আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনাসম্ভাব্য অবস্থান দক্ষিনের পাঁচ জেলা আটটি স্থান প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে চূড়ান্ত স্থান নির্বাচনে সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যআবু সাইম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর দেশে আরও একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যেকোনও সুবিধাজনক এলকায় এটি স্থাপন করার জন্য জমি বাছাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই নোয়াখালী, ফেনী, খুলনা, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সম্ভাব্য আটটি এলাকা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চূড়ান্ত সমীক্ষা শেষে নির্বাচিত স্থানে গড়ে উঠবে দেশের দ্বিতীয় পরামাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার এ ধরনের আরো কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী। প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র উত্তরাঞ্চলের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তীটি দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনাও দিয়েছেন। এরই আলোকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দুটি কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটি দুটি যৌথ প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে ৮টি স্থান নির্বাচন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার পক্ষিয়ার চর, বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার খোট্টার চর ও নিদ্রার চর, পাথরঘাটা উপজেলার টেংরার চর, আমতলী উপজেলার আলিসার চর, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার চর হালিয়া, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার বয়ার চর এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মুহুরীর চর।
ইতোমধ্যেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত স্থানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভূমির স্থায়িত্ব, পানির গতিধারা, পানির প্রাপ্যতা, ভূতাত্তি্বক অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানগুলো থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য 'বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নিউক্লিয়ার পাওয়ারপ্ল্যান্ট নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নির্বাচনের সমীক্ষা' শীর্ষক একটি সম্ভাব্যতা প্রকল্পও নিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী দুই বছরের মধ্যে আটটি স্থান থেকে এক বা দুটি স্থান চূড়ান্ত করা হবে।
সাইট নির্বাচনের জন্য হাইড্রোলজিক্যাল, সিসমোলজিক্যাল, জিওলজিক্যাল, জিওটেকটকিন, বন্যা ও সুনামি, মেটরোলজিক্যাল, জনসংখ্যা ও ডেমোগ্রাফি, পরিবেশ দূষণ ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হবে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ নেয়া হবে।
পরমাণু কমিশন সূত্র জানায়, পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে গঠিত ৮ সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গত বছরের ৭-১০ নভেম্বরে পটুয়াখালীর পক্ষিয়ার চর, বরগুনার খোট্টার চর এবং নিদ্রার চর সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে উঠে আসে, সাইটগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় পটুয়াখালীর পক্ষিয়ার চরে নদী ভাঙনের সম্ভাবনা বা ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া ওই এলাকার মাটির স্থায়িত্বও বড় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যথেষ্ট শক্ত নয়। এজন্য এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত নয়।
অপর দিকে বরগুনার খোট্টার চর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে অবস্থিত এবং এটি ২০০৭ সালের সিডর ও ১৯৭০ সালের বন্যায় ১৫-২০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। তবে এর কাছাকাছি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিতরে অবস্থিত অংকুরজান পাড়ার মাটি অধিক স্থায়ী অনেক পুরাতন।
আবার দিকে পায়রা নদীসংলগ্ন নিদ্রার চরের কাছাকাছি নদীর গভীরতা প্রায় ২০০ ফুট এবং এতেও ভাঙনের প্রবণতা লক্ষণীয়। তবে এর কাছাকাছ এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সমীক্ষা চালানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। পরে পরিদর্শন দল খোট্টার চর, নিদ্রার চর এবং চর হলিয়াতে সমীক্ষা চালানোর পাশাপাশি আরো নতুন এলাকা সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে।
টেংরার চরের প্রস্তাবিত এলাকা বলেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত, নদীটি ৩০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এখানে প্রায় ১০০০ একর জমি পাওয়া যাবে। তবে স্থানটির সুন্দরবনের খুব কাছে, এর পশ্চিম তীরে সুন্দরবন অবস্থিত।
বরগুনা আলিসার চর পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত। তবে স্থানটি স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্পন এলাকার মধ্যে পড়েছে।
খুলনার চর হালিয়ার প্রস্তাবিত এলাকার অবস্থান পশুর নদীর পূর্ব তীরে। এটি খুলনা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, সুন্দরবন থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং প্রস্তাবিত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এখানে প্রায় ২০০০ একর জমি পাওয়া যেতে পারে।
নোয়াখালীর বয়ার চর মেঘনা নদীর কাছে অবস্থিত। এখনো প্রায় ৫০০ একর খাসজমি রয়েছে, যা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে উপযুক্ত। তবে এটিও স্বল্প ভূমিকম্প ঝুঁকির এলকায় পড়েছে।
ফেনীর মুহুরীর চর আয়তনে বিশালাকার হওয়ায় এখানে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রচুর জায়গা পাওয়া যাবে। ফেনী নদী ও বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় এখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে বলে মনে করেন পরিদর্শন দল।
একই সঙ্গে পরিদর্শন দল তাদের সুপারিশে জানায়, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য স্থান নির্বাচন একটি অতি জটিল এবং দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয় সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে মাটির গুণগত মান, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযুক্ত করা, এজন্য নেয়া ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাবিত স্থানগুলোর বিস্তারিত সমীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থানগুলো অন্য কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া বা তাদের অধীনে যাওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের আলোচনার পর পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেখানে দুটি ইউনিট থেকে ২০১৫ সাল নাগাদ দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে আর ভবিষ্যতের বিদ্যুতের চাহিদা মাথায় রেখে দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin