পূর্ববর্তী সংবাদ
এক-এগারোর ধারাবাহিকতা এখনো চলছে: মির্জা ফখরুলযাযাদি রিপোর্ট বুধবার রাজধানীর কচি-কাঁচা মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর _যাযাদিএক-এগারোর ধারাবাহিকতার সরকার এখনো চলছে বলে বন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, '১/১১ গোটা জাতির জন্য কলঙ্কময়। দেশকে বিরাজনীতিকরণের জন্য এটা সৃষ্টি হয়ে ছিল। সেই ষড়যন্ত্র এখনো চলছে।'
বুধবার বিকালে রাজধানীর কচি-কাঁচা ভবন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট কালজয়ী চলচ্চিত্রকার মরহুম চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ও বেআইনিভাবে একটি সংবিধানসম্মত সরকারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে খাটো করে দেখলে চলবে না। সেদিন গণতন্ত্রকে নির্মূল করে দেশকে বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেদিন দেশপ্রেমিক জনগণ বিশেষ করে বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।
তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে বিএনপি অনুমতি চেয়েছিল, পায়নি। এটা নতুন কিছু নয়। ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপি ৭ বার সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছে, সরকার দেয়নি। সারাদেশে এখন দুটো আইন। আওয়ামী লীগের জন্য একটি আইন আর অন্য সবার জন্য আরেকটি আইন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল ও মতকে রাজপথে নামতে দেয়া হয় না। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির যারা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে তাদেরও একই অবস্থা। এরা (আওয়ামী লীগ) আবার গণতেন্ত্রর কথা বলে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রধান, নির্বাহী বিভাগের প্রধান। একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় অনুসন্ধানের পর বিচারের কার্যক্রম চলছে। তিনি ইতোমধ্যে অনুসন্ধানও করে ফেলেছেন, অভিযুক্তও করেছেন, ট্রায়ালে নিয়েছেন; আবার বলেও দিচ্ছেন চুরি করেছেন। অর্থাৎ বিচারকের রায় দেয়ার আর প্রয়োজন আছে? সেই মামলা কোন দিকে যাবে সহজেই বুঝতে পারেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এভাবে সরকার প্রধান হয়ে যদি আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলায় কথা বলতে থাকেন, সেই মামলার রায় কি হবে তারা জানেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং মামলাকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, 'আপনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, সেগুলো কোথায়? আর খালেদা জিয়ার নামে ৫টি মামলা ছিল। এখন তা ২৯টিতে রূপ নিয়েছে।' দেশ গভীর সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি করে তিনি বলেন, এই যে রাজনৈতিক সংকট তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে জনগণকে আস্থায় নিয়ে অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন, যাতে সকল দল অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচিত একটি সরকার ছাড়া এই সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রক্রিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সহায়ক সরকারের অধীনে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হয় তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে সংলাপ করছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। শেষ পর্যন্ত উনি কি করবেন তার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ। আর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর।
জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতাদের গণআদালতে বিচার করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, 'আমরাও চাই যারা উস্কানি দিচ্ছে তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করুন। কিন্তু আপনারা তো সেটি করছেন না। জঙ্গিবাদে যারা অভিযুক্ত হচ্ছে তাদের সাথে সাথে মেরে দিচ্ছেন। কোনো তদন্ত হচ্ছে না। সম্ভবত এই কারণে যে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এবং সত্য উদ্ঘাটিত হলে আপনাদের মুখের চেহারা পাল্টে যাবে, মুখোশ উন্মোচিত হবে? কেন তদন্ত করছেন না? বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না?'
সাংবাদিক শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কবি আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা সাজেদুর রহমান সাজু প্রমুখ।
তা সময়ই বলে দেবে: গয়েশ্বর রায়
এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণআদালতে কার বিচার হবে তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে। সময় হলে জনগণের আদালতে জনগণই বিচার করবে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, এমন কোনো ধারা নেই যার অধীনে বিএনপির নেতাদের মামলা দেয়নি। শুধু ধর্ষণের মামলা ছাড়া।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে গণতন্ত্রে আশা করা যায় না। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোটের অধিকার বা সরকার পরিবর্তনকেই বোঝায় না। গণতন্ত্র হলো মানুষের কথা বলার অধিকার, ইচ্ছা প্রকাশ করার অধিকারক নিশ্চিত করা।
তিনি অভিযোগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি সমাবেশ করতে অনুমতি চাইলেই নাশকতার দায় দিয়ে অনুমতি দেয়া হয় না। কিন্তু আ'লীগ তো সমাবেশের নামে জনসাধারণের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে।
নাসিক নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়নি চুরি হয়েছে।
বর্তমান সরকারে অপকর্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সরকারের অপকর্মের যে ওজন কত তা পরিমাপ করেও বলা যাবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, '২০০৭ সালের ১/১১ ঘটনা একটা সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না, এটা ক্লিয়ার মিলিটারি ক্যু অর্থাৎ সামরিক অভ্যুত্থান। কারণ ১১ জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেকোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তখন দেখা গেছে জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারদের। অত্যন্ত নিরাপদে এখন তারা এমন একটি দেশে অবস্থান করছেন যেখানে আমাদের সরকারের কিছু করার আর ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কিনা জানি না।'
রাজধানী ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জিয়া সিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করেছেন। ইন্দুরকানী কি জিয়াউর রহমানের চেয়ে বেশি সম্মানিত ব্যক্তি। গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর করছেন না কেন?
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেড়ে নেয়া হবে: রিজভী
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহিলা দলের মানববন্ধনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের কাছে বারবার আবেদন করেছি আমাদেরকে দেয়া হয়নি। কিন্তু সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো রাজাকারদের। তাই ভবিষ্যতে সমাবেশ করার জন্য বিএনপি পুলিশের অনুমতির অপেক্ষা করবে না, কেড়ে নেয়া হবে।'
রিজভী বলেন, 'এরশাদ ৫০টি হাতি নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেন। মঙ্গলবার ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট সব কিছু বন্ধ করে আওয়ামী লীগ সমাবেশ করেছে। কারণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। কেউ রাস্তার ভেতরে আটকিয়ে পড়ুক, যানজটে নিপীড়ত হোক- এটাতে আওয়ামী লীগের যায় আসে না। তাদের দেখাতে হবে- মানুষজন। কারণ নারায়ণগঞ্জ থেকে, গাজীপুর থেকে টোকাই নিয়ে এসে আপনারা ভর্তি করেছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সেখান আপনারা বড় বড় কথা বলেছেন।'
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র নয় বিএনপির নেতাকর্মীদের রক্ত চান মন্তব্য করে রিজভী বলেন, 'বিএনপির নেতাকর্মীদের লাশ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শেখ হাসিনা আনন্দিত হন, উল্লাস করেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের শামনকালে প্রকৃত অপরাধীরা সব সময় প্রশ্রয় পেয়ে যাচ্ছেন। যার কারণে তনু, মিতু, সাগর-রুনিসহ কোনো হত্যাকা-ের বিচার হচ্ছে না।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin