বাংলাদেশ এভাবে লড়বে ভাবেননি কুকসত্যিই আমি ভেবেছিলাম ২৮০ রান যথেষ্টই হতে যাচ্ছে। ভাবতে পারিনি ওরা এত কাছাকাছি যাবে। বিশেষ করে ওরা যেভাবে স্পিন সামলেছে, সেটি ছিল মুগ্ধ করার মতো।ক্রীড়া প্রতিবেদক অনেকগুলো উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে সোমবার শেষ হওয়া চট্টগ্রাম টেস্ট। এই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোই মুগ্ধ করেছে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে। আর তাই চট্টগ্রাম টেস্টকে 'দুর্দান্ত এক টেস্ট' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তার চোখে গোটা টেস্টটাই ছিল ভীষণ রোমাঞ্চকর। টেস্টটাকে রোমাঞ্চকর তুলেছে টাইগারদের লড়াকু পারফরম্যান্স। কুক নাকি ভাবতেই পারেননি, শেষতক এভাবে লড়ে যাবে বাংলাদেশ।
টেস্ট জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৮৬ রান। চতুর্থ ইনিংসে এই রান তোলা যে কোনো দলের জন্যই কঠিন। সেটা বেশ ভালো করেই জানতেন কুক। কিন্তু এই রান তাড়া করতে গিয়ে টাইগাররা এতটা কাছাকাছি পৌঁছে যাবে তা ভাবেননি তিনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সোমবার ইংলিশ অধিনায়ক বললেন, 'সত্যিই আমি ভেবেছিলাম ২৮০ রান যথেষ্টই হতে যাচ্ছে। ভাবতে পারিনি ওরা এত কাছাকাছি যাবে। বিশেষ করে ওরা যেভাবে স্পিন সামলেছে, সেটি ছিল মুগ্ধ করার মতো।'
চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। হাতে ছিল ২ উইকেট। উইকেটে ছিলেন সাবি্বর রহমানের মতো পরীক্ষিত ব্যাটসম্যান। মূলত তিনিই স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন টাইগারদের। কিন্তু সোমবার সকালে মাত্র ২২ মিনিটেই সেই স্বপ্ন শেষ। চতুর্থ দিনের সঙ্গে মাত্র ১০ রান যোগ হতেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ২২ রানে টেস্ট জিতে নেয় ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিনে মাঠে নামার আগ থেকেই ম্যাচ জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এমনটাই জানালেন কুক, 'ত্রিশের মতো রান আর দুই উইকেটের সমীকরণ, একদম সত্যি বললে, সোমবার সকালে আমি যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি জানতাম সুযোগ আমরা ঠিকই সৃষ্টি করতে পারব। তাই খুব বেশি দুর্ভাবনায় ছিলাম না।'
দ্বিতীয় দিন শেষে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ, বড় লিড নেয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু তৃতীয় দিনের সকালে সেই সম্ভাবনা মুহূর্তেই উবে গেছে। এই টেস্ট জয়ের পেছনে তৃতীয় দিনের ওই সকালটার ভূমিকাই সবথেকে বেশি দেখছেন কুক, 'ওই দিন ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ওরা প্রথম ইনিংসে আমাদের চেয়ে ৭০ বা ৮০ রানে পিছিয়ে ছিল। তারপরও লিড নিতে পেরেছিলাম আমরা। ব্যবধানটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি মনে করি এটাই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।'
কুকের চোখে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আছে আরও একটা, সেটা দ্বিতীয় ইনিংসে বেন স্টোকস আর জনি বেয়ারস্টোর জুটি। দল যখন ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল, তখনই ত্রাণকর্তায় ভূমিকায় এই দুই ব্যাটসম্যান। ষষ্ঠ উইকেটে এই তারা ১২৭ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। তাই এই জুটিটাও কুকের চোখে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, 'তৃতীয় দিনে আমাদের দ্রুত ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর স্টোকস-বেয়ারস্টো দুইজন মিলে যে জুটিটা গড়েছিল, সেটাই আমাদের এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমি মনে করি ম্যাচের এটাই টার্নিং পয়েন্ট।'
গোটা ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেছেন স্টোকস। ব্যাট হাতে সফল ছিলেন। সাগরিকার স্পিনবান্ধব উইকেটেও গতিঝড় তুলেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লেজটা ছেঁটে দিয়েছিলেন ৪ উইকেট নিয়ে, পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের শেষ দুটো উইকেটও নিয়েছেন ডানহাতি এই পেসারই। অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার খেতাবটা উঠেছে তারই হাতে। সংবাদ সম্মেলনে দলপতি কুকের থেকেও পেলেন ভূয়সী প্রসংশা। স্টোকসের মতো একজনকে দলে পেয়ে ভীষণ খুশি ইংলিশ অধিনায়ক, 'ও (স্টোকস) যোগ হওয়াতে আমাদের দলে ভারসাম্য রয়েছে। ও দলে থাকাতে আমরা একজন বাড়তি স্পিনার কিংবা পেসার দলে নিতে পারি।'
সোমবার বাংলাদেশের শেষ দুটি আউটই রিভিউয়ের মাধ্যমে আদায় করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তাইজুলের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ চান কুক। আর তাতেই আঙুল তুলতে বাধ্য হন আম্পায়ার। ঠিক কি চিন্তা করে রিভিউ চেয়েছিলেন, জানতে চাইলে কুক বলেছেন, 'সত্যি কথা বলতে ওই সময় আমাদের দুটি রিভিউ বাকি ছিল। আমাদের প্রয়োজন ছিল দুটি উইকেট, ওদের প্রয়োজন ২০ রান (আসলে ২২ রান)। এই অবস্থায় রিভিউ যে কেউই নিতে চাইবে।'
সেই আবেদনে সফল কুক, অনেক সংগ্রাম করে চট্টগ্রাম থেকে সাফল্যের হাসি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে ইংল্যান্ড দলও। তাদের ভাবনাজুড়ে এখন শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় এবং শেষ টেস্টটি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close