পূর্ববর্তী সংবাদ
উপকূলীয় এলাকার কৃষি উন্নয়নে আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্পআবু সাইম জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার পাশাপাশি দুর্যোগের কারণে দেশের উপকূলীয় কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যস্ত। তবে এসব প্রতিকূল অবস্থার উপযোগী প্রযুক্তি ও ফসলের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষির উৎপাদ বহুগুণে বৃদ্ধি করা সম্ভাব। এরই অংশ হিসেবে উপকূলীয় তিন জেলা নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার লাগসই কৃষি উন্নয়নে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক ফসলের ফলন এখনো নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সেখানে প্রধান সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সে অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির চমৎকার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে এ অঞ্চলের জেলাগুলোতে। এসব সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির এক মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এতে উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ কিছু কৌশল নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনের চিত্র বদলে যাবে।
সূত্র আরও জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের মতো এত সস্তায় আবাদ দেশের আর কোথাও সম্ভব না। সেচের পানি এখানে ফ্রি। লবণাক্ততা আছে, কিন্তু তা একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং তা সব জায়গায় নয়। এখনো উপকূলের বিপুল পরিমাণ জমি লবণাক্ততামুক্ত বা স্বল্প লবণাক্ততাযুক্ত। সেসব জমিতে অনেক রকমের ফসলের আবাদ হতে পারে। লবণাক্তপ্রবণ জমির জন্য বিশেষ ফসল ও ফসলের লবণসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন ও ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া যায়।
বিএডিসির প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে তিন জেলার ২০ উপজেলার কৃষির বিপ্লব ঘটবে। এর আওতায় ২৩ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, তাছাড়া মেঘনা নদীর মোহনায় মিষ্টি পানির ব্যবহার করে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে পতিত জমি উৎপাদনশীল করা, পরিবেশবান্ধব সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, টেকশই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার ও কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এসবের ফলে তিন জেলায় অতিরিক্ত প্রায় ৯৫ হাজার ২৭৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করা যাবে।
বিএডিসি বলছে, দক্ষিণাঞ্চলে অসংখ্য নদী-নালা ও খালবিল রয়েছে জোয়ার-ভাটার কারণে খাল ও নালায় পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। এতে সেচের পানি পরিবহন ও বর্ষার পানি নিষ্কাষণ সম্ভব হয় না। ফলে কিছু এলাকায় আমন আবাদ করা গেলেও বাকি এলাকা জলাবদ্ধতার কারণে আবাদের বাইরে থেকে যায় এবং পতিত জমিতে পরিণত হয়। আবার সমুদ্র কাছে থাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি দ্রুত নেমে যায়, ফলে ধানসহ রবিশস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। কাছেই দেশের অন্যতম বড় মিঠা পানির উৎস মেঘনা নদী থাকা সত্ত্বেও কৃষিতে তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিন জেলার চাষযোগ্য তিন লাখ ২৭ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় এক লাখ এক হাজার ৪৬৭ হেক্টর সেচের আওতায় রয়েছে, বাইরে রেয়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫৯২ হেক্টর। আবার এর মধ্যে প্রায় ৭৩ হাজার হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ত।
শুধুমাত্র ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মধ্যেমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। এজন্য আলোচ্য প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। 'নোয়াখালী-ফেনী-লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় এলাকায় লাগসই কৃষি উন্নয়ন' শীর্ষক এ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে। এর আওতায় ৪৫০ কিলোমিটার খাল ও নালা পুনর্খনন, ১০০টি বড় পুকুর খনন, ১৮০ হাইড্রলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ, ১৫৫টি বিদ্যুৎচালিত লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) স্থাপন, ৫০টি সৌর শক্তিচালিত এলএলপি স্থাপন, ১৫ হাজার মিটার আরসিসি পাকা ভূ-গর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ সেচ নালা নির্মাণ, ৫০টি পাতকুয়া খনন, ২০টি স্প্রিংকলার ইরিগেশন সিস্টেম স্থাপনের কথা রয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
monobhubon
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin