পূর্ববর্তী সংবাদ
দ্রুত বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকযাযাদি রিপোর্ট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম। এ ব্যবস্থায় শাখা না খুলেও মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিংসেবা পেঁৗছে দিচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সময় ও অর্থ সাশ্রয়ী এ সেবা সমপ্রসারণে ব্যাংকগুলোর মনোযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা মেলায় এ সেবার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এখন বাসা-বাড়ির কাছে বা সামান্য দূরত্বের হাটবাজারে মিলছে এ সেবা। ফলে প্রতিদিনই এ সেবায় হাজার হাজার গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন। সেই সঙ্গে লেনদেনও বাড়ছে। চলতি বছর জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৭৩ হাজার। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন_ এ তিন মাসেই বেড়েছে দেড় লাখের বেশি। বর্তমানে গ্রামের পাশাপাশি শহরেও মিলছে এ সেবা।
এজেন্ট ব্যাংকিং হলো_ সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে ব্যাংকের নিয়োগ করা নন-ব্যাংক এজেন্টের মাধ্যমে আর্থিক সেবাবঞ্চিত দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ব্যাংকিংসেবা পেঁৗছে দেয়া। এ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে ব্যাংকিংসেবা প্রদানের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সমাজের দরিদ্র ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এলাকার জনগণকে ব্যাংকিংসেবার আওতায় আনাই এর উদ্দেশ্য। কোনো ধরনের চার্জ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিংসেবা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া কোনোভাবেই গ্রাহক যেন প্রতারিত না হন সেজন্য প্রতিনিধি নিয়োগের আগে অবশ্যই তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, বিশ্বস্ততা ও সততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে হয়।
যেখানে লাভজনকভাবে প্রচলিত ব্যাংকিংসেবা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, দেশের এমন দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মানুষের দোরগোড়ায় অর্থ সাশ্রয়ীভাবে মৌলিক ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করা হয়। শুরুতে শুধু পল্লী এলাকায় এ সেবাটি প্রদানের সুযোগ ছিল। তবে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে পৌর ও শহরাঞ্চলেও এজেন্ট ব্যাংকিং করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের জন্য সার্ভিস চার্জবিহীন এ সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে ১৭ ব্যাংক লাইসেন্স নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে ১২টি। বর্তমানে ৩ হাজার ২২৪টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে এ সেবা দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিরা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণকে আর্থিক সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এতে ব্যাংকের পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সময় এবং খরচ দুই-ই সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাবও গড়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, এ ব্যবস্থায় স্থানীয়রা ব্যাংকের এজেন্ট মনোনীত হওয়ায় এলাকাভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে এখন অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ব্যাংকের সেবা পাচ্ছে। আবার স্থানীয়রা এজেন্ট হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ সেবার মাধ্যমে শাখা না খুলেও এজেন্টের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় ব্যাংকিংসেবা পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে গ্রাহক সাড়াও মিলছে বেশ। এছাড়া এ ব্যবস্থায় এলাকার মানুষই ব্যাংকের এজেন্ট হচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি ওই এলাকার উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় আমানত গ্রহণ ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, নির্দিষ্ট হারে অর্থ লেনদেন, সুবিধাভোগীর কাছে রেমিট্যান্সের অর্থ পৌঁছে দেয়া, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতাভোগীর অর্থ প্রদান, অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স জানা ও অ্যাকাউন্ট ফরম সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। এছাড়া যে কোনো পরিমাণের ঋণ আবেদন, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদন ফরম এবং চেক জমা দিতে পারছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে ১২টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জুন শেষে এসব ব্যাংকের মনোনীত এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৭। আর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২২৪। এ সময় পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতায় ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬০০ পুরুষ ও ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৬৫ নারী গ্রাহক রয়েছেন। ৩ মাস আগে মার্চ পর্যন্ত এ সেবায় গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ১২ হাজার ৪৯৯। এ হিসাবে ৩ মাসে গ্রাহক বেড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৬ জন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত এসব গ্রাহকের হিসাবে জমা রয়েছে ৬৫১ কোটি ২১ লাখ টাকা। ৩ মাস আগে মার্চ পর্যন্ত এ জমার স্থিতি ছিল ৪৮১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ফলে ৩ মাসের ব্যবধানে স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১৭০ কোটি টাকা। এছাড়া এজেন্টদের মাধ্যমে এ সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্সের অর্থ বিতরণ করা হয়েছে ৮৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ৩ মাসে যা ছিল ৫৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin