আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিআমাদের অভিনন্দনদেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে। রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে দুদিনের জাতীয় সম্মেলন শেষে ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে টানা অষ্টমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে নানা গুঞ্জন, আলোচনা ও নাটকীয়তার ভেতর দিয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। কমিটিতে আরো কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সভাপতিম-লীর ১৪ সদস্যের মধ্যে সাতজন পুরনো কমিটির আর সাতজন নতুন যুক্ত হয়েছেন। পুরনো কমিটি নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। নতুনদের মধ্যে বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুুর রাজ্জাক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ফারুক খান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ, রমেশচন্দ্র সেন ও পীযূষ ভট্টাচার্য্য নির্বাচিত হয়েছেন। পুরনো কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক একই পদে পুনর্নর্িবাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে যুক্ত হয়েছেন বিদায়ী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুর রহমান। কোষাধ্যক্ষ পদে পুননির্বাচিত হয়েছেন এইচএন আশিকুর রহমান।
গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সভাপতি হিসেবে পুননির্বাচিত হয়েই শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, ২০১৯ সালে পরবর্তী জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে। এজন্য এখন থেকেই মানুষের ঘরে ঘরে যেতে নেতাকর্মীদের তিনি নির্দেশ দেন। এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের এই দলটি আগের তুলনায় আরো বেশি সুসংগঠিত ও গণমুখী। দলের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা দক্ষভাবে নিরসন করে দলটিকে তিনি জনবান্ধব করতে ভূমিকা রেখেছেন। সর্বোপরি ক্ষমতাসীন হয়ে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশ এখন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। অষ্টমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এবং দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এই নবগঠিত কমিটি তাদের সরকারের অঙ্গীকারগুলো সততার সঙ্গে বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল, যে দলের অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের আপামর জনতা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বর্বর পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। সঙ্গত কারণেই আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার থাকে না। এ দলটি বাঙালির ভাগ্যোন্নয়নে নানাভাবেই পরীক্ষিত। দেশ ও জাতির উন্নয়নে নানা সময়ে দলীয়ভাবে গৃহীত নানা উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালনাসহ ক্ষমতাসীন হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যদিয়েও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, আওয়ামী লীগই দেশের সর্ববৃহৎ, ঐতিহ্যবাহী ও গণমানুষের রাজনৈতিক দল। অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন ও জনকল্যাণমূলক আদর্শিক ভিত্তিই যে দলটিকে গণমানুষের দলে পরিণত করেছে_ সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণের সুযোগ থাকে না।
বাংলাদেশের যথাযথ উন্নয়নে আওয়ামী লীগের মতো যোগ্য রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। দলটি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নানাভাবেই তা স্পষ্ট হয়েছে, যা বলা বোধ করি অযৌক্তিক হয় না। এবার আবার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন, তাও অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মতামত দিয়েছেন। ফলে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নবগঠিত এই কমিটি অতীতের মতো আগামীতেও দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাবে_ এমনটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতাদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close