জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটবেহালদশা নিরসনে পদক্ষেপ নিনদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে নানা সময়েই পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কখনো কখনো এমন তথ্যও উঠে এসেছে_ যা সামগ্রিক অর্থেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে। সম্প্রতি যায়যায়দিনে প্রকাশিত খবরে জানা গেল, রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসরঞ্জাম অকেজো থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। নিশ্চিত করেই বলা যায় এই পরিস্থিতি উৎকণ্ঠার। কেননা চিকিৎসার সরঞ্জামই যদি অকেজো হয়ে পড়ে থাকে, তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের বেহালদশাই তাতে স্পষ্ট হয়। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
আরও বিস্ময়কর হলো, জানা যাচ্ছে এই হাসপাতালটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকলেও তা সংস্কারে সময়মতো উদ্যোগ না নেয়ার ফলে বিপাকে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। তথ্য মতে, এমআরআই, সিটি স্ক্যান মেশিন, এক্সরে, ফান্ডাস ফ্লুরেন্স এনজিওগ্রামসহ এখানকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেশিন বিকল। আর স্বাভাবিকভাবেই এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসাসেবার ধীরগতি এবং অপরিচ্ছন্নতার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বলাই বাহুল্য যে, এই পরিস্থিতি কেন নিরসন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে আমরা বলতে চাই, একটি হাসপাতালে এমআরআই যন্ত্রটিতে নিয়মিত হিলিয়াম গ্যাস না দেয়ায় তা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা এক্সরে কক্ষের এসি নষ্ট হওয়ার ফলে, এক্সরে মেশিনটিও নষ্ট হয়ে যায়; তবে এর পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা সৃষ্টি হয় তা ভীতিপ্রদ। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
যখন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ছাড়াও রোগী ও চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য ৫ লিফটের ৩টি লিফট ও কয়েকটি এসি অকেজো হয়ে আছে তখন এসবের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আর এমআরআই, এক্সরে থেকে শুরু করে যখন গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে তখন এর জন্য অনেক টাকাও ব্যয় করতে হয়েছে। যদি এই যন্ত্রপাতিগুলো ভালো থাকত তবে এত টাকা ব্যয় হতো না। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ধীরগতি সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি রোগীদের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। যা চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না।
প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, বিভিন্ন সময়েই সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোনো প্রকার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক সেজে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া যথাযথভাবে অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিকে চিকিৎসা প্রদান এবং রোগীদের সেবা দেয়াকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এই ধরনের পরিস্থিতি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যই নেতিবাচক। যখন সরকার দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরও আধুনিকায়ন করতে এবং সেবার মান বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিচ্ছে, তখন যদি কোনো হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকে তবে তা অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত এবং দুর্ভাগ্যজনক।
সার্বিকভাবে আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের মতো একটি জনসংখ্যাবহুল দেশে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। রোগীর তুলনায় চিকিৎসকও পর্যাপ্ত নয়। এমতাবস্থায় আবার যদি যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে রোগীদের ব্যয় বেড়ে যায়, তবে তা কোনোভাবেই স্বস্তির নয়। আমরা সরকারক বলতে চাই, প্রত্যেকটি হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং সামগ্রিকভাবে সেবা প্রদানের দিকে আরও বেশি নজর দিন। রোগীরা সেবা নিতে এসে আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে ব্যয় বাড়বে, মানসম্মত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে_ এটা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হতে পারে না।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin