পূর্ববর্তী সংবাদ
বৃষ্টি আরও ৩ দিনরাজধানীতে জলাবদ্ধতায় ফের দুর্ভোগশনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৯ মিলিমিটার। শুক্রবার দুপুরের পর আর বৃষ্টি না হলেও শনিবার শেষ রাত থেকে আবার শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়যাযাদি রিপোর্ট বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা রাজধানীর নিয়মিত চিত্র। খানাখন্দে ভরা সড়কে জলাবদ্ধতা নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। ছবিটি শনিবার মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকা থেকে তোলা _যাযাদিমৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঢাকাসহ সারাদেশেই বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘ্ন ঘটছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতায় ফের দুর্ভোগে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির এ প্রবণতা আরও তিন দিন থাকতে পারে। এ ছাড়া খুলনা ও বরিশাল ছাড়া অন্য ৬ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নাম্বার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৯ মিলিমিটার। শুক্রবার দুপুরের পর আর বৃষ্টি না হলেও শনিবার শেষ রাত থেকে আবার শুরু হয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।
এই বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। যাত্রাবাড়ীর দনিয়া, মাতুয়াইল, শেখদী এলাকার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে মালিবাগ, খিলগাঁও, রামপুরা, মলিবাগ, রাজারবাগ, গুলিস্তানসহ আরও বিভিন্ন এলাকায়। ডেমরা এলাকার বেশির ভাগ রাস্তাই এখন পানির নিচে।
এবার বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বড় ধরনের জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে রাজধানীবাসী। বৃষ্টির কারণে কোথাও যানজট থাকলেও কোথাও কোথাও দেখা গেছে যানবাহন সংকট। এতে অফিসে যেতে অনেকেই দুর্ভোগে পড়েন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকেও রাজধানীর রায়েরবাগ, কাজলা বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষকে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মেরাদিয়া থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত প্রচ- যানজট লেগে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই পথ দিয়ে গুলশানের দিকে যাওয়া যাত্রী শেখ কাওসার হোসেন।
শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায়, সেখানে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে টাঙ্গাইলে ১০৯, ময়মনসিংহে ১০০, নেত্রকোনায় ১২৩, সীতাকু-ে ১৭৬, রাঙ্গামাটিতে ২৫৯, সিলেটে ১১৭, রাজশাহী বিভাগের বদলগাছীতে ১৩৪, রংপুরে ১৫৬, দিনাজপুরে ১৫৪, ডিমলায় ২১৪, সৈয়দপুরে ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একদিনে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারী এবং ৮৯ মিলিমিটার বা এর বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টি বলে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মংলায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙ্গামাটিতে ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে।
চট্টগ্রামে দিনভর বর্ষণে ভোগান্তি
চট্টগ্রাম অফিস জানান, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরবাসী।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের হিসাব মতে, শনিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকে থেমে থেমে কখনো ভারী কখনো মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টি হচ্ছে টানা, যাতে চট্টগ্রামবাসীকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি প্রকল্পের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় এ ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করেছে।
টানা বৃষ্টিতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও নারীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, বৃষ্টিতে নগরীর ওয়াসা থেকে বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও থেকে কালুরঘাট আরাকান সড়ক, বহদ্দারহাট থেকে বাকলিয়া, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে চলাচলকারী জনসাধারণের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানের ভাঙা অংশে পানি জমে গেছে। বৃষ্টিতে গণপরিবহনের চলাচলও কম।
তবে আগ্রাবাদ সিডিএ ও এক্সেস রোড এলাকায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে।
আরাকান সড়কে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী সাইফুর রহমান বলেন, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে লালখান বাজার সড়কটি নগরীর কোনো সড়ক বলে মনে হয় না। এসব ভাঙা রাস্তায় পানি জমে তা চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এসব সড়কে গণপরিবহনও কম চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের টানা এ বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দা মিমি পারভীন জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থা আরও চার থেকে পাঁচ দিন চলতে পারে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close