওয়ার মতো ব্যাপার হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনে অন্তত আট লাখ নারী-পুরুষ একা বাস করছেন, যাদের 'লাইফ পার্টনার' বা সন্তান আর তাদের সঙ্গে থাকছে না। এক্ষেত্রে নারীর চেয়ে পুরুষরাই এগিয়ে রয়েছে। ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের এক প্রতিবেদন বলছে, দম্পতিরা এখন আর আগের মতো তাদের সংসার জীবন দীর্ঘদিনের জন্য টিকিয়ে রাখতে চাইছেন না। অতএব সামনে একটাই পথ_ ডিভোর্স!
দেখা গেছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার একটা কারণ হচ্ছে_ কোনো নারী তার পুরুষ পার্টনারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো রোজগার করছে। তার পুরুষ পার্টনারটি হয়ত কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তবে প্রায় ১০ লাখ দম্পতি আছে; যারা মনে করছে, তাদের সম্পর্ক টিকে থাকুক। তারা কর, ধার-দেনা, লাভ-লোকসান একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে মানিয়ে নিচ্ছে, যা ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর সিঙ্গেল পারসনরা পাচ্ছে না বা এক্ষেত্রে তাদের দায় একার হয়ে উঠছে।
পরিবার নিয়ে গবেষণা করছেন, এমন একজন বিশ্লেষক প্যাট্রিসিয়া মরগ্যান বললেন, সরকারের উচিত দাম্পত্য জীবন ভেঙে যাওয়ার পর একা বাস করার ব্যাপারে বিভিন্ন সমস্যা ও চাহিদা মেটানোর দিকে নজর দেয়া। আর তা না হলে বিয়ের ব্যাপারে যে বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্র দায়ী হয়ে পড়ছে। মরগ্যান বললেন, 'একা থাকতে গিয়ে তাদের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দেনাও বাড়ছে, উন্নয়ন বা স্বাস্থ্য সুবিধাসহ অন্যান্য দিকে সরকারের নজর আরও বেশি দিতে হচ্ছে। যারা একা বাস করছে, তাদের সার্বিক সামাজিক চাহিদাও বাড়ছে অনেক বেশি। মানুষ মনে করে, পরিবার চালাতে অনেক খরচ, আসলে তা সঠিক নয়।'
এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে এখন ২৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন বাড়ি আছে, যা ১১ ভাগ হারে বাড়ছে। আর এদের মধ্যে ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন বাড়ি, যা মোট বাড়ি-ঘরের ২৯ ভাগ, যেখানে কেউ না কেউ একা বাস করছে। তাই গত ১৬ বছরে বাড়ির সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে ১০ লাখের বেশি। আর বিয়ের চেয়ে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার হার অনেক বেশি বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিয়ে না করার প্রবণতা।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশটিতে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সে একা বাস করছে এমন সংখ্যা ২ দশমিক ৪২ মিলিয়ন। আর ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সে একা থাকতে হচ্ছে তাদের সংখ্যা ১ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন। আবার একসঙ্গে থাকছে ২০ লাখ মানুষ, যাদের বয়স ৭৫-এর বেশি। আবার ১ লাখ ৩৫ হাজার দম্পতি হিসেবে বাস করছে এমন যারা, তাদের লিঙ্গ অভিন্ন। আর তাদের ছেলে-মেয়ের সংখ্যা অন্তত ১২ হাজার।
আইনি বোঝাপড়া রয়েছে, এমন লিভ-টুগেদার করছে ৬৬ হাজার দম্পতি, আর তাদের সন্তান সংখ্যা রয়েছে ৬ হাজার। কোনো আইনের বালাই নেই; অর্থাৎ মৌখিকভাবে বোঝাপড়া এমন লিভ-টুগেদার করছে ৬৯ হাজার দম্পতি এবং তাদেরও সন্তান রয়েছে ৬ হাজার।
এসব পরিসংখ্যান বিবেচনা করে সামাজিকভাবে দাবি উঠেছে, ব্রিটেনে অভিন্ন লিঙ্গ রয়েছে এমন যারা লিভ-টুগেদার করছে, তাদের বিয়ের ব্যাপারে একটা হিল্লে করলেও করতে পারে সরকার। পাছে আরও অনেক বেশি মানুষকে একা বাস করতে না হয়। তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close