শপথ নিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরাযাযাদি রিপোর্ট বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে ৫৯ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানরা শপথবাক্য পাঠ করেন _ফোকাস বাংলাপ্রথমবারের মতো ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশসেবার দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়েছেন।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে দেশের ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে শপথ পড়ান।
জেলা পরিষদের এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের 'সৎ ও নিষ্ঠাবান' থেকে দেশের উন্নয়ন কর্মকা- এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা পরিষদের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যরা আগামী ১৮ জানুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শপথ নেবেন বলে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানান।
তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও আদালতের আদেশে কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন আটকে যায়।
বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বর্জনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল মনোনীত ২১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ভোটের আগেই। ভোটের দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহীরা জেতেন ৩৮ জেলায়। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এ নির্বাচনে।
১৯৮৮ সালে এইচএম এরশাদ সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেয়ার বিধান ছিল; পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।
১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে।
এরপর ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের মেয়াদ শেষে এবারের নির্বাচন হয়।
পরে নতুন চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের 'সততা ও নিষ্ঠার' সঙ্গে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন 'আমি চাই সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সাথে আপনারা স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের মূল লক্ষ্যটা হবে মানুষের সেবা করা।'
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সরকারপ্রধান জনগণের জন্য কাজ করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, 'সরকার শুধু নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করতে আসে না সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। কিন্তু এদেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত ও অশিক্ষিত থাকে, তারা যদি রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, তাহলে সোনার বাংলাদেশ গড়া কখনই সম্ভব না।'
দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। প্রতিটি উন্নয়ন কাজ যাতে 'সঠিকভাবে' বাস্তবায়িত হয় পাশাপাশি সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে নতুন চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেন তিনি।
জেলা পরিষদের ক্ষমতার পরিধি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বেশকিছু কাজ উপজেলা পরিষদে হস্তান্তর করেছি। জেলা পরিষদের হাতেও যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে মানুষের সেবা নিশ্চিত করার এবং স্ব-স্ব জেলার সার্বিক উন্নয়নের।
শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যরা আগামী ১৮ জানুয়ারি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শপথ নেবেন বলে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক জানিয়েছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin